President

বাংলার প্রকৃতি, জলবায়ু ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদকে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন-চ্যানেল আই প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক-২০১৭ প্রদান করা হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের চ্যানেল আইয়ের চেতনা চত্বরে ১৬ই ডিসেম্বর শনিবার রাতে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে তার হাতে এ পদক তুলে দেওয়া হয়। খলীকুজ্জমানের হাতে পদক তুলে দেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইশতিয়াক আহমদ। এ সময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ রইসুল আলম মন্ডল এবং বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক সফিউল আলম চৌধুরী। এ সময় প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পক্ষ থেকে থেকে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের হাতে এক লাখ টাকার সন্মাননা চেক তুলে দেন ইমপ্রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ মজুমদার।
জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান ডা. সরদার এ নাঈম তার হাতে আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের সনদপত্র তুলে দেন। অনুষ্ঠানে ড. কাজী খলীকুজ্জমানের জীবন ও কর্ম নিয়ে দেখানো হয় দুইটি তথ্যচিত্র। পরে মুকিত মজুমদার বাবুর লেখা ‘স্বপ্নে প্রকৃতি’ গ্রন্থ ও ‘প্রকৃতিও জীবন’ এর গত এক বছরের প্রচারিত অনুষ্ঠানমালার ডিভিডির মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা। ইশতিয়াক আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার সবুজ বাঁচাতে দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছে। এই আন্দোলনে বাংলার মানুষ শামিল হয়েছেন। এখন মানুষে মনে প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা বিশেষ তাগিদ সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও ব্যাপক সচেতন হতে হবে। এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে নতুন প্রজন্ম। পদক প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেন যে যার অবস্থান থেকে প্রকৃতি সংরক্ষণ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। এ পদক আমাকে অনুপ্রেরণা যোগাবে। স্বাগত বক্তব্যে মুকিত মজুমদার বলেন, নিজ ঘর থেকে সচেতন হতে হবে। তবে প্রকৃতি ও পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা যাবে। ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন আট বছর আগে যে পরিকল্পনা নিয়ে তার যাত্রা শুরু করেছিল। তা অব্যাহত রয়েছে। আরও নতুন নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে যা পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখবে। এর আগে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় চ্যানেল আইয়ের বাংলা গানের শিল্পী খায়রুলের তুষার কান্তি সরকারের লেখা ‘সবার মাঝে ছড়িয়ে গেছে প্রকৃতি ও জীবন’ থিম সং পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এ সময় গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে একঝাঁক নৃত্যশিল্পী। এর পর দেশের গান পরিবেশন করেন রথীন্দ্রনাথ রায় ও শাহীন সামাদ। অনুষ্ঠানে সদ্যপ্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ও প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে নানা ঝুঁকি নিয়ে মুকিত মজুমদার বাবুর নেতৃত্বে প্রকৃতি, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সব মহলে সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়ার কাজ করছে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। প্রকৃতি সংরক্ষণের অভিপ্রায়ে এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৯ সালে। ২০১০ সালের ১লা আগস্ট চ্যানেল আইয়ে শুরু হয় নতুন মাত্রার গবেষণা, তথ্যবহুল, সচেতনতা ও শিক্ষামূলক ধারাবাহিক প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘প্রকৃতি ও জীবন’। এরই মধ্যে অনুষ্ঠানটি দেশ-বিদেশে দর্শকনন্দিত হয়েছে। এ ছাড়াও সচেতনতা বাড়াতে প্রকৃতি সংরক্ষণে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে ফাউন্ডেশন থেকে। পাশাপাশি একজন পরিবেশপ্রেমীকে প্রতিবছর দেওয়া হচ্ছে প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক। এর আগে প্রথমবারে মতো প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন-চ্যানেল আই ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক-২০১১’ তুলে দেয়া হয় নিসর্গী দ্বিজেন শর্মার হাতে। এরপর ২০১২ সালে এ পদক পান বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. রেজা খান। ২০১৩ সালে এ পদক পান পাখিপ্রেমিক ইনাম আল হক। পানিসম্পদ গবেষণা ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৪ সালে এ পদক পান ড. আইনুন নিশাত। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ২০১৫ সালে এ পদক পান দেশের প্রথম মহিলা বন্যপ্রাণিবিদ অধ্যাপক ড. নূর জাহান সরকার। গত বছর এ পদক পেয়েছেন ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৩:৫৭ পি.এম