President

মৌসুমী। অভিনেত্রী ও মডেল। 'আমি নেতা হবো'সহ একাধিক ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত আছেন তিনি। অভিনয়ের ব্যস্ততা, নতুন বছর নিয়ে পরিকল্পনা ও অন্যান্য বিষয়ে কথা হলো তার সঙ্গে-

আরও একটি বছর ফুরিয়ে এলো। ২০১৭ সালের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির কথা জানতে চাই?

প্রাপ্তির কথা বলতে হলে স্বীকার করতেই হবে- অভিনয়ের জন্য দর্শকের ভালোবাসা ও প্রশংসা অনেক পেয়েছি। কাজের বাইরেও শিল্পীদের অনেকের সঙ্গে কেটেছে দারুণ কিছু মুহূর্ত। বছরের শেষ প্রান্তে এসে এখন সেসব মনে পড়ছে। আবার এফডিসির নানা সংকট, সমস্যার কথাও যে মনে পড়ে না, তা নয়। কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতাও ছিল- তবে তা মনে রাখতে চাই না।

নতুন বছরের কাজ নিয়ে আলাদা করে কিছু ভাবছেন?

আগামী বছর কী করব, কী করব না- তা নিয়ে আলাদা করে কিছু ভাবিনি। তবে যা কিছু করব তা দর্শকের জন্য। কারণ দর্শক হলো শিল্পীর প্রাণ। অভিনয় করে কত যে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি, তার কোনো লেখাজোখা নেই। যেজন্য মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি কি আসলেই এত ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য? যাকে আমি চিনি না, জানি না, সে মানুষটি অভিনয়ের জন্য আমাকে এত ভালোবাসতে পারে! ভাবতেই অবাক লাগে। এজন্য নতুন বছরে দর্শকের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করব।

নায়িকা কিংবা প্রধান চরিত্রের জন্য বয়স কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন?

আমি মনে করি, প্রতিটি বয়সের আলাদ সৌন্দর্য আছে। অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। নায়িকা বা কেন্দ্রীয় চরিত্রকে নির্মাতারা কীভাবে উপস্থাপন করতে চান- সেটা দেখার বিষয়। নায়িকা কিংবা প্রধান চরিত্রকে সবসময় তরুণী হতে হবে এমন কোনো মানে নেই। শিল্পীকে তার বয়স অনুযায়ী কেন্দ্রীয় চরিত্রে তুলে ধরা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে গল্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বয়স লুকিয়ে রাখার বিষয়টি আমি সমর্থন করি না। বয়স লুকানো আনস্মার্টনেস বলেই মনে হয়।

ওমর সানীর সঙ্গে আবারও জুটি হলেন। দর্শক এই জুটি কীভাবে গ্রহণ করবেন বলে আপনার ধারণা?

দর্শকের ভালোলাগা-মন্দলাগার বিষয়টা অনুমান করা কঠিন। এটা বলতে পারি, ছবি ও চরিত্র ভালো হলে দর্শক জুটি নিয়ে খুব একটা ভাবেন না। দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে সানীর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ছবিতে জুটি হয়েছি। যার বেশিভাগই সফল। দর্শকের ভালো না লাগলে নিশ্চয় এত ছবি সাফল্য পেত না। নির্মাতারাও আমাদের জুটি করে এত ছবি নির্মাণ করতেন না। এটাও ঠিক যে, মাঝে বেশ কিছু সময় জুটি হিসেবে আমাদের কাজ করা হয়ে ওঠেনি। এ কারণে দর্শক নতুন করে জুটি হওয়াকে নেগেটিভলি নেবেন বলেও মনে করি না।

'আমি নেতা হবো' ছবির কাজ কতদূর এগোল?

কিছুটা বাকি আছে। নির্মাতা উত্তম আকাশ বলেছেন, যে কাজটুকু বাকি আছে তা কিছুদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। সে হিসেবে দর্শক নতুন বছরের প্রথমভাগেই ছবিটি দেখার সুযোগ পাবেন। এটা ভিন্ন আঙ্গিকের একটা ছবি, যা অনেকের ভালোলাগবে বলেই আমার বিশ্বাস।

ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি, পেছন ফিরে তাকালে অভিনয়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ার কেমন বলে মনে হয়?

সবকিছু স্বপ্নের মতো লাগে। মনে হয়, এই তো সেদিন সালমান শাহর বিপরীতে 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' ছবিতে অভিনয় করে আমার অভিষেক হলো। সাধারণ মেয়ে ছিলাম। একটি ছবিতে কাজ করব, সবাই দেখবে, ভালো বলবে- এটুকুই ভেবেছি। কিন্তু প্রথম ছবির সাফল্যের পর এতটা পথ পাড়ি দেওয়া হবে- তা কল্পনাও করিনি।সমকাল

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৬:২৭ পি.এম