President

৫৩ তম বিশ্ব ইজতেমার দুইপর্ব সফল করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর কর্তৃক গ্রহণকৃত প্রস্তুতিসমূহ নিয়ে প্রস্তুতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তায় থাকছে ৬ হাজার পুলিশ। থাকছে র‌্যাব-পুলিশের ২৪ টি ওয়াচ টাওয়ার।
রোববার সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন টঙ্গী অঞ্চল- (জোন-১) কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল এমপি সভাপতিত্ব করেন। গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের পরিচালনায় সভায় উপস্থিত অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম.এ মান্নান, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কেএম রাহাতুল ইসলাম, জেলা সিভিল সার্জন প্রমুখ।
সভায় জানানো হয়, বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং এর জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশন, গাজীপুর জেলা প্রশাসন, র‌্যাব, পুলিশ এবং আনসার ও ভিডিপি’র কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমায় দেশি-বিদেশি মুসল্লিদের স্বাগত জানিয়ে ১৩ টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। ইজতেমা ময়দানের সার্বিক নিরাপত্তা মনিটরিং করতে র‌্যাবের জন্য ৯ টি ও পুলিশের জন্য ১৫ টি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।
ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের অজু, গোসল, পয়ঃনিষ্কাশন ও সুপেয় পানি সরবরাহের জন্যে ইজতেমা ময়দানে ১৩ টি গভীর নলকোপের মাধ্যমে প্রতিদিন ঘণ্টায় ৩ কোটি ৫৪ লাখ গ্যালন সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। চাহিতা মোতাবেক ১ শ’ ড্রাম ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হয়েছে। ইজতেমা চলাকালে প্রতিদিন ২১ টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে দিন-রাত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের জন্য ১৫৪ টি অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। আগত বিদেশি মেহমানের রান্না কাজের জন্য ১৩৬ গ্রাসের চুলা স্থাপন করা হয়েছে। যাহা সার্বক্ষণিক মনিটর করা হবে। ইজতেমা ময়দানে ২৬ টি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে চান্দনা-চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কের দুইপাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা, রাস্তার উপর পার্কিং করা গাড়ি সরানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। টঙ্গী ব্রিজ ও কামার পাড়া ব্রিজর নীচে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার জন্য বাঁশ দ্বারা ২টি নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইজতেমা উপলক্ষে ১২জানুয়ারি থেকে ২১জানুয়ারি পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে। এজন্য ৪৫টি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স ইজতেমা ময়দানে আগত মুসল্লিদের সেবায় নিয়জিত থাকবে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইজতেমার প্রথম পর্বে ইজতেমা ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ৬ হাজার পুলিশ সদস্য এবং দ্বিতীয় পর্বেও ৬ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। পুলিশের পক্ষ থেকে ইজতেমা ময়দানে প্রধান একটি কন্ট্রোল রুম এবং আরো ৫ টি সাব-কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে।
ইজতেমা ময়দানে ৮’শ সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে নৌ ও সড়কপথে ৫টি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইজতেমা ময়দানে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি, বোম ডিস্পোজাল ইউনিট ও সোয়াট সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।
৫৩ তম বিশ্ব ইজতেমা ২০১৮ এর দুই পর্বের প্রথম পর্ব শুরু হবে ১২জানুয়ারি এবং আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে ১৪ জানুয়ারি। মাঝখানে ৪দিন বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ১৯ জানুয়ারি এবং আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে ২১ জানুয়ারি। বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে জেলাওয়ারি মুসল্লিদের জন্য স্থান(খিত্তা)নির্দিষ্ট করা হয়েছে। প্রথম পর্বে ২৭টি খিত্তা এবং দ্বিতীয় পর্বে ২৯ টি খিত্তা স্থাপন করা হবে। প্রথম পর্বে দেশের ৩২ টি জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ গ্রহণ করবেন।
সভায় গাজীপুর জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ফায়ার অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স ইউনিট, স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রকৌশল বিভাগ ঢাকা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওয়াসা, রেলওয়ে, বিআরটিসি, টেলিফোন শিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

০৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:৪৩ এ.ম