President

লালমনিরহাট সদর উপজেলার রত্নাই নদের সরেয়ারতল ঘাটে একটি সেতুর অভাবে ৪৬ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ৪টি গ্রামের ১৪ হাজার মানুষ। গ্রাম ৪টি হলো উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের বনগ্রাম, বোয়ালমারী, শিবেরকুটি ও দক্ষিণ শিবেরকুটি।
এলাকাবাসী সূত্র জানায়, শিবেরকুটি গ্রামের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে রত্নাই নদ। নদের এপারে চারটি গ্রাম আর ওপারে কুলাঘাট উচ্চবিদ্যালয়, লালমনিরহাট আদর্শ ডিগ্রি কলেজ, পূর্ব সাপটানা উচ্চবিদ্যালয়, লালমনিরহাট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, লালমনিরহাট সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, লালমনিরহাট সদর, জেলা শহর। এপারের চারটি গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী ওই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে। কৃষককে উৎপাদিত ফসল নিয়ে কিংবা রোগীকে চিকিৎসার জন্য ছুটতে হয় নদের ওপারে। তাঁদের এই যাতায়াতের একমাত্র প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে রত্নাই নদ। এসব গ্রামবাসী সরেয়ারতল ঘাটে দিনের পর দিন একটি সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও এবং স্বাধীনতার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের সে দাবি পূরণ হয়নি। নদের ওই স্থানে একটি বাঁশের সাঁকোই মানুষগুলোর পারাপারের একমাত্র ভরসা।
শিবেরকুটির বাসিন্দা ও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা রশিদুল হক বলেন, ‘বাঁশের সাঁকো প্রতিদিন পারাপার হয়েই উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছি। এখন চাকরি করছি। এত দিনেও এই জায়গায় সেতু নির্মিত না হওয়া সত্যি দুঃখজনক।’
অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রমজান আলী বলেন, শিবেরকুটির সরেয়ারতল ঘাট এলাকার রত্নাই নদের দুই পাড়ে পাকা সড়ক রয়েছে। এখন শুধু একটি সেতু দরকার। তিনি বলেন, বর্ষায় নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে অথবা ছোট নৌকা বা ভেলায় ভরা নদ পারাপার হতে ভয়ে থাকতে হয়। বিশেষ করে রাতের বেলা এ নদ পার হতে সবাই আতঙ্কে থাকে, কখন কে নদে পড়ে যায়।
শিবেরকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবীর আক্ষেপ করে বলেন, সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু শিবেরকুটিবাসীর চলাচলের দুর্ভোগ আর ঘোচে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের তাঁর নির্বাচনী এলাকার মধে৵ থাকা শিবেরকুটিবাসীর যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে রত্নাই নদের ওপর সরেয়ারতল ঘাটে রাবার ড্যাম কাম ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কাছে ২০১০ সালে আবেদন (ডিও) জানান। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। বিএনপি সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থাকলেও তখনো সেতুটি নির্মাণ করা হয়নি। ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর এলাকাবাসী বর্তমান স্থানীয় (লালমনিরহাট-৩ আসন) সাংসদ আবু সালেহ মোহাম্মদ সাঈদ দুলালের কাছে সেতুটি নির্মাণের আবেদন জানান। কিন্তু তিনি এখনো সেতুটি নির্মাণ করতে পারেননি।
কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বলেন, উপজেলার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় রত্নাই নদের শিবেরকুটি সরেয়ারতল ঘাটে সেতু নির্মাণের বিষয়টি একাধিকবার উপস্থাপন করা হলেও অজ্ঞাত কারণে সেখানে আজও সেতু হয়নি। ফলে শিবেরকুটিসহ নদের এপারের ৪টি গ্রামের ১৪ হাজার মানুষকে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল আমিন খান বলেন, কুলাঘাটের শিবেরকুটিবাসীর দুর্ভোগ ঘোচাতে রত্নাই নদের ওপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ওপর মহলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, দাবিটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত। ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশনা পেলেই প্রস্তাবসহ পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাংসদ আবু সালেহ বলেন, কুলাঘাট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষর-সংবলিত আবেদনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে।

১০ এপ্রিল, ২০১৭ ১৯:৩৯ পি.এম