President

গত সপ্তাহেই প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) জার্সিতে অভিষেক ঘটে নেইমারের। নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করাতেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। কিন্তু সেই ম্যাচটা ছিল প্রতিপক্ষের মাঠে। নিজেদের ঘরের মাঠের সমর্থকদের তাই পার্ক ডি প্রিন্সেসে নেইমারের খেলা দেখার যেন তর সইছিল না। অবশেষে রোববার এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দলবদলের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যোগ করা নেইমারের ম্যাচ দেখলো পিএসজির সমর্থকরা। সেই ম্যাচে নেইমার নিজের জাত চিনিয়ে দেন।

তুলনামূলক খর্ব শক্তির দল তুলুজের বিপক্ষে ম্যাচে ভক্ত-অনুরাগীদের এতটুকু হতাশ করেননি সাবেক বার্সেলোনা ও সান্তোস ফরোয়ার্ড। বরং ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের পারফরম্যান্সে এদিন মুগ্ধ-বিমোহিত হয়েছেন গ্যালারির সমর্থকরা! নিজে দুটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেনও। শেষ পর্যন্ত পিএসজিও পেয়েছে বড় জয়। উনাই এমেরির দল এদিন ৬-২ গোলে রীতিমতো উড়িয়েই দিয়েছে তুলুজকে।

অথচ ম্যাচ শুরুর ১৮ মিনিটেই ম্যাক্স গ্র্যাডেলের গোলে এগিয়ে যায় তুলুজ। পার্ক ডি প্রিন্সেস তখন স্তব্ধ! বড় আশা নিয়ে নেইমারের অভিষেক দেখতে আসা পিএসজির সমর্থকরাও তখন চরম হতাশ। তবে দেরি করলেন না নেইমার। ৩১ মিনিটেই দারুণ এক গোল করলেন তিনি। সমতায় ফেরা পিএসজির সমর্থকদের উচ্ছ্বাস তখন কে দেখে?

আদ্রিয়েন রাবিওট, এডিনসন কাভানির গোলে ম্যাচের ৭৫ মিনিটেই ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। কিন্তু ৭৮ মিনিটে থিয়াগো সিলভা ভুল করে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন। এরপর ৮২ ও ৮৪ মিনিটে আরও দুটি গোল করে পিএসজি। গোলদাতা যথাক্রমে জাভিয়ের পাস্তোর এবং লাইভিন কুরযাওয়া।


কিন্তু শেষ ঝলকটা যেন তখনও বাকি! অতিরিক্ত সময়ের ৯০+২ মিনিটে পিএসজির হয়ে আরও একটি গোল করেন নেইমার। ৬৯ মিনিটে দুই হলুদ কার্ড দেখে মার্কো ভেরাত্তি মাঠ ছাড়লেও দশ জনের দলে পরিণত হওয়া পিএসজির ম্যাচ শেষে জয়ের ব্যবধানটা দাঁড়ায় ৬-২। তুলুজের বিপক্ষে এমন বড় জয়ের পার্থক্যটা কিন্তু গড়ে দিয়েছেন নেইমারই।

ম্যাচ শুরুর আগেই বার্সেলোনায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। রেখে আসা প্রিয় শহরকে মনে করতে গিয়ে এদিন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নেইমার। চোখের কোনে বেয়ে আসা জল মুছতে দেখা যায় সাবেক বার্সেলোনার এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারকে।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর/এইচ কে

২১ আগষ্ট, ২০১৭ ১৬:৩৮ পি.এম