President

বিশ্বের অন্যান্য দেশে থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশেই অবিবাহিত জুটির অন্তরঙ্গ হওয়ার কোনো জায়গা নেই। প্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারী-পুরুষের একান্ত সময় কাটানোটা প্রায় অসম্ভব। পুরো ব্যাপারটার জন্য এমন লুকোচুরির আশ্রয় নিতে হয় যে, এসব হোটেল-রিসোর্টের লোকজন তাদের এক অর্থে ব্ল্যাকমেইলই করে। এসব ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হয়। তার ওপর পুলিশের পাল্লায় পড়লে তো কথাই নেই।

এমন অমানবিক অবস্থা মনেপ্রাণে অনুভব করেছেন ভারতের পিলানির বিড়লা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সের স্নাতক সঞ্চিত শেঠী। ২০১৫-এই ‘স্টে আঙ্কল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন তিনি।

প্রথম দিকে তার প্রতিষ্ঠান অল্প সময়ের জন্য রুম ভাড়া নিতে আগ্রহীদের সাহায্য করত। ভারতের বেশির ভাগ হোটেল ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের জন্য হোটেল রুম ভাড়া দেওয়া হয় না। কিন্তু কারও কারও তো কয়েক ঘণ্টার জন্য রুম ভাড়ার দরকার পড়তে পারে।

এই কাজ করতে গিয়ে সঞ্চিত দেখেন, কয়েক ঘণ্টার জন্য রুম ভাড়া নিতে আসা বেশির ভাগই অবিবাহিত জুটি। এরপর তিনি এ বিশেষ ‘কমিউনিটি’র কথা ভাবতে শুরু করেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দিল্লির ৩৪টি, মুম্বাইয়ের ১০টি হোটেল সংযুক্ত রয়েছে।

এমনকি, ট্রাইডেন্ট ও ওবেরয়ের মতো ব্র্যান্ডও তাদের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। ৮ ঘণ্টার জন্য হোটের ভাড়া নিলে ১ হাজার ৪০০ থেকে ৫ হাজার রুপির মতো খরচ পড়তে পারে বলে জানান সঞ্চিত।

এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি আরও জানান, ভারতে এমন কোনো আইন নেই, যা কোনো জুটিকে হোটেলে রুম ভাড়া পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে। যে কোনো পরিচিতিপত্র থাকলে যে কেউ যেখানে ইচ্ছা হোটেল রুম ভাড়া পেতে পারেন। দেশ বদলালেও হোটেল ব্যবসায়ীদের মানসিকতা বদলায়নি। অবশ্য কলকাতা এখনও স্টে আঙ্কল-এর ছাতার নীচে আসেনি। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে হচ্ছে কলকাতার অবিবাহিত জুটিরা আশায় বুক বাঁধতে পারেন। সূত্র: জিনিউজ।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৩:০৮ পি.এম