President

বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি জনাব আতিকুল ইসলাম একজন সৃষ্টিশীল ও চ্যালেঞ্জিং ব্যক্তিত্বের নাম। যে কোন প্রতিকুল পরিস্থিতি সমাধানে সক্ষম এই ব্যক্তি ইতিহাসের পেছনে ছুটা নয় বরং ইতিহাস সৃষ্টি করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য ও ব্রত, প্রগতির পথে নতুন নতুন ধারণা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কোন সামাজিক পরিসীমার উন্নয়নই তাঁর নেশা।

সম্ভ্রান্ত ও মেধাবী পরিবারে জন্ম নেয়া প্রচার বিমুখ, সফল শিল্পোদ্যোক্তা জনাব আতিকুল ইসলাম তাঁর মেধা আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তাঁর বড় ভাই ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শফিকুল ইসলামের সাথে গড়ে তুলেছেল স্বনামধন্য ইসলাম গার্মেন্টস গ্রুপ। কর্ম সংস্থান সৃষ্টি করেছেন ১৫০০০ শ্রমিকের। প্রতিষ্ঠা করেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সফলতার সাথে পরিচালনার জন্য তিনি পুরস্কৃতও হয়েছেন বারবার। তার বড় ভাই জনাব তোফাজ্জল ইসলাম অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সহিত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন, আর এক ভাই জনাব মইনুল ইসলাম চীফ অব জেনারেল স্টাফ হিসাবে কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

মার্চ ২০১৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত তিনি বিজিএমই এর সভাপতি থাকাকালে আমি তাঁর বহু সৃষ্টিশীল কাজের প্রত্যক্ষদর্শী। ব্যবসায়ী সমাজের মধ্য মণি বিজিএমইএ এর সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কর্ম দিবসেই আমাদেরকে চমক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। ঐ দিন বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচী থাকায় ভোর পাঁচ টায় উনি অফিসে এসেছিলেন আমাদের সকলের অজান্তে। বিজিএমই এর কর্মকর্তাবৃন্দ যথারীতি অভ্যর্থনা জানাতে গেলে কুশল বিনিময়ের পর সদা হাস্যোজ্বল সাবেক এই সভাপতি মহোদয় এত সকালে অফিসে আসার কারন ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, “ আমার সময় মাত্র দুই বছর। প্রতিটি মুহূর্ত আমি কাজে লাগাতে চাই।“ এ ঘটনা থেকে বিজিএমইএ এর কর্মকর্তা সেদিন বুঝেছিল তিনি সময়কে কতটা মূল্যায়ন করেন।

সৃষ্টিশীল এই মানুষটি তৈরী পোশাক শিল্পের উন্নয়নে নতুন নতুন ধারনা উদ্ভাবনের লক্ষে বিজিএমইএ এর কর্মকর্তা থেকে শুরু করে , সদস্য, পরিষদ, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা সমূহ সকলের নিকট থেকে অভিমত সংগ্রহ করে সার সংক্ষেপ তৈরী ও কর্ম পরিকল্পনা তৈরী করে তা বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

অত্যন্ত দুংখের বিষয়, ওনার দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক এক মাসের মাথায় বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহতম এবং অধিক সংখ্যক প্রাণহানির দুর্ঘটনা ঘটে। পাঁচটি পোশাক কারখানা পরিচালনকৃত ৯ তলা “রানা প্লাজা” ভবনের আকস্মিক ধ্বসে ঘটনা স্হলেই ১১৩৬ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক অকাল মৃত্যু ঘটে আহত হয় কয়েক হাজার। সাভারের সেই মৃত্যুপুরি রানা প্লাজার সজন হারানোর আহাজারি কাদিয়েছে সারা বাংলাদেশকে, স্তব্ধ হয়েছিল বিশ্ব বিবেক, হতবাক করে দিয়েছিল তৈরী পোশাক শিল্প খাতকে। ব্যবসায়ী সহ নীতিনির্ধারক মহল সেদিন শঙ্কিত ছিল দ্রুত উদীয়মান, দেশের ৮0% বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এবং ৪0 লক্ষ শ্রমিকের কর্ম সংস্থানের পোশাক শিল্পের খাত বাংলাদেশে টিকে থাকবে কিনা। সেদিনের সেই চরম দুঃসময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহিত সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে এই শিল্পের অস্তিত্বের লড়াইয়ে নেমেছিলেন প্রচার বিমূখ নিরলস পরিশ্রমী ও মেধাবী এই মানুষটি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন এবং তৈরী পোশাক রপ্তানি কারক দেশগুলির সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে কতকগুলি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। ১ মাসের মধ্যে বিজিএম্ইএ তে ১0 জন গ্রেজুয়েট প্রকৌশলী ও ৩০ জন অগ্নি নিরাপত্তা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে সমস্ত কারখানার প্রাথমিক অবকাঠামোগত মূল্যায়ন করার উদ্যোগ গ্রহন করেন। বায়ারদের দুটি সংগঠন Accord ও Alliance এর সহযোগিতায় তৈরী পোশাক শিল্প কারখানার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করেন। অবকাঠামোগত দুর্বল ও ঝুকিপূর্ণ ভবন সমূহের স্হায়িত্ব বৃদ্বির জন্য আর্থিকভাবে অসচ্ছল মালিকদের ঋণ সুবিধার লক্ষে JICA এর নিকট থেকে নাম মাত্র সুদে (0.0১%) তাৎক্ষনিক ১00 কোটি টাকা অনুমোদনের ব্যবস্থা করেন।

তিনি তার সৃষ্টিশীল মেধা, দূরদর্শিতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের কারখানা ভবনের গুনগত মান অন্য যে কোন দেশের চেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছে। প্রমাণ করিয়েছেন রানা প্লাজা একটি বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা মাত্র তবে এই ঘটনায় জড়িত দোষী ব্যাক্তিদের চিন্হিত করে শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে যথাযথ কতৃপক্ষকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। সর্বাধিক আলোচিত মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা পরবর্তী পোশাক শিল্পের সেই সংকটাপন্ন অবস্থার শুধু উন্নয়নই করেননি বরং বিশ্বের দরবারে তার দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে RMG সেক্টরের মর্যাদা আরো সুদৃঢ় করেছেন, সুনাম বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন বহু গুন। “Apparel Summit” আয়োজনের মাধ্যমে নতুন রূপে তৈরী পোশাক শিল্পের ব্রান্ডিং পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের প্রতিটি দেশে।

শ্রমিকদের প্রতি তিনি সব সময়ই উদার, বন্ধুসুলভ এবং সহানুভুতিশীল। তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষে নির্মাণ করেছেন ঢাকা ও চট্রগ্রামে দুটি আবাসিক হাসপাতাল এবং মানসম্মত আবাসন সুবিধার্থে শ্রমিক হোষ্টেল নির্মাণের লক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থাও করেন তিনি। প্রতিটি ক্ষেত্রে সৃষ্টিশীলতার বহু উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনি রেখেছেন।

অপর দিকে, আনিসুল হক DNCC এর প্রয়াত মেয়র একজন উদ্যোগী, দৃঢ়চেতা, নির্ভিক, সাহসী মানুষ ছিলেন। DNCC কে আধুনিকায়ন করার লক্ষে কতকগুলি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সুনির্দষ্ট রোডম্যাপ তৈরী করে সফলতার সাথে সেগুলোর বাস্তবায়ন শুরু করেছিলেন। তাঁর রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য অনুরূপ একজন যোগ্য নেতৃত্ব খোঁজা হচ্ছে।

সৎ নিষ্ঠাবান, বহু সংগঠনের সফল নেতৃত্বের অধিকারি, দৃঢ়চেতা, আত্মপ্রত্যয়ী জনাব আতিকুল ইসলাম মেয়রের দায়িত্ব নিয়ে শুধুমাত্র প্রয়াত মেয়রের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করবেন তা নয় বরং তার সৃজনশীল ও গতিশীল নেতৃত্বে নতুন নতুন ধারনা তৈরী ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে যানজটমুক্ত, দুষনমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, শান্তিপ্রিয়, পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও মডেল সিটি কর্পোরেশন হিসাবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বর্তমানে বিদ্যমান সম্পদ যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে নারায়নগঞ্জ হতে ঢাকা দক্ষিন, ঢাকা উত্তর এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত দ্রুতগতির যাতায়াত ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে সক্ষম হবেন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

লেখক: প্রকৌশলী - পদ্মা সেতু প্রকল্প 

 

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

০৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৬:৫৬ পি.এম