President

জীবনে হার না মানা যোদ্ধা এর আগেও আমরা দেখেছি দুই পা না থেকেও জাহাজে কাজ করা আব্দুল্লাহ, ফেনির অন্ধ রিক্সা চালক মনির আহম্মেদ, মহিলা রিক্সা চালক জেসমিন সহ আরো অনেককে ইচ্ছা শক্তি আর সৎভাবে বাঁচার লক্ষ ঠিক করতে পারলে জীবন যুদ্ধে সব কিছুই করা সম্ভব তা আরেকবার প্রমাণ করলেন জীবনে হার না মানা রিক্সা চালক মোহাম্মাদ রাসেল।

পাঁচ-ছয় বছর বয়সে রোড এক্সিডেন্টে তার মূল্যবান ডান পাটি হারাতে হয়েছিল। রাজধানীর যখন যে রাস্তায় সুবিধা পান তখন সে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন জীবনের তাগিদে রিক্সা নিয়ে। গত পাঁচ বছর আগে সে মানুষের ধারে ধারে হাত পেতে চলার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তার কাছে একসময় নাকি মনে হয়েছিল পৃথিবীর সব থেকে ঘৃণার কাজ হল মানুষের কাছে হাত পাতা। কিন্তু তার একটা পা নিয়তি কেড়ে নিয়েছে এই করণে কেউ কাজ দিতে চায়না তাকে। একটা সময় মনের শক্তি নিয়ে চিন্তা করলেন তিনি রিক্সা চালিয়ে খাবেন। রিক্সার এক প্যাডেলের সাথে স্যান্ডেল বেঁধে তাতে পা সেট করে পা উঠা নামা করে প্যাডেল মারতে মারতে যাত্রীদের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যান তিনি। শুরু হয় তার এই জীবন যুদ্ধ।

যাত্রীদের সাথে কিছু অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি, অনেক যাত্রী রিক্সায় উঠে খেয়াল করে তার একটি পা নেই অনেকেরই এই কষ্ট দেখে অনেক দুঃখ প্রকাশ করে আবার কেউ কেউ ভাড়া দিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় না যেতেই নেমে যান। জীবন যুদ্ধে বাম পায়ের উপর নির্ভরশীল এই যোদ্ধা গত ৫টি বছর রিক্সা চালিয়ে তার মা, স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করছেন।

এক পা দিয়ে বেশিক্ষণ রিক্সা চালাতে পারেন না বলে দিনে আয় হয় ২০০-২৫০ টাকার মত, এর মধ্যে ১০০ টাকা জমা দিতে হয় রিক্সা মালিককে। বাকী ১০০-১৫০টাকা দিয়েই কোনরকম দিন কেটে যায় তার। জিজ্ঞাসা করা হল আপনি কি কারো কাছে কিছু চাইতে চান যেটা দিয়ে আপনি কিছু করতে পারবেন, তার সহজ উত্তর, কার কাছে চাইতে যাব আমার কারো কাছে হাত পাততে আর ভাল লাগে না। তবে নিজের একটা রিক্সা থাকলে আরেকটু ভালো চলতে পারতাম। কিন্তু আমার রিক্সা কেনার সামর্থ নাই।

তার জন্ম শেরপুর জেলায়। বর্তমানে সেখানে ভিটামাটি বলতে কিছুই নেই তার। বাবার একমাত্র সন্তান রাসেল। তার বাবা কয়েক বছর হয় মারা গেছেন। মা, স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়েই তার পথচলা।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর/এইচ কে

২৫ আগষ্ট, ২০১৭ ০১:৫৭ এ.ম