President

পুরাতন বছরকে বিদায় জানাতে এবং ২০১৮ সালকে বরণ করতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমূদ্র সৈকত কক্সবাজারে ঢল নেমেছ পর্যটকের। আর বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে সৈকতপাড়ে অপেক্ষা করছিল লাখো পর্যটক। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কক্সবাজারে ছুটে এসেছে বিপুল পর্যটক।

কক্সবাজার শহরের রাস্তাঘাট এখন জমজমাট। হোটেল মোটেল সেজেছে বাহারি রুপে। গত শুক্রবার ভোর থেকেই পর্যটকের মিছিলের হাওয়া লেগেছে এই সমুদ্র জনপদে। শহরের পর্যটন জোনে হোটেল মোটেল ইতোমধ্যেই লাখো পর্যটক অবস্থান নিয়েছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে নেই কোনো আলাদা আয়োজন। আউটডোর উৎসবের অনুমতিও নেই। ইনডোরে তেমন প্রোগ্রাম নেই। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সূর্যাস্তের সাথে সমূদ্রে হৈ হুল্লোড় যেন না হয় সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ নিদের্শনা রয়েছে। তাতে কি? রয়েছে বিশাল সমুদ্র বালিয়াডি, নোনা জলের উত্তাল ঢেউ, থামাবে কাকে? মন তো আর মানে না। প্রকৃতির এই অপরুপ দেখতে ইতিমধ্যে কক্সবাজারে অবস্থান করছে ৫ লাখ পর্যটক। তাই কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্টরা নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরাতন বছরকে বিদায় জানাতে ইতিমধ্যে ৫ লাখ পর্যটক এসেছে। শহরের হোটেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে। কক্সবাজারে এবার শীত মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকের ঢল নামে। আগামী জানুয়ারি-ফেরুয়ারি মাসেও অনেক হোটেল-মোটেলের আগাম বুকিং হয়ে গেছে। থার্টি ফাস্ট নাইট’ উপলক্ষ্যে সব বড় হোটেলে নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে। একইভাবে আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে গোধূলী লগ্নে সমুদ্র সৈকতজুড়ে নেমেছে মানুষের কোলাহল।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার জানান, কক্সবাজারে ছোট-বড় সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসে দৈনিক প্রায়ে ৩ লাখ লোকের থাকার ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া এসবের বাইরেও দুই লাখ মানুষ এপার্টমেন্টসহ বিভিন্নভাবে কক্সবাজারে অবস্থান করেন। ইতোমধ্যেই কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলগুলোর প্রায় সব কক্ষই বুকিং হয়ে গেছে।

তথ্যমতে, ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন ব্যাপক হারে বেড়েছে। এসব পর্যটকেরা কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পর্যটকদের বড় আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। রাতের শহরে এবারও বাড়তি আনন্দ যোগ হয়েছে এই মেলা। ট্রেন-নৌকা রাইড, শিশু গেমসহ শতাধিক স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে মেলায়। দিনে পর্যটন স্পট আর রাতে ও মেলায় প্রাণচঞ্চল সময় পার করছেন পর্যটকরা।

৩১ ডিসেম্বর রোববার বিকেলে সৈকতে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের কলাতলী থেকে ডায়াবেটিক পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে মানুষ আর মানুষ। প্রতিটি পয়েন্টে হাজার হাজার পর্যটক। হোটেল মোটেল ঝকঝক করছে লাইটিংয়ের আলোতে। কেউ সঙ্গি নিয়ে হাঁটছেন, কেউবা চেয়ারে বসে খোশ গল্পে মেতেছেন। আবার কেউ কেউ শীতের মাঝেও সাগরে গোসলে মত্ত।

অনেকেই বীচ ও ওয়াটার বাইকে চড়ে উপভোগ করছেন ঢেউয়ের নাচন। বেড়াতে আসা প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আদনান তুহিন জানান, আমরা বন্ধুরা মিলে গত রাতেই এসেছি। কলাতলি কোথাও রুম খালি নেই। তাই শহরের রেনেসাঁ হোটেলে উঠেছি।

গাজীপুর কাপাসিয়া উপজেলা থেকে পরিবার নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী নুরুল কবীর। তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছি। গতবার আসার প্রস্তুতি নিয়েও কাজের জন্য আসতে পারি নাই। এবার আগেভাগেই চলে এসেছি।

কোথায় উঠেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, হোটেল লং বীচে উঠেছে। তার গত পনের দিন আগে একজন পরিচিত মানুষের মাধ্যমে রুম বুকিং দিয়েছিলাম। না হয় অনেক পেতে হতো। আগামীকাল সেন্টমার্টিন যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনেক পর্যটকের সাথে কথা হলে তারা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে কক্সবাজারে এসেছেন। এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এসেছেন। রুম পেতে অনেক কষ্ট হলেও আনন্দ কেটে যাবে তাদের কষ্টগুলো।

পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয় তুলে ধরে রবি লাইফগার্ডের ইনচার্জ সৈয়দ নুর বলেন, কলাতলী, সুগন্ধা, লাবনী বীচে পর্যাপ্ত পরিমাণ লাইফ গার্ডের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্ঘটনা উদ্ধার তৎপরতায় যাতে সমস্যা না হয় সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার অফিস জানায়, এবারের থার্টিফাস্ট উপলক্ষে খোলা আকাশের নীচে কোনো আয়োজনের অনুমতি নেই। শুধু ইনডোরে প্রোগ্রামের অনুমতি রয়েছে। সমুদ্র শহরের তারকা মানের হোটেল সাইমন ও ওশান প্যারাডাইস এই ইনডোর প্রোগ্রামের অনুমতি নিয়েছে। তারপরও সমুদ্র জনপথে নামবে পর্যটক ঢল।

কলাতলী গেস্ট হাউস এলাকার স্বপ্নবিলাস সুইটস এর পরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, ‘বিজয় দিবসের ছুটির পর থেকে শহর ও সাগর পাড়ের সকল হোটেলের প্রায় সমস্ত কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে যায়। চলতি সপ্তাহে শহরের অনেক হোটেল পূর্ণ বুকিং হয়ে আছে। যেসব গেস্ট হাউস আগাম বুকিং হয়নি তারাও ওয়াকিং গেস্ট নিয়ে ভালোই ব্যবসা করছেন। ভ্রমণ পিপাসুরা সমান তালে সেন্টমার্টিন দ্বীপেও ঘুরতে যাচ্ছেন।’

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘শহরের আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, কটেজ ও সরকারি রেস্ট হাউসে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মানুষের রাত যাপনের সুবিধা রয়েছে। গত কিছুদিন ধরে বিপুল পরিমাণ পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। থার্টি ফাস্ট নাইট ঘিরে আরো পর্যটক বাড়ছে।’

তবে অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড়কে পুঁজি করে শ্রেণির হোটেল মালিক ও কক্ষ দালাল গলাকাটা ব্যবসা করছে। কিছু কিছু হোটেলে ভাড়ার নির্ধারিত তালিকা না থাকায় আসল ভাড়ার ৩-৪ গুণ হারে ভাড়া নিচ্ছে ওয়াকিং পর্যটকদের কাছ থেকে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, পর্যটক হয়রানি বন্ধে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশনা দেওয়া আছে। পূর্বের সময়ের চেয়েও পর্যটক সেবার প্রতি বাড়তি নজর দিচ্ছে প্রশাসন। সার্বক্ষণিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পর্যটন এলাকায় টহলে রয়েছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এইচএম রায়হান কাজেমী জানান, পর্যটক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ট্যুরিষ্ট পুলিশসহ অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সতর্ক রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন স্পট সমূহে নিয়মের চেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার সৈকতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলে পর্যটকদের রাতদিন ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা বিধান করছে পুলিশ।প্রিয়.কম

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

০১ জানুয়ারী, ২০১৮ ০১:২৯ এ.ম