President

ভোলার ভেদুরিয়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাপেপ। শনিবার সকালে গ্যাস উপস্থিতির নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা (ডিএসটি) শুরুর পর দুপুরে পরীক্ষামূলক গ্যাস তোলা শুরু হয়। এর পরই বাপেপ এটিকে নতুন গ্যাসক্ষেত্র বলে ঘোষণা করে। এটি হবে দেশের ২৭তম গ্যাসক্ষেত্র। এখান থেকে বরিশাল ও খুলনায় গ্যাস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ভোলায় শাহবাজপুর এবং ভেদুরিয়া মিলিয়ে মজুদ গ্যাসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)।

গ্যাসক্ষেত্রটির আনুষ্ঠানিক কোনো নামকরণ করা হয়নি। তবে খননকৃকত কূপটির নাম ভোলা উত্তর-১। নতুন এই গ্যাসক্ষেত্রটি ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৫ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা বৈঠকে ভোলায় গ্যাস পাওয়ার কথা জানান।

বাপেপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী নওশাদ ইসলাম শনিবার বিকেলে জানান, এই কূপে তিনটি 'স্যান্ড লেয়ার' পেয়েছেন। শনিবার সবচেয়ে নিচের লেয়ারটির ডিএসটি শুরু হয়েছে। এই স্তরটি মাটির তিন হাজার ৩৪৮ ফুট নিচে। ১২ মিটারের এই স্তর থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস তোলা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কূপের ওপর (ওয়েলহেড) চাপ আছে তিন হাজার ৭০০ পিএসআই এবং নিচে চাপ আছে ৪ হাজার ৮০০ পিএসআই। এই একটি কূপের ভিত্তিতে তারা ধারণা করছেন, এখানে ৬০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রয়েছে। ডিএসটি শেষে পূর্ণাঙ্গ তথ্য বলা সম্ভব হবে। এ জন্য আরও আট/দশ দিন সময় লাগবে। এই কূপ থেকে দিনে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নওশাদ ইসলাম।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, তারা এখন বরিশালে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা করছেন। এর পর সেখান থেকে খুলনা পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে পাইপলাইন নির্মাণ বিষয়ে সংশ্নিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংশ্নিষ্ট এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, বরিশালে ভোলার গ্যাস দিতে হলে অন্তত ৩৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করতে হবে। আর খুলনা পর্যন্ত গ্যাস দিতে হলে দরকার হবে আরও ২০০ কিলোমিটার পাইপলাইন। এর মধ্যে কয়েকটি নদীও রয়েছে।

গত ৯ ডিসেম্বর ভোলা উত্তর-১ নামের কূপটি খননের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জ্বালানি সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।

ভোলার শাহবাজপুর ক্ষেত্রে প্রায় এক টিসিএফ গ্যাস মজুদ রয়েছে। নতুন ক্ষেত্রটিসহ মজুদ দাঁড়াল ১ দশমিক ৫ টিসিএফে। তবে শাহবাজপুর ও ভেদুরিয়াতে আরও নতুন কূপ খনন করবে বাপেপ। এতে গ্যাসের মজুদ বৃদ্ধি পেতে পারে। ভোলাতে সরকার কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। এর বাইরে বরিশাল ও খুলনার শিল্পে গ্যাসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা হয়ে গ্যাস পাইপলাইন খুলনাতে পৌঁছেছে। তবে এই পাইপলাইন দিয়ে এখনও গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়নি। খুলনাতে এর আগে ডুয়েল ফুয়েল (দ্বৈত জ্বালানি) বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও সেই কেন্দ্রটি ডিজেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ভোলার গ্যাস খুলনা পর্যন্ত আনা সম্ভব হলে সেখানে অনেক কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পের প্রসারও হবে।
ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রটি বেঙ্গল বেসিনভুক্ত এলাকায়। সেখানে যে ভূকাঠামোয় গ্যাস পাওয়া গেছে, তার ভূতাত্ত্বিক নাম 'স্টেটিগ্রাফিক স্ট্রাকচার'। দেশের অন্যান্য গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছে সুরমা বেসিনে। এই বেসিনের ভূকাঠামোর ভূতাত্ত্বিক নাম 'অ্যান্টি ক্লেইন স্ট্রাকচার'। ভোলায় গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কারের জন্য প্রথমে দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ করা হয় ১৯৮৬-৮৭ সালে। তাতে গ্যাসের অবস্থান চিহ্নিত করার পর প্রথম অনুসন্ধান কূপটি খনন করা হয় ১৯৯৪ সালে। এর পর আরও তিনটি কূপ খনন করা হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় ২০০৯ সালে। সেখানকার দুটি কূপ থেকে প্রতিদিন ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে, যা দিয়ে ভোলায় ২২৫ মেগাওয়াট ও ৩৪ মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চলছে। গ্যাসভিত্তিক ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

২৭ জানুয়ারী, ২০১৮ ২২:২০ পি.এম