President

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অব্যাহত সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু। তাদের আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ এগিয়ে এসেছেন।

তেমনই একজন ব্যক্তির নাম মফিজ উদ্দিন।
সম্প্রতি বিবিসি খুঁজে বের করেছে কক্সবাজারের মফিজ উদ্দিনকে। তিনি তার বাড়িতে প্রায় ১৩০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছেন।

বিবিসিকে মফিজ বলেন, ‘তারা অনেকে গুলি খেয়ে এসেছে, মার খেয়ে এসেছে, কাটা (ধারালো অস্ত্রের) খেয়ে এসেছে। তাদের দেখলে এমনিতেই চোখে পানি এসে যায়। ’

গত প্রায় চার মাস আগে তিনি তাদের আশ্রয় দিয়েছেন। এখনও তারা তার বাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় রয়েছেন।

কেন আশ্রয় দিয়েছেন তিনি? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওরা মুসলমান। আমরাও তো মুসলমান।

মুসলমান হিসেবেও আমাদের মনে কষ্ট হয়। এজন্য তাদের আশ্রয় দিয়েছি। তারা যখন এসেছে তখন অসহায় মানুষ, বাড়িঘর নেই দেখে তাদের থাকতে দিয়েছেন বলে জানান মফিজ।
তারা আমাদের কাছে সাহায্য চেয়েছিল। আমাদের বাড়ির পাশে জায়গা কিছুটা খালি আছে। তাই তাদের আমি খোলা জায়গায় ঘর বানিয়ে থাকতে দিয়েছি।

বাংলাদেশের সরকারের নির্দেশনায় রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে থাকা নিষেধ। তবে তার পরেও বহু বাঙালির আশ্রয়ে বাস করছেন রোহিঙ্গারা।

মফিজ উদ্দিনের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া হাসিনা বেগম নামে এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, ‘এখানে পাঁচ বছর, দুই বছর নাকি এক বছর থাকতে হবে, তা আমরা জানি না। একমাত্র আল্লাহ জানেন। আমরা মিয়ানমারে ফেরত যাব যদি আমাদের রোহিঙ্গা বলে স্বীকৃতি দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আমাদের ভূমি ও বাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে যদি সব অধিকার দেওয়া হয় তাহলে আমরা ফিরে যাব। ’

এত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না? এ প্রসঙ্গে মফিজ বলেন, অল্প অসুবিধা হলেও তা সহ্য করতে হচ্ছে। যে জায়গায় তারা চাষবাষ করতেন, তা করতে পারছেন না। এছাড়া স্যানিটেশন সমস্যার কারণে চলাফেরাতেও অসুবিধা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এছাড়া আর কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
সূত্র : বিবিসি

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১২:৩০ পি.এম