President

নারায়ণগঞ্জ নগরীতে ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার শামীম ওসমান এমপি ও মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নিয়াজুল ইসলাম নামে একজনকে পিস্তল হাতে গুলি চালাতে দেখা গেছে। সাংবাদিকদের ক্যামেরায় এই দৃশ্য ধরাও পড়েছে। মেয়র আইভী দাবি করেছেন, হামলাকারী নিয়াজুল নগর যুবলীগের নেতা ও শামীম ওসমানের সমর্থক। তবে শামীম ওসমান দাবি করেছেন, ‘নিয়াজ বিশাল মার্কেটের মালিক, তিনি নিশ্চয়ই পিস্তল হাতে রাস্তায় নামবেন না।’


একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে শামীম ওসমান বলেন, ‘নিয়াজুল আমার পরিচিত। তিনি বিশাল বড় মার্কেটের মালিক। সে সুইটের ভাই যাকে বিএনপির সময় ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছিল। এটা কি তার দোষ? বিশাল কোনও মার্কেটের মালিক নিশ্চয় পিস্তল হাতে রাস্তায় নামবে না!’ শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘নিয়াজুল যুবলীগের নেতা। তার হাতে পিস্তল দেখা গেলেও পরীক্ষা করা হোক এই পিস্তল থেকে গুলি করা হয়েছে কিনা।’

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বিকালে মেয়র আইভী পায়ে হেঁটে সায়েম প্লাজার সামনে এলে শামীম ওসমানের সমর্থক ও হকাররা তাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় নিয়াজুল ইসলাম মেয়র আইভী ও তার লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে আইভীকে রক্ষা করেন। পরে লোকজন নিয়াজুলকে ধরে গণপিটুনিও দেয়।

পরে বিকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শামীম ওসমানের নির্দেশে তার ক্যাডাররা আমার ওপর এবং নিরীহ নগরবাসীর ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমিসহ নারায়ণগঞ্জের যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আমি নগর ভবন থেকে পায়ে হেঁটে চাষাঢ়া আসছিলাম প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন সম্পর্কে হকারদের সঙ্গে কথা বলতে। ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার জন্য নির্দেশ ও হকারদের বসানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার বিষয়ে কথা বলতে। কিন্তু শামীম ওসমানের নির্দেশে তার সমর্থকরা কোনও কারণ ছাড়াই আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। জেলার ডিসি ও এসপির নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে আমার লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রত্যাহারের দাবি জানাই।’

এদিকে ঘটনার সময় চাষাঢ়ায় বঙ্গবন্ধু সড়কে হ্যান্ড মাইকে শামীম ওসমান বলেন, ‘কেউ কেউ চাচ্ছে গণ্ডগোল করে পরিস্থিতি অশান্ত করতে। এটা কোনও রাজনৈতিক সংগ্রাম না। হকাররা চেয়েছে ফুটপাতে বসতে। যারা নিরীহ হকারদের রক্ত ঝড়িয়েছে তাদের বিচার আল্লাহ করবে। নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করতে দেওয়া হবে না।’

এ ঘটনার বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুইপক্ষ মুখোমুখি ছিল। দুপুর থেকে আমরা বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করেছিলাম। দুই পক্ষের উচ্ছৃঙ্খল কিছু লোক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পুলিশ দু’পক্ষকে নিবৃত্ত করেছে। আমরা চেষ্টা করেছি জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে, দু’পক্ষকে শান্ত রাখতে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শর্টগান ও টিয়ারশেলের গুলি নিক্ষেপ করেছি। তবে আমরা সেগুলোর হিসাব করিনি।

মেয়রের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি কী অভিযোগ করেছেন তা আমরা জানি না। তবে আমরা পরবর্তীতে খোঁজ খবর নেবো।’সূত্র- বাংলা ট্রিবিউন


টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

১৭ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:৪৩ এ.ম