President

গাঢ় সবুজের মেঘালয় পাহাড়ঘেঁষা জাফলং। দেশের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড। এ ছাড়া লালাখাল, উত্মাছড়া, লোভাছড়া, মায়াবী ঝরনা, পাংতুমাই ও মায়াবন দেখতে চাইলে আপনাকে আসতে হবে সিলেটে। এসব সিলোটি সৌন্দর্যের নিদর্শন।
রাতারগুল : এই জলাবনের দুই ঋতুতে দুই রূপ। বর্ষায় এটা সবচেয়ে বেশি মোহনীয়। এ সময় পানিতে অর্ধেক ডুব দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা হিজল, করচ, বরুনা, বেত আর মুর্তার ঘন ঝোপ স্বাগত জানায় দর্শনার্থীদের। বনের গাছপালার ভেতর দিয়ে নৌকায় ঘুরতে ঘুরতে প্রকৃতির ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। বনের ভেতরে ঢুকে গেলে যেদিকে দুই চোখ যায় কেবল জল আর গাছের সারি দেখা যায়।

সাধারণত এই সময়ে পর্যটকরা বেশি ভিড় জমান। তবে শুকনো মৌসুমে জলাবনের চিত্র বদলে যায়। এ সময় পানি কমে গিয়ে কোথাও শুকনো, কোথাও কাদা, আবার কোথাও হাঁটুপানি জমে থাকে। এ সময়টায় নৌকায় চড়ে বনের খুব একটা গভীরে যাওয়া যায় না। যারা রোমাঞ্চপ্রিয় এই সময়টা যেন তাদের জন্য যথাযথ।

এর আয়তন প্রায় তিন হাজার ৩২৬ একর। যার মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। সিলেট নগর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে গোয়াইনঘাট উপজেলায় এর অবস্থান।

বিছনাকান্দি : গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী বিছনাকান্দি। মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে স্বচ্ছ জলের নিচে ছোট-বড় রংবেরঙের পাথর বিছিয়ে রাখা। পানিতে পা ডুবিয়ে পাথরে বসে বসে দূর মেঘালয় পাহাড় আর নীল আকাশের মিতালি দেখা যায়।

লালাখাল : জৈন্তাপুর উপজেলায় স্বচ্ছ জলের লালাখাল। বছরের বেশির ভাগ সময় জলের তলদেশ পর্যন্ত খালি চোখে দেখা যায়। হালকা নীলাভ সবুজ রঙের জলের নদী ধরে এগুলো দৃষ্টি কাড়ে ছোট-বড় টিলা, চা-বাগান ও বৃক্ষরাজি।

জাফলং : গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রকৃতিকন্যা খ্যাত জাফলং। ভারতের মেঘালয় অঞ্চলের পাহাড় থেকে ডাউকি নদী এই জাফলং দিয়ে পিয়াইন নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ, ভারত সীমান্তের ভেতরে থাকা উঁচু উঁচু পাহাড়শ্রেণি, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম ধারায় বহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি সেতু, উঁচু পাহাড়ে গহিন অরণ্য, সীমান্তের ওপারে সবুজ পাহাড়ের চূড়ায় তুলার মতো মেঘরাজির ঝুলে থাকা পাহাড়ের গায়ে অসংখ্য ঝরনাধারা রয়েছে।

আরো আছে : জাফলং ডাউকি নদী পার হয়ে ভ্যানে মাতুরতল বাজার পার হলে অপরূপ পাংতুমাই ঝরনা। এ ছাড়া উত্মাছড়া, কানাইঘাট উপজেলায় লোভাছড়া পর্যটন স্পট, গোয়াইনঘাট উপজেলায় মায়াবন ও চা-বাগান রয়েছে। এ ছাড়া সিলেট নগরে ব্রিটিশ আমলের কিনব্রিজ, আলী আমজাদের ঘড়িঘর, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার রয়েছে।

সিলেটের বাসিন্দা সিদ্দিক চৌধুরী আজমল যুক্তরাজ্যে একটি ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি এ অঞ্চলের পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে বলেন, ‘সিলেটে অসংখ্য পর্যটন স্পট আছে। তার কয়েকটা সুখ্যাতি পেলেও বাকিগুলো আড়ালে রয়ে গেছে। এ ছাড়া পর্যটন স্পটগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। ’

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, ‘পর্যটন খাতে সিলেটের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের এখনই মনোযোগী হতে হবে। বিশেষ করে যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও আবাসন সুবিধা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে অর্থে সিলেটে বিগত কয়েক বছরে প্রচুর পরিমাণে উন্নত মানের হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন নিরাপত্তা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে পর্যটকদের উপস্থিতি কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। ’সৌজন্যে- কালের কন্ঠ

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৪:০৭ পি.এম