President

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল এখন আগের চাইতে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার রাতে দলটির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। সন্ধ্যা ৭টায় বৈঠকটি শুরু হয়ে চলে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের নেতারা।

মির্জা ফখরুল বলেন, লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান টেলিফোনে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণামূলক। এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনের নির্বাচনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘এই সরকার অবৈধ সরকার। একদলীয় স্বৈরাচারী কায়দায় তারা দেশ চালাচ্ছে। বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে একতরফা নির্বাচন করে আবারো ক্ষমতায় আসার জন্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলায় আমাদের চেয়ারপারসনকে দণ্ড দিয়েছে। কারাগারে তাঁকে অমানবিক পর্যায়ে রাখা হয়েছে।’ বিএনপির চেয়ারপারসনকে পুরোনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত ও স্যাঁতস্যাঁতে কক্ষে একাকি রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত গৃহকর্মী ফাতেমাকেও তাঁর সঙ্গে থাকতে দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

ফখরুল অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়া যে ঘরটিতে আছেন সেটি নড়বড়ে ও ব্রিটিশ আমলে তৈরি হওয়ায় বহু পুরোনো। তিনি অসুস্থ হওয়ার পরও তাঁকে ওষুধ দেওয়া হয়নি, তাঁর চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাও করা হয়নি।

বিএনপির মহাসচিব জানান, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ সাড়ে তিন হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজকের বৈঠকে নেতারা তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের নামে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

বিএনপির চেয়ারপারসনকে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদ করায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান দলটির এই নেতা। আন্দোলন করতে গিয়ে যাঁরা গ্রেপ্তার বা আহত হয়েছেন তাঁদের জন্য সহানুভূতি জানান তিনি। সেইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

রায় ঘোষণার পর পরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এঁদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ২৩:৩৬ পি.এম