President

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ২০ দলীয় জোট। সোমবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ ঘোষণা দেন জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'শত প্রতিকূলতার মধ্যে খালেদা জিয়ার এই কারাবাসের বিরুদ্ধে আপনাদের যে ক্ষোভ, আপনাদের যে হতাশা, যে ভালোবাসা আপনারা প্রকাশ করেছেন তা অব্যাহত রাখতে হবে। নিরাশ হওয়া যাবে না। আজকে এই মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে খালেদা জিয়া এদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তাকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দিয়েছে। আমরা স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, দেশনেত্রীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।'

কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির দ্বিতীয় দফায় ঘোষিত ৩ দিনের কর্মসূচির প্রথম দিনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন বিএনপি ও জোটের শরিক দলের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টার অনশন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, অনশন কর্মসূচি পালনে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণ বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সেখানে অনুমতি না পেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেখানেও বাধার সৃষ্টি হলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হবে।

এদিকে, বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই জাতীয় প্রেস ক্লাব কেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। সাদা পোশাকের পুলিশি তৎপরতাও ছিল উল্লেখযোগ্য। রাখা হয় জলকামানের গাড়িসহ কয়েকটি মাইক্রোবাস।

কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল ১০টা থেকেই নেতাকর্মীরা প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন। সেই সঙ্গে আসতে শুরু করেন ২০ দলীয় জোটের নেতারাও। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তা পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্লাকার্ড, ব্যানার নিয়ে রাস্তায় দুই-তিন সারি করে মানববন্ধনের জন্য দাঁড়িয়ে যান। তোপখানার মোড় থেকে হাইকোর্টের কদম ফোয়ারা পর্যন্ত পুরো এলাকায় হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকরা এই মানববন্ধনে অংশ নেয়। এসময়ে নেতাকর্মীরা 'খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, মুক্তি চাই', 'খালেদা জিয়ার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে' ইত্যাদি স্লোগান দেন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কৃষিবিদসহ বিভিন্ন পেশা-শ্রেণির নেতা-কর্মীরা মানববন্ধনে সমবেত হয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। এ কর্মসূচিতে ব্যাপক সংখ্যক নারী কর্মী-সমর্থকরাও অংশ নেন। এসময় ভিড়ের কারণে সিনিয়র নেতারা রাস্তায় অবস্থানের সুযোগ না পেয়ে প্রেস ক্লাব ঘেঁষা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে যান।

সকাল ১১টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার আগে বলে গেছেন, আপনাদের ধৈর্য ধরতে, শান্ত হতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে। এই কর্মসূচি তাকে কারামুক্ত করবার জন্য, এই কর্মসূচি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য। এই মুহূর্তে বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, তার মুক্তি চাই।'

মানববন্ধনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ ফুটপাতে দাঁড়িয়ে মাইক ছাড়াই বক্তব্য রাখেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আগামী জাতীয় নির্বাচন দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়েই হবে। তাকে ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। আমরা চাই, সহায়ক সরকার, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।' তাই শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার বন্ধ করতে সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, 'খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। এটা দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে, সকল নেতার সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'চার দিন ধরে ডিভিশন না দিয়ে সরকার দেশের সব থেকে জনপ্রিয় নেত্রীকে একজন অর্ডিনারি প্রিজনার হিসেবে কষ্ট দিয়েছে। সরকার জেল কোড ভঙ্গ করেছে।' সরকারের এহেন কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান খন্দকার মোশাররফ।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, 'যত ষড়যন্ত্র হোক, স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশে নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচন খালেদা জিয়াকে নিয়েই হবে। তাকে ছাড়া কেউ নির্বাচন চিন্তা করলে সেটা হবে দুঃস্বপ্ন।'

মানববন্ধন কর্মসূচিতে জোটের শরিক রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ দলীয় ব্যানারে 'খালেদা জিয়ার মুক্তি'র দাবি সম্বলিত ব্যানার নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ান। তবে শরিক জামায়াতের কোনো ব্যানার এ সময় দেখা যায়নি। তাদের কোন নেতা-কর্মীকেও আলাদাভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

এই মানববন্ধনে বিএনপি নেতা কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, মাহমুদুল হাসান, মিজানুর রহমান মিনু, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নাল আবেদিন, ভিপি জয়নাল, জয়নুল আবদিন ফারুক, গোলাম আকবর খন্দকার, হাবিবুর রহমান হাবিব, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাখাওয়াত হোসেন জীবন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, শিরিন সুলতানা, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, আমিরুল ইসলাম আলিম, শামীমুর রহমান শামীম, নিলোফার চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আখতার, রাশেদা বেগম হীরা, আবদুল আউয়াল খান, কাদের গনি চৌধুরী, তাবিথ আউয়াল, বেবী নাজনীন, নেওয়াজ, হালিমা আরজু, অপর্না রায়, নিপুন রায় চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

মহানগরের কাজী আবদুল বাশার, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, আহসানউল্লাহ হাসান, তানভীর আহমেদ রবিন, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, জাসাসের অধ্যাপক মামুন আহমেদ, শায়রুল কবির খান, শাহিনুল ইসলাম শায়লা, ছাত্রদলের মামুনুর রশীদ, আসাদুজ্জামান আসাদ, আলমগীর হাসান সোহান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, নাজমুল হাসান, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, ওলামা দলের এম এ মালেক, শাহ নেসারুল হক প্রমুখ নেতৃবৃন্দও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'সাদা দলের' আহ্বায়ক ড. মো. আখতার হোসেন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রশিদ ও অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের নেতৃত্বে ড. সদরুল আমিন, ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, লুৎফর রহমানসহ শতাধিক শিক্ষক নেতা মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেন।

২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, লেবার পার্টির একাংশের মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, অপর অংশের হামদুল্লাহ মেহেদি, এলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, জাগপা'র খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা, জমিয়তে উলামা ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, এনপিপি'র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিপি'র গোলাম মূর্তজা, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডিএল'র সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ নেতৃবৃন্দ মানববন্ধনে অংশ নেন।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ২২:৫৬ পি.এম