President

সন্তানের পরীক্ষার ফল খারাপ হয়েছে। তার ওপর কোনো ঘোষণা ছাড়াই বাড়ানো হয়েছে ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন। এসব বিষয়ে জানতে স্কুলে গিয়েছিলেন আয়াত উল্লাহ। এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় স্কুলপ্রধানের। এর জেরে শিক্ষকরা মিলে তাকে হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালান। কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া কেজি অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলে রোববার সকালে ঘটে এ ঘটনা। তাকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শুরু হয় নিন্দার ঝড়। স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্যাতনের শিকার আয়াত উল্লাহর ছেলে শাহরিয়ার নাফিস আবির খরুলিয়া কেজি অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। সে প্রথম শ্রেণিতে এ প্লাস পেলেও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পায়নি। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বোরহান উদ্দিনের কাছে জানতে সকালে স্কুলে যান তিনি। এ ছাড়া পূর্বঘোষণা ছাড়া ভর্তি ও মাসিক ফি কেন বাড়ানো হয়েছে তাও জানতে চান আয়াত উল্লাহ। এ নিয়ে শিক্ষক বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় পার্শ্ববর্তী খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং স্কুল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হককে ডেকে আনেন বোরহান। পরে বোরহান ও ওই স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক মিলে আয়াত উল্লাহকে মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দেন। এক পর্যায়ে রশি দিয়ে তার হাত-পা বেঁধে ফেলেন তারা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাসেম নামে এক ব্যক্তি বলেন, মধ্যযুগীয় কায়দায় আয়াত উল্লাহকে নির্যাতন করা হলেও কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যায়নি। পরে চিৎকার শুনে পথচারীরা এসে তাকে উদ্ধার করেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে খরুলিয়া কেজি অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক বোরহান উদ্দিন বলেন, আয়াত উল্লাহ স্কুল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক ও আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। ঘটনা জেনে পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয় থেকে ছাত্ররা এসে তাকে বেঁধে মারধর করেছে।

খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক বলেন, আয়াত উল্লাহ আমাদের স্কুলের ছাত্র ছিল। বেয়াদবি করায় তাকে এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে আয়াত উল্লাহর দাবি- নির্যাতনের পর তার কাছ থেকে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে তিনি ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করেছেন বলেও জানান।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি রণজিৎ কুমার বড়ূয়া বলেন, আয়াত উল্লাহ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নোমান হোসেন বলেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করা যায় না। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

০৯ জানুয়ারী, ২০১৮ ০১:৪৫ এ.ম