President

সূর্যোদয়ের পর বৃহস্পতিবার লাখ লাখ হাজী মিনা থেকে রওনা হন আরাফাত ময়দানের দিকে। ট্রেন, বাস আর হেঁটে হাজীরা আরাফাতের ময়দানে হাজির হন।

লাখো কণ্ঠে ছিল একটাই রব- ‘আমি হাজির; হে আল্লাহ, আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই। সব সাম্রাজ্যও তোমার (লাব্বাইক, আল্লাহুমা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়ালমুল্ক লা শারিকা লাকা।’

মক্কা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দান। সেখানে হাজীদের কেউ তাঁবু টানিয়ে, কেউ বা খোলা আকাশের নিচে মাথায় ছাতা ধরে দেশ-জাতি-বর্ণ-নির্বিশেষে এক কাতারে অবস্থান নেন।

হজের অন্যতম অংশ হিসেবে এদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এ ময়দানে অবস্থান করতে হয়। মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা দেয়া হয়। হজের দিন জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়ে উঠে হাজীরা ইবাদত করেন।

এ পাহাড়ে একটি উঁচু পিলার আছে। জনশ্রুতি আছে, হজরত আদম (আ.) ও বিবি হাওয়া দীর্ঘদিন কান্নাকাটির পর এখানেই এসে মিলিত হয়েছিলেন। আর হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের দিন এই পাহাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিয়েছিলেন।

১০ জিলহজ হাজীরা যখন মুজদালিফা থেকে মিনায় ফেরেন, তখন মক্কায় স্থানীয়দের মধ্যে যারা হজ পালন করেন না, তারা ঈদের জামাতে শরিক হন। সৌদি নাগরিকরা পাঁচ বছর পরপর একবার হজ করার অনুমতি পান।

ভিড় কমানো এবং সারা বিশ্বের মুসলমানদের হজের সুযোগ করে দেয়ার জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আরাফাতের ময়দানে একাধিক রাস্তা আছে। প্রচণ্ড তাপ থেকে হাজীদের রক্ষার জন্য ময়দানে টানানো হয়েছে কয়েক হাজার তাঁবু।

ময়দানজুড়ে আছে প্রচুর নিমগাছ। স্বয়ংক্রিয় মেশিনে ছিটানো হয় প্রচুর পানি। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে থাকে কয়েক হাজার নিরাপত্তাকর্মী। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হাসপাতাল, ক্লিনিক ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, কর্মকর্তাদের প্রস্তুত রাখা হয়।

আরাফাতের ময়দানে এত আয়োজনের মূল কারণ, হজের তিনটি ফরজের মধ্যে আরাফাতে অবস্থানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আরাফাতে অবস্থান করা ছাড়া হজ পরিপূর্ণ হয় না।

খুতবা শেষে হাজীরা গতকাল আরাফাতের ময়দানে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন। বয়ান শুনে সূর্যাস্তের পর তারা মিনার পথে প্রায় আট কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বালু ও কঙ্করময় মুজদালিফা উপত্যকায় যান।

মুজদালিফায় মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করেন হাজীরা। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার করে তারা সেখানে রাত কাটান।

এখান থেকে ৭০টি করে ছোট পাথর সংগ্রহ করে সূর্যোদয়ের পর আজ শুক্রবার মিনার তাঁবুতে ফিরে যাবেন তারা। সেখানে তারা শয়তানের তিনটি প্রতীকী প্রতিকৃতিতে পাথর মারবেন। দেবেন পশু কোরবানি।

কোরবানি শেষে হাজীরা মিনা থেকে মক্কায় ফিরে কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। জমজম কূপের পানি পান করবেন। সাফা-মারওয়া পাহাড় সাতবার প্রদক্ষিণ করে মাথার চুল ছেঁটে বা মাথা মুড়িয়ে হজের অত্যাবশ্যকীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফ করার পর হাজীরা যার যার দেশে ফিরে যাবেন। হজের আগে যারা মদিনায় যাননি, তারা মদিনায় যাবেন। তবে মদিনায় যাওয়া হজের অংশ নয়।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর/আইএস

০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১১:৫০ এ.ম