President

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে দেশটির সঙ্গে যে 'সম্মতিপত্র' সই করা হয়েছে তা বাংলাদেশের জন্য ফাঁদে পরিণত হতে পারে। কারণ, এতে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। এ সুযোগে মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কালক্ষেপণের সুযোগ পাবে। কারণ, যে 'সম্মতিপত্র' সই হয়েছে তা মেনে চলার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের তরফ থেকে বহুবার বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা সমস্যা দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়। এ সমস্যা বহুপক্ষীয়। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে, এ সমস্যায় জাতিসংঘ, আঞ্চলিক সংস্থা ও পরাশক্তি দেশগুলোকে যুক্ত থাকতে হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারের ফাঁদে পা দিয়ে বাংলাদেশে দেশটির সঙ্গে যে 'সম্মতিপত্র' সই করেছে, তাতে রোহিঙ্গা সংকট দুই দেশের মধ্যকার সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। এতে মিয়ানমারের দাবিই পূরণ হবে।

মিয়ানমারের সঙ্গে 'সমঝোতা স্মারক' সইয়ের খবর প্রচার হলেও, গণমাধ্যমের খবরে যতদূর জেনেছি এটি আদতে কোনো চুক্তি নয়। মিয়ানমারের তরফ থেকে একে একটি 'ব্যবস্থা' বলা হয়েছে। যে ব্যবস্থায় দুই দেশ সম্মত হয়েছে, তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি 'জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ' গঠন করা হবে। তিন মাসের মধ্যে চুক্তি সই হবে।

এ 'ব্যবস্থায়' মিয়ানমার বাংলাদেশে ফরম পাঠাবে। সেই ফরম রোহিঙ্গারা পূরণ করবে। তারপর রোহিঙ্গাদের পূরণ করা ফরম আবার মিয়ানমারে পাঠানো হবে। মিয়ানমার ফরম পূরণ করা রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই করে ফেরানোর শর্ত দিয়েছে। এ শর্ত শুধু কঠিন নয়, বরং কালক্ষেপণে মিয়ানমারের জন্য মোক্ষম অস্ত্র। এমন শর্ত রেখে চুক্তি হলেও, বাংলাদেশের আদতে খুব বেশি লাভ হবে না।

আমরা এর আগে শুনেছি মিয়ানমার তথাকথিত যাচাই-বাছাই করে দৈনিক ১০০ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। বাংলাদেশে অন্তত ১১ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। দিনে ১০০ জনকে ফেরত নিলে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ হতে ৩০ বছর লাগবে। তার মানে মিয়ানমার কখনই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে না।

১৯৯২ সালে চুক্তি করে যাচাই-বাছাইয়ের নামে বহু রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়নি। এবারও যাচাই-বাছাইয়ের নামে পুরনো কূটকৌশল খাটাতে চাইছে। বাংলাদেশের এ ফাঁদে পা দেওয়া উচিত নয়। যে 'সম্মতিপত্র' সই করা হয়েছে, তাতে ইতিবাচক কী আছে এখনও বুঝতে পারছি না। কেউ কেউ বলছেন, অন্তত একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুধু এ দিকটি ছাড়া আর কোনো জায়গাতেই আশার কিছু দেখতে পাচ্ছি না।

মিয়ানমার যেসব শর্ত দিচ্ছে, সেগুলো রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার পক্ষে নয়। মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক গণআদালতের শুনানিতে আমরা যেসব তথ্য দেশটির সম্পর্কে পেয়েছি, তাতে নিশ্চিত করে বলা যায়, মিয়ানমার একটি দস্যু রাষ্ট্র। তারা পরিকল্পিত উপায়ে রোহিঙ্গাসহ সকল সংখ্যালঘুকে দেশ ছাড়া করতে চায়। তাদের সঙ্গে ভদ্র আচরণে কাজ হবে বলে মনে হচ্ছে না। চুক্তিতে নয়, চাপের মাধ্যমে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য করতে হবে।

সি আর আবরার

অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সমন্বয়ক, রামরু।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০৯:১৩ এ.ম