President

বছরে একজন মানুষের কম পক্ষে আধা থেকে এক কেজি করে ওজন বাড়ে। যদিও মনে হচ্ছে এই পরিমান খুবই কম কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে এটা সাড়ে চার থেকে ৯ কেজি বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যয়াম ওজন কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু অনেকের আবার এসব করা সত্ত্বেও ওজন বেড়ে যায়। এর কয়েকটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।

আজকের পৃথিবীতে সবাই যারা যার কাজে ব্যস্ত। একারণে অনেকে খাবারটাও অতি দ্রুত খায়। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, তাড়াহুড়া করে খাবার খেলে ওজন বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা তাড়াহুড়া করে খায় তাদের মধ্যে মোটা হওয়ার প্রবণতা বেশি। দ্রুত খাবার খেলে পেট ভরে গেলেও মস্তিষ্ক শরীরকে সংকেত দিতে পারে না। একারণে ওজন কমাতে হলে খাবার ভাল করে চিবিয়ে ধীরে ধীরে খেতে হবে।

পর্যাপ্ত পানি পান না করলে পিপাসা লাগে। আর পিপাসা পেলে বারবার খাবার খেতে ইচ্ছে হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালের নাস্তার আগে অন্তত দুই কাপ পানি পান করেন তারা অন্যদের চাইতে কমপক্ষে ২২ শতাংশ পরিমান কম ক্যালরির খাবার খান। পানিতে কোন ক্যালরি থাকে না। যদি খালি পেটে খালি পানি পান করতে কষ্ট হয় তাহলে পানির সঙ্গে শসা, লেবু অথবা অন্য কোন ফল যোগ করতে পারেন।

বেশি বেশি সামাজিক হওয়াটাও বিপদজনক। কারণে বেশি সামাজিক হলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে হয়। আর সেইসব অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের ওজনসমৃদ্ধ খাবার, অ্যালকোহল থাকে। এসব নিয়মিত খেলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

একটানা অনেকক্ষন বসে থাকলেও ওজন বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘক্ষন বসে কাজ করেন তাদের মধ্যে মোটা হওবার প্রবণতা বাড়ে। সেই সঙ্গে নানা ধরনের অসংক্রামক রোগের সম্ভাবনা এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ঘুম পর্যাপ্ত না হলেও ওজন বাড়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা গড়ে ৫ ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের মধ্যে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।যারা বিশ্রাম নেওয়ার একদম সময় পান না তারাও মোটা হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।

টেলিভিশন দেখতে দেখতে, ইন্টারনেট ব্রাউজিং করতে করতে কিংবা নিউজপেপার পড়তে পড়তে অনেকে খাবার খান। মনোযোগ দিয়ে খাবার না খেলে বেশি খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে মোটা হোয়ার আশঙ্কাও থাকে।

প্রোটিন, ফাইবারযুক্ত খাবার পর্যাপ্ত পরিমানে না খেলেও ওজন বাড়ে।

অনেকে আছেন দুই,তিনতলা ওঠতেও সিড়ির পরিবর্তে লিফট ব্যবহার করেন। এ ধরনের প্রবণতা ওজন বাড়াতে সাহ্যা করে।

বেশিমাত্রায় ফাষ্টফুড খেলে ওজন বাড়ে। আবার বেশি পরিমাণে দুধ দিয়ে তৈরি কফিও ওজন বাড়ায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে , যারা অনিয়মিতভাবে খাবার খায় তাদের মধ্যে মোটা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনিয়মিত সময়ে খাবার খেলে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। এজন্য প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া উচিত।

সূত্র : হেলথলাইন

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

২০ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৩:২৮ পি.এম