President

ভারতের একটি ফরেনসিক ল্যাব থেকে চুরি হয়ে গেছে রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার সানাম হাসান নামে এক তরুণীর হৃদপিণ্ড। হায়দরাবাদের একটি ফরেনসিক ল্যাব থেকে হারিয়ে যায় পাঁচ বছর আগে মারা যাওয়া ওই তরুণীর হৃদপিণ্ড। খবর এনডিটিভি’র।
সানাম হাসানের মা নাগিনা অভিযোগ করেন, ঘটনার তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতেই এটা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এমনটা শুধু এবারই করা হয়নি। এর আগেও হৃদপিণ্ড পাল্টানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ওই সময় একজন পুরুষের হৃদপিণ্ড দিয়ে পাল্টানো হয়েছিল। এবার কয়েক সপ্তাহ আগে আবার হৃদপিণ্ড পরীক্ষা করে দেখা যায় সেটা এক বয়স্ক নারীর। তাহলে সানামের হৃদপিণ্ডটা গেল কোথায়?
তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে হৃদপিণ্ড পাল্টে ফেলা হয়েছে অভিযোগ করে সানামের মা বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ কোনো প্রভাবশালী মহল এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।’

তিনি বলেন, ‘একবার হলে এটাকে ভুল বলা যেতো। কিন্তু এমনটা এ নিয়ে দুবার হলো। তাই আমাদের সন্দেহ করার শক্ত কারণ রয়েছে যে, এটা ইচ্ছা করেই করা হয়েছে যাতে সিবিআই’র তদন্ত বাধাগ্রস্ত করা যায়।’
ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিবিআই ঘটনার তদন্ত করছে। সানাম খুবই রহস্যজনকভাবে ২০১২ সালে মারা যান। পুনের সাসোন হাসপাতালে ময়নাতদন্তে দেখা গিয়েছিল- ‘অ্যালকোহল সংক্রান্ত উত্তেজনা ও হৃদপিণ্ডে বিশেষ সমস্যার কারণে’ মারা যান তিনি।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আরো বলা হয়েছিল, সানামের হৃদপিণ্ডে ৭০ শতাংশ ব্লক পড়ে গিয়েছিল। তরুণীর যোনিমুখ পরীক্ষা করে সেখানে বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মৃত্যুর আগে শারীরিক সম্পর্কের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
পুনের ওই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অস্বীকার করেছিল সানামের বাবা-মা। তারা পুনরায় তদন্তের দাবি করেছিল। সানাম ছিলেন একজন ফুটবল খেলোয়াড়। নিহত হওয়ার ১২ দিন আগেও তিনি টুর্নামেন্টে খেলেছিলেন। ঘটনার আগের দিন জিমে গিয়ে কার্ডিও এক্সারসাইজ করে এসেছিলেন সানাম।

সানামের হৃদপিণ্ডে ৭০ শতাংশ ব্লক থাকার বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করেছিল তার পরিবার। পরে ডিএনএ পরীক্ষা করে দেখা যায় সেই হৃদপিণ্ডটি সানামের ছিল না। অবশ্য তার কিডনি, প্লীহা, লিভারের ডিএনএ মিলেছে।
সিবিআই ওই হ্দপিণ্ডটি পরীক্ষার জন্য হায়দরাবাদের একটি ল্যাবে পাঠিয়েছিল। পরীক্ষা করে দেখা যায় সেটি একজন বয়স্ক নারীর।
এ অবস্থায় সিবিআই’র এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তার হারিয়ে যাওয়া হৃদপিণ্ডটি খুঁজে বের করা। তার শরীরের বাকি অংশ কবরস্থ করা হয়েছিল। সেই দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষা করে দেখা গেছে সেটা সানামের পরিবারের সঙ্গে মিলে। কিন্তু তার হৃদপিণ্ডটা গেল কোথায়?’

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর/আইএস/১৭ জুলাই ২০১৭

১৮ জুলাই, ২০১৭ ০৯:২২ এ.ম