President

ইসমাঈল সিরাজী ও সাইফুর ইসলাম শামীম, কুড়িগ্রাম থেকে: পানিবন্দী লাখো মানুষ আজ মানবেতর জীবন যাপন করছে। মহাসড়ক ও রেললাইন ডুবে যাওয়ায় দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ইতোমধ্যেই সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যার কারণে বহু মানুষ মারা যাচ্ছে। গবাদী পশু ভেসে যাচ্ছে। বন্যার পানি এখনো হুহু করে বাড়ছে। আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এই অবস্থায় উত্তরের ছয়টি জেলায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বন্যার্তদের সহযোগিতায় কাজ করছেন সেনা সদস্যরা।

কুড়িগ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে পাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে সংকটময় করে তুলেছে। বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টিম বন্যা কবলিত এলাকায় রয়েছে।

কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে কাঁঠালবাড়ি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে বুধবার সকালে ত্রাণ বিতরণ করেন সেনা সদস্যরা। সকালে বন্যা দুর্গত প্রায় ৫০০জন মানুষের মাঝে খিচুরি বিতরণ করেছে।

এছাড়াও বন্যার কারণে বিশুদ্ধ পানি সঙ্কট থাকায় দেখা দিয়েছে পানিবাহী রোগ সংক্রামণ। ফ্রি মেডিক্যাল টিমের মাধ্যমে রোগে আক্রান্ত মানুষদের চিকিৎসা ও ফ্রি ঔষধ বিরতণ করেন সেনা সদস্যরা।

কুড়িগ্রামের সর্বত্র চলছে ত্রাণের জন্য হাহাকার। ত্রাণবাহী নৌকা গেলে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন বানভাসি মানুষ। কোনো কোনো এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। এমতবস্থায় সেনাবাহিনী কার্যক্রমে আশার আলো দেখছেন বন্যায় সব হারানো লাখো মানুষ।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/আইএস/এস আর/কে আই

১৬ আগষ্ট, ২০১৭ ১০:৩৬ এ.ম