President

শিশুরা নিষ্পাপ, তাদের কোনো পাপ নেই। তাদের মনে হিংসা বিদ্বেষ নেই, কুটিলতা নেই, তাই তারা হচ্ছে ফুলের মতো। শিশুরা যাতে বড় হয়ে ভালো মানুষ হতে পারে এবং আল্লাহর প্রিয়পাত্র হতে পারে, এ দিকে নবীজীর ছিল সজাগ দৃষ্টি। নবীজীর ভালোবাসা পেয়ে মদিনার শিশুরাও নবীজীকে ভালোবাসতো এবং তাঁর কাছে আদর নিতে আসত। নবীজী যখন আনসারি সাহাবিদের পল্লিতে যেতেন তখন তাঁদের শিশুদের সালাম দিতেন, তাঁদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন এবং তাঁদের জন্য দোয়া করতেন।

হাদিস শরিফে আছে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, শিশুরা হলো আল্লাহ তায়ালার ফুল। (তিরমিজি শরিফ)

হজরত হাসান, হোসাইন নবীজীর অতি আদরের নাতি। তাঁরা বড় হয়ে অনেক মহান ব্যক্তি হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা যখন ছোট ছিলেন তখন কি করতেন একটু জেনে নেই।

নবীজী সেজদায় গেলে তাঁরা তাঁর পিঠে চড়ে বসতেন। নবীজীও পরম স্নেহে তাদের পিঠে চড়িয়ে রাখতেন। তাঁরা নেমে গেলে সেজদা থেকে মাথা তুলতেন। কখনো বা তাঁদের পিঠের সাথে জড়িয়ে নিয়েই দাঁড়িয়ে যেতেন। আবার কখনো কখনো বড় নাতি হাসানকে কাঁধে চড়িয়ে বাইরে বেরুতেন। (বুখারী শরীফ)

নবীজীর একজন মহান সাহাবি হলেন, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) নবীজী তাঁকে খুব ভালোবাসতেন এবং তাঁর স্মৃতি শক্তির জন্য দয়া করেছেন। নবীজীর সবচেয়ে বেশি হাদিস তিনিই বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি আমার এই চোখে দেখেছি এবং এই দুই কানে শুনেছি যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান বা হোসাইনের দুই হাত ধরে তাঁর পায়ে দাঁড় করিয়ে দিতেন এবং বলতেন ছোটমনি, ছোটমনি উঠে এস; ও আমার ছোট চোখের ছোট সোনা। নবীজীর এই কথা শুনে তাঁর শরীর বেয়ে উঠতে থাকত এবং তাঁর পবিত্র বুকের উপর উঠে আসত। নবীজী তখন তাঁকে চুমু খেতেন এবং বলতেন হে আল্লাহ, আমি তাকে ভালোবাসি। অতএব তুমিও তাকে ভালোবেসো। ( আল মুজামুল কাবীর, তবারানী)

নবীজী কখনো কখনো শিশুদের নিয়ে খেলায় মেতে উঠতেন। কুরাইশ বংশের ছোট বালক আব্দুল্লাহ, উবাইদুল্লাহ ও কাসীরকে এক সারিতে দাঁড় করিয়ে নবীজী বলতেন, যে সবার আগে আমার কাছে আসতে পারবে তাকে এই পুরষ্কার দেব। সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা নবীজীর কাছে ছুটে আসত এবং তাঁর কোলে পিঠে ঝাঁপিয়ে পড়ত। নবীজী সবাইকে দুহাতে জড়িয়ে ধরতেন এবং আদর করে চুমু খেতেন। (মুসনাদে আহমদ)

শিশুদের দুঃখ তিনি সইতে পারতেন না। কোনো শিশুকে দুঃখিত দেখলে মিষ্টি-মধুর কথা বলে তাঁর মন খুশি করে দিতেন। সুন্দর সুন্দর কথা বলে তাঁকে হাসিয়ে দিতেন।

তিনি সকল পিতা মাতাকে আদেশ করে গেছেন, তাঁরা যেন শিশুদের সুন্দর নাম রাখেন এবং তাদেরকে আদব-কায়দা শিক্ষা দেন। শিশু যখন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে তখন সে যাতে সহজেই নামাজে অভ্যস্ত হয়, এদিকে খেয়াল রাখাও পিতা-মাতর কর্তব্য। সর্বদা সত্য কথা বলা, অন্যের মনে কষ্ট না দেওয়া, গরীব-দুঃখকে সাহায্য করা, পিতা-মাতার কথা মেনে চলা, বড়দের সম্মান করা। এসবই নবীজীর শিক্ষা। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের, শিক্ষা অনুসরণ করে তাঁর সাহাবিগণ কতো মহান ও মর্যাদাবান হয়েছেন।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৪:০৬ পি.এম