President

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অনশনে ১৪ শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

রোববার থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন শুরু করেন শিক্ষকরা। এর আগে একই দাবিতে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

শীতের রাতেও শিক্ষকরা ফুটপাতে অবস্থান করছেন। সোমবার আন্দোলন সপ্তম দিনে গড়ালেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

দুপুরে অনশনস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অসুস্থ শিক্ষকদের জন্য দোয়া করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্নিষ্টরা যাতে শিক্ষকদের দাবির প্রতি সদয় হন সে জন্য দোয়া করেন তারা। এ সময় অনেক শিক্ষককে কাঁদতে দেখা যায়।

কর্মসূচি আহ্বানকারী সংগঠন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, 'টানা দু'দিনের অনশনে তাদের ১৪ শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে বর্তমানে ৬ জন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। কয়েকজনকে অনশনস্থলেই স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'শিক্ষক-কর্মচারীরা টানা ৭ দিন ফুটপাতে আছেন, অসুস্থ শিক্ষকদের কেউ কেউ মৃত্যুপথযাত্রী। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কেউ তাদের খোঁজ নেননি; যোগাযোগ করেননি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বরাবর তারা একটি স্মারকলিপি দিয়ে রেখেছেন।'

শিক্ষক নেতারা বলেন, 'দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, অনশনে মৃত্যুর খবর শোনার আগেই প্রধানমন্ত্রী এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেবেন।

সরকার স্বীকৃত সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার দাবিতেই শিক্ষকদের এ আন্দোলন। স্বীকৃতি পেলেও নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পান না। সারাদেশে এমন নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান আছে ৫ হাজার ২৪২টি। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৭৫ থেকে ৮০ হাজার।

অন্যদিকে বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী ৪ লাখের বেশি। সর্বশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল।

এদিকে, শিক্ষকদের কর্মসূচির সঙ্গে সোমবার সংহতি জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, জাতীয় যুব কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কস্ফাফি রতন ও রুহিন হোসেন প্রিন্স, ন্যাপের সম্পাদক পার্থ সারথী চক্রবর্তী, ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ সাঈদ প্রমুখ।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

০২ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:৫৮ এ.ম