President

মধু প্রথমত কিছু রোগের জন্য উপকারী। কেননা, এর মধ্যে রয়েছে ফুল ও ফলের রস এবং উন্নত পর্যায়ের গ্লুকোজ। এ ছাড়া মধুর একটা বৈশিষ্ট হচ্ছে, তা নিজে কখনো পচে না এবং অন্য জিনিসকেও দীর্ঘদিন পর্যন্ত পচন থেকে সংরক্ষিত রাখে। এজন্য বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা এবং সংরক্ষণের জন্য মধুর সাহায্য গ্রহণ করার মতো যোগ্যতা তার মধ্যে সৃষ্টি হয়ে যায়। এ জন্যই ঔষধ তৈরির প্রক্রিয়ায় শত শত বছর থেকে মধুর ব্যবহার চলে আসছে।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক এ মর্মে ইরশাদ করেছেন, আর দেখো তোমার রব মৌমাছিদেরকে একথা অহীর মাধ্যমে বলে দিয়েছেন- তোমরা পাহাড়-পর্বত, গাছপালা ও মাচার ওপর ছড়ানো লতাগুলোতে নিজেদের চাক নির্মাণ কর। তারপর সব রকমের ফলের রস চোষো এবং নিজের রবের তৈরি করা পথে চলতে থাকো। এ মাছির ভেতর থেকে একটি বিচিত্র রংয়ের শরবত বের হয়, যার মধ্যে মানুষের জন্য নিরাময় রয়েছে। অবশ্য এর মধ্যেও একটি নিশান রয়েছে তাদের জন্য যারা চিন্তা-ভাবনা করে। (সূরা-আন নাহর, আয়াত-৬৮-৬৯)

অহীর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, এমন সূক্ষ্ম ও গোপন ইশারা, যা ইশারাকারী ও ইশারা গ্রহণকারী ছাড়া তৃতীয় কেউ টের পায় না। এ সম্পর্কের ভিত্তিতে এ শব্দটি ইলকা (মনের মধ্যে কোন কথা নিক্ষেপ করা) ও ইলহাম (গোপন শিক্ষা ও উপদেশ দান করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ তার সৃষ্টিকে যে শিক্ষা দান করেন তা যেহেতু কোনো বিদ্যালয়ে দেয়া হয় না বরং এমন সূক্ষ্ম পদ্ধতিতে দেয়া হয় যা বাহ্যত কাউকে শিক্ষা দিতে এবং কাউকে শিক্ষা নিতে দেখা যায় না। একেই কুরআনে অহী, ইলকা ও ইলহাম শব্দের মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয়েছে।

তাফসীরে ইবনে কাসীরে ৬৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ফল, ফুল ও মাটির ও রংয়ের বিভিন্নতার কারণেই মধু বিভিন্ন রংয়ের হয়ে থাকে। মধু সাধারণত সাদা, হলদে লাল ইত্যাদি বিভিন্ন রংয়ের হয়। মধুর দ্বারা অনেক রোগ থেকে আরোগ্য লাভ হওয়া সম্ভব। আল্লাহ্ এর দ্বারা বহু রোগ থেকে আরোগ্য দান করার কথা বলেছেন। মধু ঠান্ডা রোগের প্রতিষেধক।

হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি রাসুলকে (সা.) বলতে শুনেছেন, তোমাদের ওষুধগুলোর মধ্যে কোনগুলোতে যদি শিফা থেকে থাকে তবে সেগুলো হচ্ছে শিঙ্গা লাগানো, মধু পান করা এবং আগুনের দাগ নেয়া। (তিরমিযী-২০৩২)

এ ছাড়া হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেছেন, একজন লোক রাসুলের (সা/) কাছে এসে বলল, ‘আমার ভাইয়ের পেট ছুটে গিয়েছে। অর্থাৎ খুব পায়খানা হচ্ছে।’ তিনি বললেন, তাকে মধু পান করিয়ে দাও। সে গেল এবং তাকে মধু পান করালো। আবার সে আসল এবং বলল (এভাবে দুবার) পুনরায় এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সা)! তার পায়খানা তো আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বললেন, আল্লাহ সত্যবাদী এবং তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যাবাদী। সে গেল এবং তাকে মধু পান করাল। এবার সে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করল। (সহীহ আল-বুখারী, ৫/২৯১)

আম্মাজান হজরত আয়িশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) মিষ্টি ও মধু খুব ভালবাসতেন। (সহীহ আল বুখারী, ৫/২৯০)

মানবদেহের জন্য যত প্রকারের ভিটামিন প্রয়োজন তার শতকরা ৭৫% ভাগই মধুর মধ্যে বিদ্যমান। আর এই মধ্য তৈরি হয় মৌমাছির মাধ্যমে। সুতরাং মৌমাছিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। কারণ মৌমাছি না থাকলে বা মৌমাছির যথপোযুক্ত সংরক্ষণ না করা হলে মধ্য তৈরির প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হবে। এ ছাড়া চিকিৎসাশাস্ত্র মতে মধুর চেয়ে শক্তিশালী ভিটামিন যুক্ত কোন পদার্থ পৃথিবীতে আর সৃষ্টি হয়নি। মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বিজ্ঞানময় কুরআন ও হাদিসে রাসুলে মধুর উপকারিতার কথা বর্ণিত হয়েছে। সব পানীয়র মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হচ্ছে মধু।প্রিয় ইসলাম

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

১৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৩:০৫ পি.এম