President

অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলায় আপন জুয়েলার্সের তিন মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম এবং তার দুই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। সোমবার দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ সোমবার এ আদেশ দেন। এদিন হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক তিনটি লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। এর আগে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে তাদের জামিন দেওয়া হয়েছিল।

আসামীপক্ষের আইনজীবীরা জানান, এ আদেশের ফলে গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের মুক্তিতে কোনো আইনগত বাধা নেই। তবে আরও দুই মামলা থাকায় দিলদার আহমেদ আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না।

হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি আপন জুয়েলার্সের তিন মালিককে দেওয়া জামিন স্থগিত করেছিলেন। পরে ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ান আপিল বিভাগ। এরপর গত ২ জানুয়ারি ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষকে এই সময়ের মধ্যে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলা হয়। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ নিয়মিত লিভ টু আপিল করলে আজ এর ওপর শুনানি হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও শেখ ফজলে নূর তাপস।

গত বছর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। এরপর আপন জুয়েলার্সের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এক পর্যায়ে ২০১৬ সালের ৪ জুন আপন জুয়েলার্সের ডিএনসিসি মার্কেট, উত্তরা, মৌচাক, সীমান্ত স্কয়ার ও সুবাস্তু ইনম শাখা থেকে প্রায় ১৫ মণ স্বর্ণ ও ৪২৭ গ্রাম ডায়মন্ড জব্দ করা হয়। পরে দিলদার আহমেদ সেলিম, গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের বিরুদ্ধে কর মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ পৃথক ৫টি মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

এসব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিলেও আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে গত ২৪ অক্টোবর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর পৃথক পাঁচ মামলায় তিনজন হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। গত ২২ নভেম্বর হাইকোর্ট তিনজনের জামিন প্রশ্নে রুল দেন।

আইনজীবী জানান, রুলের শুনানি শেষে ১৪ ডিসেম্বর রমনা থানার এক মামলায় দিলদার হোসেন ও গুলশান থানায় করা পৃথক দুই মামলায় তার অপর দুই ভাই জামিন পান। উত্তরা ও ধানমন্ডি থানায় করা পৃথক দুই মামলায় দিলদার আহমেদের জামিন আবেদন সেদিন মুলতবি রাখা হয়েছিল।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

০৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ১২:৪৯ পি.এম