President

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অপব্যবহার রোধে লেনদেন সীমা কমানোর পর এবার অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ কত টাকা রাখা যাবে তার সীমা নির্ধারণ করে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কোনো গ্রাহক তার হিসাবে তিন লাখ টাকার বেশি স্থিতি রাখতে পারবে না। কোনো হিসাবে এর চেয়ে বেশি অর্থ থাকলে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তা নামিয়ে আনতে হবে। এতদিন গ্রাহকরা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে যে কোনো পরিমাণের অর্থ জমা রাখতে পারতেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালনাকারী ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অপব্যবহার করে হুন্ডি পথে রেমিট্যান্স এনে সুবিধাভোগির কাছে পৌঁছে দেওয়া, জঙ্গি ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন, ঘুষ লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক কড়াকড়ি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানতে চাইলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এমডি আবুল কাশেম মো. শিরিন বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা জমা রাখে বেশিরভাগ গ্রামের মানুষ। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলো এসব জমার ওপর সুদ দিয়ে থাকে। তবে এখন এক্ষেত্রে কেন সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হলো তার কারণ তার কাছে স্পষ্ট নয়।

তিনি বলেন, অর্থ জমা ও উত্তোলনের সঙ্গে মানিলন্ডারিং বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে স্থিতির সঙ্গে অপরাধের কী সম্পর্ক থাকতে পারে তা তার জানা নেই।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে একজন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের গ্রাহক তার ব্যক্তি মোবাইল হিসাবে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা স্থিতি রাখতে পারবেন। যে সব অ্যাকাউন্টে তিন লাখ টাকার বেশি স্থিতি রয়েছে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তা নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনতে হবে। এক্ষেত্রে হিসাবধারীর অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে তা করা যেতে পারে। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের অপব্যবহার রোধ এবং সুশৃঙ্খল ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এসব নির্দেশনা পরিপালন করতে হবে।

বিদেশ থেকে অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি বিকাশের দুই হাজার ৮৮৭ এজেন্টের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব এজেন্ট অন্য কোনো মোবাইল ব্যাংকিয়ের এজেন্টের হয়ে থাকলে তাও বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া যে কোনো লেনদেন পর্যবেক্ষণ করে সন্দেহজনক কিছু পেলে তাৎক্ষণিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটকে (বিএফআইইউ) অবহিত করতে বলা হয়েছে।

গত ১১ জানুয়ারিতে জারি করা অপর এক সার্কুলারের মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়ে লেনদেন সীমা কমিয়ে দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনার পর থেকে একজন গ্রাহক দিনে ২ বারে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা জমা এবং ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করতে পারেন। আগে দৈনিক ২৫ হাজার টাকা জমা বা উত্তোলন করা যেতো। আর মাসে একজন সর্বোচ্চ ২০ বারে এক লাখ টাকা জমা এবং ১০ বারে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করতে পারেন। এছাড়া আগে একই মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে একাধিক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার সুযোগ ছিল। তবে ওই নির্দেশনায় একটির বেশি থাকলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সেপ্টেম্বরভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নিবন্ধিত গ্রাহক রয়েছে ৫ কোটি ৭৭ লাখ। দেশের ৭ লাখ ৭৩ হাজার এজেন্টের মাধ্যমে এসব হিসাবধারীরা লেনদেন করছেন। গত সেপ্টেম্বরে মোট ২১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ঈদের মাস হওয়া আগস্টে অবশ্য লেনদেন হয়েছিল ৩২ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর

০৭ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০৩ এ.ম