President

দেশব্যাপী আনন্দ উৎসবের নানা কর্মসূচিতে উদযাপিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস। দিনভর নানা কর্মসূচিতে প্রতিফলিত হচ্ছে মৌলবাদকে মোকাবেলার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়ে তোলার শপথ। দেশের উন্নয়ন-সমৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রেখে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের প্রত্যয়ও উচ্চারিত হচ্ছে কোটি কণ্ঠে।

বিজয়ের ৪৬ বছর পূর্তিতে শনিবার গোটা জাতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বিনম্রচিত্তে স্বাধীনতা যুদ্ধের অকুতোভয় শহীদ বীর সন্তানদের স্মরণ করছে। নিবেদন করছে প্রাণের শ্রদ্ধার্ঘ্য।

বিজয় দিবস উপলক্ষে এদিন সকাল থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে ঢল নামে জনতার। সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন তারা। বিউগলে করুণ সুর বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়।

রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এর পরই জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অগণিত মানুষের ঢল নামে।


সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা— ফোকাস বাংলা
আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি, সিপিবি, বাসদ, জাসদ, গণফোরাম, যুক্তফ্রন্ট, জাকের পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যিলায় ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধে আসেন।

স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে দিনভর নানা আয়োজনে বিজয়োৎসবে মেতে ওঠে সর্বস্তরের মানুষ। বিজয়ের রঙে সাজেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীরা। দিনটি উপলক্ষে সব সরকারি, বেসরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনে উত্তোলিত হয়েছে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা। সব রকমের যানবাহনে শোভা পাচ্ছে ছোট ছোট পতাকা।

আগের রাত থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষ বিজয়ের উৎসবে মেতে ওঠার প্রস্তুতি শুরু করে। সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলোকে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি রংবেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, বেলুন দিয়ে বর্ণাঢ্য সাজে সাজিয়ে তোলা হয়। বড় বড় সড়ক-মহাসড়কে রাজনৈতিক নেতাদের নামে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে শত শত তোরণ বানানো হয়। অন্যদিকে বিভিন্ন দল, সংগঠনসহ ব্যক্তি উদ্যোগে পাড়ায়-পাড়ায় এবং অলিগলিতে মাইকে বেজেছে দেশাত্মবোধক গান এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিস্মরণীয় ভাষণ।

রাজধানীর তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় সূর্যোদয়ের সময় ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও পুরনো বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিএনসিসি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি, কোস্টগার্ড, কারারক্ষী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সমন্বয়ে গঠিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি এতে সালাম গ্রহণ ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিমানবাহিনীর ফ্লাইপাস্ট, উড়ন্ত হেলিকপ্টার থেকে রজ্জু বেয়ে অবতরণ, প্যারাস্যুট জাম্প ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কিত যান্ত্রিক বহর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

বিজয় দিবস উপলক্ষে শনিবার বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ সব বেসরকারি টিভি ও রেডিওতে সারাদিন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র ও নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। দেশের সব শিশুপার্ক ও জাদুঘর বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মুক্তিযোদ্ধা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ৪৭তম বিজয় দিবস উপলক্ষে ১০টাকার স্মারক ডাকটিকেট ও উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত করেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পাঁচ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটা কার্ড এবং ডাক বিভাগের ইস্যুকৃত একটি স্মারকগ্রন্থ অবমুক্ত করেন।

বিজয় দিবস উপলক্ষে সন্ধ্যায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করার পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা, পোস্টার প্রদর্শনী ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে বিজয় দিবস উপলক্ষে নৌবাহিনীর নির্ধারিত জাহাজ আজ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণ এসব জাহাজ পরিদর্শন করতে পারবে। যেসব স্থানে জাহাজ থাকবে সেগুলো হচ্ছে ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, বাগেরহাট ও বরিশাল। বিজয় দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৯:১২ পি.এম