President

নতুন যারা লেখালেখি করছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ফরিদা ফারহানা । টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরে জন্ম নেয়া ফারহানার শিক্ষাজীবন শুরু হয় অরণখোলা গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি পড়াশোনা করেছেন রামজীবন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ও মধুপুর কলেজে। এখন পড়ছেন ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে। পাশাপাশি চাকরি করছেন স্কয়ার হাসপাতালে।

স্কুল জীবন থেকেই ফারহানা ছড়া কবিতাসহ বিভিন্ন সাহিত্যকর্মে আগ্রহী হয়ে উঠেন। ফারহানার লেখা প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় `মজলুমের কন্ঠ’ নামে টাঙ্গাইলের স্থানীয় এক পত্রিকায়।

ছোটবেলা থেকেই ফারহানা বিভিন্ন সামাজিক কাজে বাবা ফরহাদ হোসেন আর মা সুফিয়া বেগমের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। যা তাকে লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজে জুগিয়েছে আত্মবিশ্বাস।

ফাহানার প্রথম কবিতার বই `স্বপ্ন ও ভালোবাসা’ প্রকাশিত হয় ২০১০ সালের একুশে বইমেলায়। বইটির জন্য পাবলিক লাইব্রেরী, ঢাকা ফারহানাকে বাংলা সাহিত্যে রকি পুরষ্কার প্রদান করে। ২০১৩ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় বই `আকাশী রঙের মন’।
২০১৬ যৌথ ভাবে দুইটা কবিতার বই এসেছে..নন্দিতা প্রকাশনা থেকে শামিম পারভেজের সাথে আর নব যুগ থেকে বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ সাথে "অ্যালকেমি"

২০১৮ অমর একুশে বই মেলায় আসছে ফরিদ আহমেদ সাথে নব যুগ প্রকাশনী থেকে" সিক্ত রসায়নে দোহ"

কবিতা লেখার পাশাপাশি ২০০২ সাল থেকে তিনি নিয়মিতভাবে গান লিখতে শুরু করেন। গীতিকবি হিসাবে তালিকাভূক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনে। ফারহানার লেখা প্রথম গান ‘মেঘে ঢাকা রোদ্দুর ছুঁয়ে যায় সমুদ্দুর’- এর কন্ঠ দেন আরশী জোয়ারদার। গানটির সংগীত পরিচালনায় ছিলেন বেলাল খান। দ্বিতীয় গান ‘ঘুমহীন রাত’র সংগীত পরিচালনা করেন প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ, কন্ঠ দেন শিরিন মুন্নী। এ দুটো গান ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি গান লিখেছেন তিনি। যেগুলোতে কন্ঠ দিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা রাফাত,প্রতিক হাসান,রুপম ইসলাম ছাড়া আরও অনেকে..

সর্বশেষ আসিফ আকবর ও পলির জন্য গান লিখেন তিনি। ‘প্রেমের গল্প’ শিরোনামে গানটির সংগীত পরিচালনায় ছিলেন ফরিদ আহমেদ। নভেম্বরের প্রথম দিকে ইউটিউবে মুক্তি দেয়া এই গানটির মিউজিক ভিডিও এখন পর্যন্ত প্রায় ২৩ লাখ দর্শক দেখেছেন। অ্যালবামের জন্য গান লেখা ছাড়াও বেশ ক’টি নাটক ও টিভি অনুষ্ঠানের থিম সং লিখেছেন ফারহানা।

শুধু একজন সফল কবি ও গীতিকবি নয়, সমাজকর্মী হিসাবেও ফরিদা ফারহানার রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। নিজ এলাকায় ‘আলোকিত মধুপুর’ নামে একটি আর্থ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন। সম্প্রতি তিনি ‘রেশ ফাউন্ডেশন’ নামে একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সংস্থার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন যার সভাপতি দেশবরেন্য কন্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। এই সংগঠন দেশের সংস্কৃতি সেবা, শিল্পীদের চিকিৎসা ও উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের চিকিৎসা ও মৌলিক সমস্যার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

ফরিদা ফারহানা একজন আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চান। এগিয়ে যেতে চান সামনের দিকে।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:৩২ এ.ম