President

“এ বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর”।

এটা আমাদের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের মহা বাণী। তিনি মন থেকে স্বীকার করেছেন বিশ্ব জগতে নারীর অবদান। কেননা সৃষ্টির প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত মানব সভ্যতার যে বিকাশ সাধিত হয়েছে, তা নারী-পুরুষ উভয়েই যৌথ প্রচেষ্টার ফল। সমাজের বা জাতির উন্নতির জন্য পুরুষের সাথে নারীদেরও যে বিরাট ভূমিকা রয়েছে তা অনস্বীকার্য। যে সমাজের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা নারী, সে সমাজে নারীকে উপেক্ষা করে জাতির কোনো প্রকার উন্নতি সাধন করা কি সম্ভব? নারীকে সমাজের উন্নতির সব কাজে দায়িত্ব নিতে হবে। নারী দায়িত্ব পালন না করলে সমাজ ব্যবস্থা, ঘরে ও বাইরে কোথায়ও জাতির রক্ষা নাই। মুসলিম সমাজে ইসলাম ধর্মে আজ নারী সম্মানিত কতদূর? আমাদের প্রিয় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) নিজেও নারীকে পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছেন। কিন্তু আজ আমার এই আধুনিক যুগে এসেও নারীর মর্যাদা কতটুকু দিচ্ছে আজকের পুরুষ সমাজ? পুরো বিশ্বে আজ নারীকে পুরুষের পাশাপাশি কঠিন কর্তব্য সম্পাদন ও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে। ঘরে বাইরে কোথাও নারীর ভূমিকা অস্বীকার করার বিন্দুমাত্র উপায় নাই। তবুও যেন আজও নারীর পরিপূর্ণতা পায়নি। যেমন একটি নারী যখন জন্ম নেয় তখন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাকে পৃথিবীর সকল স্বাদ বিসর্জন দিতে হয়। এ নতুন কিছু নয়। পুরুষ শাসিত সমাজে নারীকে দমিয়ে রাখার মনোভাব আজও মুক্ত হতে পারেনি। কারণ নারীর মনে আছে বিশালতর স্বামী ভক্তি। যার পরিণিত হয় দাসত্বরূপে। নারীকে যতই এই পথ হতে অগ্রসর করা হোক না কেন। নারী কখনো কোনো যুগে পারবে না মন থেকে এ দাসত্ব দূর করতে। কারণ যতদিন না পর্যন্ত পুরুষগণ নারীর প্রতি তাদের দৃষ্টির পরিবর্তন না করবে।

একজন মেয়ে যখন ধীরে ধীরে বড় হয়। শারীরিক পরিবর্তনের সাথে সাথে তার মানসিক পরিবর্তনও সমান তালে ঘটতে থাকে। হ্যাঁ এক্ষেত্রে একটা ছেলের যেভাবে পরিবারে মূল্যায়ন করা হয় একটা মেয়েকে করা হয় না। পোশাক, খাবার, চিন্তা ভাবনায় মূল্যায়ন পরিবার থেকে একটা ছেলে যতটুকু পায় একটা মেয়ে ততটুকু দূরের কথা তার অর্ধেকও পায়না। বাজারের বড় রুই মাছের মাথাটা ছেলেকে দাও। “বুদ্ধি বাড়বে ছেলে বড় হয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হবে। আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে।” কিন্তু একবারও ভাবেনা পাশে ছোট্ট অবুঝ মেয়েটিও একদিন ক্ষুদ্র থেকে অনেক বড় কিছু হবে।

ছেলেটির পাশে তার দিকেও নজর দেওয়া সমান তালে জরুরি তা যেন বুঝে না। একজন ছেলের পাশাপাশি মেয়েটিও যে পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন তা কখনো চিন্তা করে না আমাদের বাবা-মায়েরা। একটি মেয়ের বয়স যখন বার বা তের তখন তার ঋতুস্রাব দেখা দেয়। সে তখন কিভাবে নিজেকে সামলাবে তা জানেনা। লজ্জায় ভয়ে ভয়ে নিজে নিজে লুকিয়ে থাকে। ধীরে ধীরে আড়াল করে ফেলে নিজেকে। একসময় বিভিন্ন রোগ শোকে ভুগে ফুটন্ত গোলাপটি ঝড়ে পড়ে যায় অকালে অযত্নে। কারণ তার মা, বোন, ভাবি তাকে শিক্ষায় নি যে মেয়েদের এটা চিরন্তন, সৃষ্টির শুরু থেকে প্রকৃতির নিয়মে ঋতুস্রাব হয়ে আসছে। এটাকে প্রতিকার করা যায় না। এটার জন্য তার জন্য করনীয় কি? দেখা যায় বিয়ের পরে স্বামীর ঘরে গিয়ে মেয়েটিকে বিভিন্ন কথা শুনতে হয়। শুরুতেই মেয়েটির সংসার ভেঙ্গে যায়। অপমানের জ্বালা সইতে না পেরে মেয়েটি বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। কিন্তু আমার প্রশ্ন এর জন্য কি আপনার আমার আদরের বোন কিংবা আত্মীয়টি দায়ী? না দায়ী নয়, দায়ী আমাদের সমাজ। দায়ী আমাদের বন্ধু-বান্ধব ও গুরুজন, আমাদের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা। মেয়েলি সমস্যার গুরুত্ব না দেওয়ায় পৃথিবীতে হাজারো নিষ্পাপ মেয়ে অকালে অনাদরে ঝড়ে পড়ে যায়। এর দায়ভার কে নিবে? রাষ্ট্র? সমাজ?

শিক্ষাক্ষেত্রে দেখা যায়, একজন পুরুষকে যেভাবে সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয় কিন্তু একজন নারীকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। নারীরা এখনো অবহেলার পাত্রী পুরুষদের কাছে। কারণ এখন শিক্ষিত পুরুষরা তাদের সাথে সমাজে মানাবে এমন যোগ্য শিক্ষিত পাত্রী চায়। কিন্তু বাবা মা তাদের আদরের মেয়েটিকে অনেক পড়াশুনা শিখিয়ে যোগ্য করে তুলে ঠিকই। কিন্তু যোগ্য পাত্রের যোগ্য পাত্রী আজও তৈরি করতে সক্ষম হয়নি। কারণ আমাদের আজকের শিক্ষিত সমাজ ব্যবস্থায় যোগ্য পাত্রের চাহিদা ব্যাপক প্রসারতা লাভ করেছে। পাত্র যোগ্য কৌশলগত মূল্য ততটাই বাড়বে। মেয়ের বাবার ঘাড় মটকে সিড়ি তৈরি করার আধুনিক নীতির বাজার বেশ ভালই জমেছে। যৌতুকের দাড়ি পাল্লা দিন দিন ভারী হয়েই চলেছে।

যার ফলে যৌতুকের অপমান, অত্যাচার, জ্বালা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে। না হলে তার ফলাফল হয় ভয়াবহ। আবার দেশের অনেক অঞ্চলে নারীদের অপূর্ণ বয়ষ্ক বিয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন না যেতে না যেতে তার ভিতরে ধারণ করে আরেক জনকে। অপুষ্টি, কু-চিকিৎসার ফলে মা ও শিশু দুজনেই থাকে ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে মারা যাওয়ার বা অপুষ্ট বাচ্চা জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। কারণ একজন মা মাতৃগর্ভকালীন সময়ে তার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে হয়। পুষ্টিকর খাবার খেতে হয়। বিশ্রামে থাকতে হয়। স্বামীর ভালবাসা ও পারিপার্শ্বিক সবার সহানুভূতি দরকার হয় তা কি সমাজে আজও একজন মা কে দেওয়া হয়। যে মানুষটি তার ভিতরে আরেকটি মানুষকে ধারণ করার ক্ষমতা রাখে তার প্রতি এই নিষ্ঠুর আচরণ কি নারীর অধিকারের কথা বলে?

আধুনিক যুগে পা রেখেও আমাদের আজকের পুরুষেরা নারী শাসনে লিপ্ত। তাদের পুরুষশাসিত মনোভাব দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগের যুগে নারীরা অশিক্ষিত থাকায় তাদের অধিকার আদায় করার ইচ্ছে ছিলনা। স্বামী ভক্তি দাসত্ব যেন রক্তে মিশে গিয়েছে পুরো নারীজাতির। এখন নারীরা শিক্ষিত হয়েও ঘরে বাইরে সমানতালে নির্যাতিত হচ্ছে। যেমন পুরুষরা একজন শিক্ষিত সহধর্মিনী কামনা করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পুরুষরা চায়না নারী ঘরের বাইরে যাক। আদিম যুগের চিন্তা ভাবনা এখন আরও উন্নতভাবে ভর করেছে আজকের শিক্ষিত পুরুষদের উপর। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে পরিবারের স্বামী দুজনেই চাকরী করে দুজনেই উপার্জনের জন্য ঘরের বাইরে যায়। দুজনের চাকরীর সময় সূচী একই সময়ে পড়ায় আমাদের আজকের স্বামীনামক ব্যক্তিটির অপ্রীতিকর কথা শুনতে হয়।

এমনকি একজন নারী যখনি তার কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে সফল তখনি সমাজের কিছু অবাঞ্ছিত পুরুষগণ ছুড়ে দেয় কিভাবে নারী হয়ে উপরে উঠার স্বপ্ন বাস্তব হয়। আমাদের গায়ের জোর বেশি আমরা পুরুষ হয়ে কেন অগ্রসর হইনা। এক্ষেত্রে আমি বলব নারী পুরুষের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আসুন সুন্দর সমৃদ্ধশালী একটি রাষ্ট্র গঠন করি। আপনার আমার ভালোবাসার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আগামীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মটির জন্য। একজন শিক্ষিত মা’ই পারে একজন শিক্ষিত জাতি উপহার দিতে। এক্ষেত্রে আপনাদের পুরুষদের দৃষ্টির পরিবর্তন সবার আগে দরকার। নারীকে ফেলে এভাবে খুরিয়ে খুরিয়ে আপনি পুরুষদের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়। কারণ স্রষ্টা তাকেই সাহায্য করে যে নিজে তার ভাগ্য পরিবর্তনে তৎপর হয়।

নারীকে তুচ্ছ ভেবে আর নিজেদের পরিচয় শ্রেষ্ঠ পুরুষ হিসেবে গণ্য করার দিন শেষ। এখনো আমাদের প্রায় প্রতিটি ঘরে নারীকে তার পাওনা মর্যাদাটুকু দেওয়া হয় না। যেমন একজন দম্পতি একই সময়ে অফিস থেকে বাসায় ফিরে দুজনেই সমানভাবে ক্লান্তিবোধ অনুভব করে। এক্ষেত্রে দক্ষ স্বামীটি চায় তার অর্ধাঙ্গিনী সাজগুজ করে তার হাত পা টিপে দিক। ভালবাসার সহিত মনযোগ সহকারে এক কাপ চা বানিয়ে দিক। স্বামী নামক একজন দক্ষ পুরুষটি একবারও ভাবে না যে তার মতই তার অর্ধাঙ্গিনীটি অন্যের দাসত্ব করে এসেছে। তারও ক্লান্তিবোধ আছে তারও অবসাদ আছে। এ যেন চিরাচরিত আমাদের দক্ষ স্বামীদের তৈরি করা সামাজিক দাসত্ব প্রথা?

ঘরের পাশাপাশি বাইরে সমানভাবে আধুনিক নিয়মে নির্যাতিত হচ্ছে আজকের নারীরা। জনবহুল স্থানগুলোতে দেখা যায় আপনার আমার বোনটি যখন রাস্তাঘাটে চলাফেরা করে তখন হিংস পুরুষটি কিভাবে আলতো করে নারীটির গায়ে তার হাতের ছাপ তৈরি করে দেয়। এক্ষেত্রে দক্ষ পুরুষদের কাছে আমার প্রশ্ন রইল একি দক্ষ পুরুষ নাকি কোনো হিংস্র দক্ষ পুরুষ?

নারী কি শুধু ভোগের বস্তু? বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন লিখেছিলেন “জাগো গো ভগিনী” নারীগণ তোমরা জেগে ওঠো। কিন্তু আজ আমার প্রশ্ন নারীগণ কি আজও জাগিতে পারিয়াছে? না পারে নাই। তারা আজও ভয় পায় পুরুষদের কে। আগের যুগে পুরুষরা ভাবত তাদের গায়ের জোড় বেশি বলে নারীরা তাদের পায়ের নিয়ে থাকবে। এখনো পুরুষেরা বলে স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত। এটা তাদের তৈরি করা হাদিস। স্বামী হল জীবন চলার দুজনের দুজনে চাওয়া পাওয়ার প্রতি সম্মানের সম্পর্ক। আরও পুরুষদের নিকট থেকে শুনি একজন পুরুষ জান্নাতে গেলে তার জন্য সত্তর জন করে হুর থাকবে। আমার প্রশ্ন একজন নারীরও বেহেশতে গেলে কি একই নিয়ম হবে?

আমাদের সমাজে মুসলিম নারীরা এখন বাবা মায়ের সম্পত্তি ভাগ পায়। আধুনিক এই যুগে এসে হিন্দু নারীগণ পায়না তাদের বাবার সম্পত্তি। হিন্দু নারীগণ কেবলই জন্মেছে স্বামীদের দেবতাস্বরূপ মানতে। তাহলে নারীকে কোথায় তার পূর্ণ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে? আমরা নারীরা কেন এত অবহেলার পাত্রী? আমরা তো পুরুষদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করি না। তাহলে আমাদের পাওনা অধিকার দিতে দক্ষ পুরুষদের এত কার্পণ্য কোথায়? ধর্ম ভেদাভেদ বাদ দিয়ে নারীকে নারী ভাবুন। এটা সমাজের জন্য মঙ্গলকর। আপনি পুরুষ ও সভ্য জাতির জন্য শুভ কল্যাণকর।

ইন্টারনেটের এই যুগে এসে নারী নির্যাতন আরো বেড়েছে। তথ্য প্রযুক্তির যুগে সবাই ইন্টারনেট সম্পর্কে জানবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বেশিরভাগ নারীকেই কেনো নির্যাতন সইতে হবে? যেমন ফেসবুকে একজন পুরুষ একজন নারীকে যে ভাবে বিভ্রান্ত করে। তা আমাদের সমাজকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দিচ্ছে। ফেসবুকে একটা মেয়ের ছবি পেলে বা তাকে যে ভাবে জ্বালাতন করা এবং মেয়েটির মেসেজ বক্সে হাজার হাজার মেসেজে ভরে যায়। এগুলো বার্তা কখনো সভ্য নয়। পুরুষগণ এক্ষেত্রে আপত্তিকর কথা বলে। শুরুতেই প্রশ্ন করবে তোমার স্কাইপি আইডি আছে কি না? কারণ তারা সমবসময় মেয়েটিকে ব্লাক মেইল করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। ভালবাসা নামক জাল পেতে নষ্ট করে দিচ্ছে হাজার মেয়ের জীবন। বোকা মেয়েটি বিশ্বাস করে ভালবাসার মানুষটিকে সপে দেয় তার সম্ভ্রম। একে অন্যকে কথা ও পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়। সম্পর্কের টানা পোড়ন লাগে। তখন ছেলেটি কত সহজেই তার বন্ধু মহলে বলে বেড়ায় সে মেয়েটির কোথায় কোথায় হাত দিয়েছে। একবারও ভাবেনা এই মেয়েটি সামাজিকভাবে কতটুকু অসহায় হয়ে পড়ছে। নারীর প্রতি কেন আজও এমন সহিংসতা করে পুরুষ? মা-বাবার পরে শিক্ষকের অবস্থান। আর এই শিক্ষকেরা বাবা হয়েও ছাত্রী নামক মেয়েটিকে ব্ল্যাকমিল করে অবলিলায়। পাশ করা মুর্খ বিদ্যা ভয় দেখিয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে হাজার মেয়ের জীবন। শিক্ষা ক্ষেত্রেও দেখা যায় নারীর প্রতি এমন সহিংসতা।

বেশ কিছুদিন আগে আমার একজন ছেলে বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম পুরুষ মেয়েদের ধর্ষণ করে কেন? আমার ছেলে বন্ধুটি আমাকে উত্তর দিল যৌন চাহিদা মিটানোর জন্য। আমি তাকে বললাম একজন পাঁচ-সাত বছরের মেয়েকে সে কিভাবে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের যৌন চাহিদা পূরণ করে। আর যৌন সম্পর্ক তো দুটি মনের একাগ্রতার বিষয়। কবিদের ভাষায় যদি বলি শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কথা বলে। তাহলে কিভাবে সম্ভব জোড় করে হিংস্র পশুর মত এই আচরণ করা। আমার ছেলে বন্ধুটি মাথা নিচু করে চুপ হয়ে গিয়েছিলো। আমি জানি এই প্রশ্নের জবাব কোন দক্ষ পুরুষের জানা নাই। আমাদের দেশে সরকার কর্তৃক অনুমতি প্রাপ্ত হাজার হাজার যৌনকর্মী রয়েছে। তারা বৈধভাবে যৌনকর্ম চালায়। তবুও কেন আমার ছোট বোনটির উপর হায়েনাদের চোখ এত তীব্র প্রখর?

নারী শুধু নারী নয়। এই যে তুমি পুরুষের সকল কাজে প্রেরণার উৎস। তাকে অবহেলা অযত্ন নয়। সম্মান কর তার প্রাপ্য অধিকারটুকু দাও। এই নারী যে চলন্ত সিড়ি আগামী প্রজন্মের জন্য। সভ্য জাতি সভ্য পুরুষ হতে চাও এখনই তাহলে নারীর অধিকার দিতে কাপর্ণতা বন্ধ কর। তোমাদের দৃষ্টির পরিবর্তন সমাজ পরিবর্তনে সবার আগে দরকার। নারী মুক্তির উপায় কি? আজ কতদূর পৌঁছালো নারী? নারী মুক্তির জয় গানে চলো এগিয়ে যাই। আবারও দেখা হবে, একই মুক্তির মিছিলে।


টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর

০৮ নভেম্বর, ২০১৭ ১৫:২৪ পি.এম