President

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশে তৈরি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউরোপ আমেরিকায় যাচ্ছে বাংলাদেশের জুতা। এ পরিস্থিতিতে গুণগত মান বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজার আরও সম্প্রসারণের দিক খুঁজছেন দেশীয় চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারক ও উদ্যোক্তারা।

শনিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দেশের চামড়াজাত পণ্যের আয়োজন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডশো অন লেদার এন্ড ফুটওয়্যার মেশিনারি, কম্পোনেন্টস, কেমিক্যালস এন্ড অ্যাক্সেসরিজ (লেদারটেকশো) প্রদর্শনী ঘুরে এমনটাই জানা যায়। গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া পঞ্চম লেদারটেকশো প্রদর্শনী শেষ হয় শনিবার (১৮ নভেম্বর)।

চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ ১৫টি রাষ্ট্রের ১৭১টি প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের সংগঠক, বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এ আয়োজনে অংশ নেয়। চামড়াজাত পণ্য ও জুতার আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে, এ ধরণের প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন দেশীয় চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারক ও উদ্যোক্তারা।

প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়, যা এ খাত সংশ্লিষ্টদের ‘যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নের’ মাধ্যমে দেশের চামড়া শিল্পকে আরও এগিয়ে নেবে বলছেন তারা।

চামড়াজাত পণ্য খাতের উদ্যোক্তারা চামড়াজাত পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনার পেছনে পাঁচটি কারণের কথা জানান। এগুলো হলো চীন থেকে চামড়াজাত পণ্যের কারখানা সরছে, বাংলাদেশের জুতা ও ব্যাগ তৈরির সক্ষমতা বাড়ছে, এ খাতের মূল কাঁচামাল দেশেই হয়, বাংলাদেশ মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করছে এবং এ দেশের শুল্কমুক্ত বাজার-সুবিধা আছে।

এদিকে উদ্যোক্তারা রপ্তানি বাড়াতে বেশ কিছু সমস্যার কথাও বলেন। এগুলো হলো- চামড়া প্রক্রিয়াকরণে পরিবেশদূষণ, রপ্তানিতে লিডটাইম বা পণ্য তৈরি করে জাহাজীকরণ করতে সময় বেশি লাগে, এ দেশে পণ্য বৈচিত্র্যের অভাব, শ্রমিকের দক্ষতায় ঘাটতি এবং কারিগরি জ্ঞানের অভাব।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য মিলিয়ে ১২৩ কোটি ডলার রপ্তানি আয় করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ১০০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে সাড়ে ১৩ শতাংশ বেশি।


বাংলাদেশ টেনারস অ্যাসোসিয়েশন এর ডেপুটি সেক্রেটারি মিজানুর রহমান জানান, দেশে প্রতিবছর গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন বর্গফুট ফিনিশড লেদার উৎপাদন হয়, যার বেশির ভাগটাই রফতানি হয়। ট্যানারি কারখানাগুলো সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে স্থানান্তর হয়ে গেলে চামড়া অপার শিল্পের সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে বলে করছেন তিনি।

লেদারটেকশো প্রদর্শনী সম্পর্কে তিনি বলেন, শুরু দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। এই প্রদর্শনীর কারণে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক অংশে বেড়েছে। যার কারণে নতুন করে বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানির পরিমাণ বাড়বে।

প্রদর্শনীর দায়িত্বে থাকা আসক ট্রেড অ্যান্ড এক্সিভিশন্স লিমিটেডের পরিচালক টিপু সুলতান ভূঁইয়া বলেন, দেশি-বিদেশি বিভন্ন প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিয়েছে। চামড়া শিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তারা এই মেলা থেকে বিভিন্ন ধারনা নিতে পারবেন।

ইকোলিবান এর স্থানীয় প্রকল্প ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার ঠাকুর বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশে তৈরি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই বাংলাদেশে ট্যানারী ও লেদার গুড্স ইন্ডাষ্ট্রি পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই শিল্পে নতুন নতুন উদ্যোক্তারা আসছেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নকৃত সুইচএশিয়া প্রোগ্রাম এর অন্তর্গত ইকোলিবান প্রকল্পের মাধ্যমে ট্যানারী ও লেদার গুড্স ইন্ডাষ্ট্রি পরিবেশ বান্ধব করণে কাজ করা হয়। ইতিমধ্যে ইকোলিবান বাংলাদেশের ৩০টি এস সি পি ইন্ড্রাষ্টি, ২০টি ই এম এস ইন্ড্রাষ্টি,২০টি ইকোল্যাবেলিং ইন্ড্রাষ্টি প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে।


বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় চামড়ার বাজার রয়েছে জেনে আগ্রহী হয়ে প্রদর্শনীতে এসেছে চীনের চামড়াজাত পণ্য আমদানি-রপ্তানি প্রতিষ্ঠান ওলডা। প্রতিষ্ঠানটির বিপণন বিভাগের প্রধান ম্যাগি চ্যান বলেন, “আমরা বাংলাদেশের বাজার যাচাই ও ‘এক্সপ্লোর’ করতে এসেছি। বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি নিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে।”

ভারতীয় ভার্সেটাইল সুজ কোম্পানির বাংলাদেশ প্রতিনিধি কামাল হোসেন বলেন, গতবছরও এ মেলায় এসেছি। ভালো সাড়া পেয়েছি। আশা করি এবারও সাড়া পাব।

লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১১০টি রফতানিমুখী কারখানায় চামড়ার পাদুকা তৈরি হয়। এর মধ্যে এপেক্স, এফবি, পিকার্ড বাংলাদেশ, জেনিস, আকিজ, আরএমএম, বেঙ্গল এবং বে’র রয়েছে নিজস্ব ট্যানারি ও চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা। এর বাইরে শুধু চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে এমন কারখানার সংখ্যা ২০৭টি।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ২১:২১ পি.এম