President

শ্রীলঙ্কা যাওয়ার আগেই কাজটা সেরে গিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। কাল সারলেন মুশফিকুর রহিমও। জাতীয় দলের ওয়ানডে এবং টেস্ট অধিনায়ক দুজনই নাম লেখালেন প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জে।
জাতীয় দলে সতীর্থ হলেও ঢাকার ক্রিকেটে মাশরাফি-মুশফিকের একই দলে খেলার ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে এই প্রথম। মুশফিক এটিকে তাঁর জন্য বড় এক সুযোগ হিসেবেই দেখছেন, ‘আমার মনে হয় এই প্রথম আমরা এক দলে খেলছি। আমার জন্য অনেক বড় সুযোগ ওনার মতো একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলতে পারা। আশা করব, এটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। চেষ্টা করব ভালো কিছু করার।’
প্রিমিয়ার লিগের দলবদল হয়ে গেছে গত মাসের ১৭ ও ১৮ তারিখে। তখনই কথা ছিল জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা শ্রীলঙ্কা সফর থেকে ফিরে দলবদল করবেন। কাল দুপুরের পর লিজেন্ডস আব রূপগঞ্জ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিসিবি কার্যালয়ের সিসিডিএম কক্ষে এসে সে আনুষ্ঠানিকতা সারেন গতবার মোহামেডানে খেলা মুশফিক।
মুশফিকের স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত থাকার কথা ছিল মাশরাফিরও। শেষ পর্যন্ত আসতে না পারলেও মুশফিকের সঙ্গে একই দলে খেলার উচ্ছ্বাস তার মধ্যেও কম নেই। সেই উচ্ছ্বাস মুঠোফোনেই ধরা পড়ল, ‘লিগে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ যদিও পাব না, তবু ভালো লাগছে। জাতীয় দলে আমরা যারা একসঙ্গে খেলি তারা তো ঘরোয়া ক্রিকেটে এক দলে খেলার সুযোগ তেমন একটা পাই না। সেটা ভেবেই বেশি ভালো লাগছে।’
প্রিমিয়ার লিগ শুরু হবে ১২ এপ্রিল। আর জাতীয় দল সাসেক্সে অনুশীলন ক্যাম্প করতে যাবে ২৬ এপ্রিল। তার মানে প্রিমিয়ার লিগে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ নেই। তারপরও সবাইকে দায়িত্বটা মনে করিয়ে দিলেন মুশফিক, ‘যে কয়টা ম্যাচ খেলব, তাতেই আমাদের অবদান রাখার অনেক সুযোগ আছে। বাংলাদেশ দল এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেভাবে খেলছে, এই ধারাবাহিকতা আশা করি ঘরোয়া ক্রিকেটেও থাকবে। আমিও চেষ্টা করব পেশাদারি ধরে রেখে পারফর্ম করতে।’
জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সেটা দায়িত্বও মনে করেন মুশফিক, ‘জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের দায়িত্ব অন্যদের চেয়ে ভালো খেলা। যে টাকাটা তারা (ক্লাব) আমাদের দেয়, সেটার যেন জবাবদিহি থাকে। আমি লিগটাকে খুব সিরিয়াসলি নেই, আমার মনে হয় সবাই-ই নেয়। হয়তো সব সময় সবাই পারফর্ম করতে পারে না।’
ঘরোয়া ক্রিকেটই বলুন অথবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, নিজের সঙ্গে একটা লড়াই সব সময়ই চলে মুশফিকের। সে লড়াই নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। জাতীয় দলে নানা কারণেই সিনিয়র ক্রিকেটাররা এখন একটু চাপে আছেন। এবারের লিগে তাই লড়াইটা আরেকটু বেশিই হয়তো। প্রসঙ্গটা উঠতেই মুশফিকের মুখে হাসি এবং হাসিমুখেই বললেন, ‘১১ বছর ধরেই তো প্রমাণ করার চেষ্টা করছি। তারপরও যদি যথেষ্ট না হয় তাহলে তো খুব কঠিন...। আসলে নিজের সঙ্গে সব সময়ই যুদ্ধ করি। উন্নতির শেষ নেই। এটা ভেবে বরং ভালো লাগে যে, সবার প্রত্যাশা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। এটা চাপ নয়, অন্য রকম এক অনুপ্রেরণা।’

১০ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:১৭ এ.ম