President

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্যস্ততম বাস টার্মিনালে বোমা হামলার অভিযোগে আটক করা হয়েছে বাংলাদেশের নাগরিক আকায়েদ উল্লাহর প্রতি ধিক্কার জানিয়েছেন প্রবাসীরা। একই সঙ্গে এঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টের সদস্য (এ্যাসেম্বলীম্যান) ডেভিড ওয়েপ্রিন বলেছেন, আকায়েদের সন্ত্রাসী কর্মের দায় জাতিগতভাবে বাংলাদেশিরা কখনোই নিতে পারে না। সন্ত্রাসীর কোন জাত, ধর্ম বা গোষ্ঠি পরিচয় নেই। ওরা সন্ত্রাসী, মানবতা ও সভ্যতার শত্রু।

কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট ডেমক্র্যাটিক পার্টির লিডার এটর্নী মঈন চৌধুরী বলেছেন, আকায়েদ উল্লাহ্’র প্রতি সংঘবদ্ধভাবে ঘৃণা প্রদর্শন করতে হবে। ওরা বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। ওরা মানবতার দুশমন হিসেবে চিহ্নিত হয়েই থাকবে।
বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কোয়ার এবং পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালের মধ্যে পাতাল পথে ১১ ডিসেম্বর গতকাল সোমবার সকালে পাইপ বোমার বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে অসহায় মানুষদের ক্ষতিসাধনের চেষ্টাকালে নিজের হাতে তৈরি বোমা বিষ্ফোরণে আকায়েদ উল্লাহ্’ও আহত হয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে।
২০১১ সালে পারিবারিক কোটায় অভিবাসনের ভিসায় পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আগত সন্দ্বীপের সন্তান আকায়েদ উল্লাহ্’র কারণে সকল মিডিয়ায় ‘বাংলাদেশ’ নাম উচ্চারিত হচ্ছে। ফলে অসহায় প্রবাসীদের মধ্যে এক ধরনের ভীতির সঞ্চাল ঘটেছে।
গতকাল নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত ৩ শতাধিক বাংলাদেশি অফিসারের সংগঠন ‘বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন’ তথা বাপার উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জ্যাকসন হাইটসের একটি মিলনায়তনে বাপার প্রেসিডেন্ট লে. শামসুল হক সর্বসাধারণের প্রতি আহবান জানান, সকল ধর্ম, বর্ণ এবং জাতিগোষ্ঠির মধ্যেই কিছু দুষ্ট লোক রয়েছে। সেজন্যে ওই সম্প্রদায়ের সকলকে ‘দুষ্ট’ হিসেবে মনে করার কোন কারণ থাকতে পারে না। তাই সকলে যেন সতর্কতার সাথে স্বাভাবিক জীবন-যাপন অব্যাহত রাখেন।’
বাপার সেক্রোরি হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘আকায়েদ উল্লাহ দোষ করে থাকলে নিশ্চয়ই তার কঠোর শাস্তি হবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী। আকায়েদের মত দুষ্ট লোকদের সম্পর্কে কোন তথ্য থাকলে সঙ্গে সঙ্গে যেন নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন অথবা সিটির হটলাইনে জানানো হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউইয়র্কের সভাপতি কামাল আহমেদ বলেন, ‘এমন আচরণে লিপ্ত কোন ব্যক্তি আমাদের সমর্থন কখনো পাবে না। আমরা সব সময় ওদের প্রত্যাখান করেছি। আকায়েদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, সে যদি সত্যিকার অর্থেই অপরাধী হয় তাহলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই আমরা সকলেই।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও ছিলেন ব্যারিস্টার ইশরাত সামী, মাজেদা এ উদ্দিন, রুহুল আমিন সিদ্দিক, ময়নুল ইসলাম, তারেক হাসান খান, আব্দুর রহিম হওলাদার, আব্দুল হাই জিয়া, কামাল ভ’ইয়া, সিটি মেয়রের প্রতিনিধি ড. সারা সাঈদ, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ প্রমুখ।
এদিকে এমন সন্ত্রাসীকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সদর দপ্তরের উদ্ধৃতি দিয়ে কম্যুনিটি লিডার কাজী আজম জানান, ‘আকায়েদ উল্লাহ্’র আচরণের পরিপেক্ষিতে কেউ যদি কোন বাংলাদেশির সঙ্গে অশোভন আচরণ কিংবা কোন গাল-মন্দ করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে যেন হট লাইনে ফোন করে জানানো হয়। পুলিশের হটলাইন : ১-৮০০-৬৯২-৭২৩৩।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৩:১৬ পি.এম