President

বিপিএলকে কেন্দ্র করে জুয়ার আসর ছড়িয়ে পড়ছে দেশের অলিগলির চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ইন্টারনেটে। এতে সর্বস্ব খোয়াচ্ছেন তরুণ যুবত থেকে শুরু করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। অপরাধবিজ্ঞানীরা বলছেন, ত্বরিত ব্যবস্থা না নিলে মহামারি আকার ধারণ করতে পারে সামাজিক অবক্ষয়ের এই নতুন মাধ্যম।

সিলেটের মাঠে তখন বিপিএলের সন্ধ্যার আসরের উত্তাপ। রাজধানীর বিভিন্ন চায়ের দোকানেও লেগেছে সে উন্মাদনার ছোঁয়া। অভিযোগ রয়েছে এসব দোকানেই বসানো হচ্ছে বিপিননকেন্দ্রিক জুয়ার আসর। খেলা দেখতে আসা বিভিন্ন লোকেরা বলেন, এখানে খেলা দেখতে আসি অন্য কিছু না। আর দোকানিরা জানান, যদি কেউ খেলা দেখতে এসে জুয়া ধরে তাহলে আমরা কি করতে পারি।

রাজধানীর শ্যামলী, নিউমার্কেট, রূপনগর কিংবা মোহাম্মদপুরে টিভি সাজানো এমন টঙ ঘর কিংবা চায়ের দোকান যেন একশ্রেণীর মানুষের কাছে অস্বাভাবিক এক বিনোদনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কখনও দলবেধে প্রকাশ্যে আবার কখনও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন হয়। শুধু যে রাতেই দরদাম হয় এমনটা নয়, দিনের আলোতেও ম্যাচ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় দরদাম।

ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রতিদিন বিভিন্নভাবে এই সব জুয়াতে টাকার পরিমাণ বাড়ছে। চাকরির কারণে হতাশা অথবা বিভিন্ন কারণে মানুষেরা জুয়া খেলেন। জুয়া খেলার সুযোগ রয়েছে অনলাইনেও। অভিযোগ রয়েছে জুয়া ভিত্তিক এসব সাইট অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে অঢেল অর্থ। বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই জুয়ারিদের অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন। অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন, পুলিশকে নজরদারির মধ্যে থাকতে হবে। যেখানে এই ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে তা বন্ধ করে দিতে হবে। ডিএমপির কর্মকর্তা বলছেন, পুলিশ এই ব্যপারে নজর রাখছে। এই ব্যপারে কোনো তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গেল সোমবার বিপিএলের বাজি ধরাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাড্ডায় ছুরিকাঘাতে নিহত হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র। বেশ কয়েক বছর ধরে ক্রিকেট উন্মাদনা মানুষকে শুধু নির্মল বিনোদনের খোরাক যোগায়নি। বরং নানা বিভক্তির বিপরীতে এই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই খেলাগুলোকে কেন্দ্র করে চায়ের দোকানগুলোতে যেভাবে জুয়ার আসর ছড়িয়ে পড়েছে তাতে এই খেলাগুলো ভবিষ্যতে কতটা সুনাম ধরে রাখতে পারবে সে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর

১০ নভেম্বর, ২০১৭ ১৩:২৩ পি.এম