President

শিক্ষক জাতির আলো । একজন সৎ শিক্ষক একটি জাতিকে জাগিয়ে তোলে । শিক্ষকের এই প্রচেষ্টার পেছনে রয়েছে অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধা । প্রতি বছরের ন্যায় এবারও লন্ডনের গ্লোবাল টিচার প্রাইজ সংগঠন ১৭৯ দেশের ২০ হাজার আবেদনকারী শিক্ষক থেকে সেরা ১০জনকে খুঁজে বের করে । এই সেরা ১০জনের শিক্ষায় রয়েছে একই সুর -- আনন্দ, উৎসাহ, সচেতনতা, বাস্তবধর্মী শিক্ষা ও সহযোগিতা । জেনে নিন সেরাদের জীবনদর্শন, প্রচেষ্টা ও সাফল্যের কথা ।

ম্যাগি ম্যাকডোনেল
ম্যাগি ম্যাকডোনেল । কানাডার নোভা স্কটিয়ায় তাঁর জন্ম। স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর ৫ বছরের জন্য আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিতে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের ওপর কাজ করেন । তাঁর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন হবার পর পরই নিজ গ্রামের কথা ভাবেন, যেখানে অপরাধ, অভাব ও নানা প্রতিবন্ধকতা একটি সম্প্রদায়কে অন্তরায় করে রেখেছে । কানাডার আর্কটিকের পার্শ্ববর্তী স্যলুইট গ্রামে ম্যাগি ৬ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন । শিক্ষকতার শুরুতে এখানে নানা সমস্যা জর্জরিত পরিবেশে নিজেকে টিকিয়ে রাখেন । তাঁর অনেক সহকর্মীরা কোন উপায় না পেয়ে চাকরি ছেড়ে দেন এমনকি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও বিষণ্ণতার কোনো ওজুহাত দিয়ে বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যান যেখানে ম্যাগি আজ তাঁর নিজের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তৈরি করে টিকে আছেন ।

স্যলুইট গ্রামে অধিক মাত্রায় যৌনপীড়ন, কিশোরীদের অল্প বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ও নারীকে অতিমাত্রায় আভ্যন্তরীণ কাজে নিয়োজিত রাখা এগুলো ছিল নিত্যদিনের ঘটনা । ম্যাগি প্রথমেই এসে কিশোরীদের বাস্তবধর্মী শিক্ষা দেন, জীবনকে টিকিয়ে রাখার শিক্ষা দেন। তিনি একটি ডে কেয়ার সেন্টারে অংশীদার হয়ে সেখানে তাঁর ছাত্রীদের পড়াশুনার পাশাপাশি কাজের সন্ধান করে দেন । তিনি কিছু অর্থও অনুদান করেন বিদ্যালয়ে, যা থেকে ওখানের শিক্ষার্থীরাই পুষ্টিসম্পন্ন খাবার তৈরি করে তাদের নিজেদের ও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্যে ।

অঞ্চলটির নানা বঞ্চনা, যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্নতা ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে এই সম্প্রদায়ের তরুণরা অপকর্ম ও মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ে । ম্যাগি তাদের জন্য একটি ব্যায়ামাগার খুলে দেন যেখানে প্রতিদিন তরুণরা এসে শারীরিক অনুশীলন চালিয়ে যায় । ম্যাগির বিশ্বাস, এসকল কর্মের মাধ্যমে দুশ্চিন্তা দূর করে শারীরিক ও মানসিক উন্নতি সম্ভব । নানা রকম প্রশিক্ষণ যেমনঃ মাদক প্রতিরোধ, আত্মহত্যা ঠেকানো বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও দলবদ্ধ দৌড় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সম্প্রদায়টিকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তোলেন । এভাবে গ্রামের অধিবাসীরা ম্যাগিকে অধিক মাত্রায় পছন্দ করতে শুরু করে । ‘সমস্যা’ এবং তার ‘সমাধান’ এই পদ্ধতিতে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলা শুরু হয় ম্যাগি ও স্যলুইট গোষ্ঠীর ।

 

সালিমা বেগম
সালিমা বেগমের জন্ম পাকিস্তানের একটি নির্জন গ্রামে । নারীশিক্ষার শত বাঁধার মাঝে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন । পরে শিক্ষকতা পেশায় জড়িয়ে পড়েন । তাঁর বিশ্বাস, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন বাস্তবধর্মী শিক্ষা । তিনি অভিভাবকদের সব সময়ই শিশুশিক্ষা ও নারীশিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন ।

তাঁর কর্মজীবনে নিজ প্রদেশে ৭ হাজার এবং পুরো পাকিস্তান জুড়ে ৮ হাজার শিক্ষকদের শিক্ষার মান পুনর্গঠনে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন । যুক্তরাষ্ট্র (ইউএসএআইডি) তাঁর এই শিক্ষক প্রশিক্ষণের অবদানকে স্বীকৃতি দেয় । পরে তিনি যে বিদ্যালয়ে কাজ করতেন সেখানে প্রধানশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পান এবং তাঁর প্রচেষ্টা দ্বারা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরীক্ষায় ভালো ফলাফলও করিয়ে দেখান । ইতোমধ্যে তাঁর বেশ কিছু গবেষণাধর্মী লেখাও ছাপা হয় ।

আশেপাশের পরিবেশ ও প্রতিবেশ সম্পর্কে জানার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী তার জ্ঞানকে প্রশমিত করতে পারে । সালিমা সব সময়ই তাই চেষ্টা করতেন ছাত্র-ছাত্রীদের সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কে জানাতে । শিক্ষার্থীরা কীভাবে তাদের জ্ঞানকে বাড়াবে, উন্নত বিশ্বের সাথে কীভাবে যোগাযোগ করবে, ও দলবদ্ধ হয়ে কীভাবে কাজ করবে এ সকল বিষয়ে তাঁর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে কুণ্ঠা বোধ করতেন না । সামাজিক, ধর্মীয় ও মানবিক দিকগুলোর একটু বেশি প্রাধান্য ছিল তাঁর শিক্ষায় ।

 

ড্যাভিড ক্যালি
কর্মজীবনে আসার পিছনে স্পেইনের ড্যাভিড ক্যালিকে কিছুটা অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার মাঝে কাটাতে হয় যদিও ড্যাভিড ভাগ্যবশত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি পড়ানোর কাজটি পেয়ে যান । শিক্ষার নানান সমস্যাসংকুলতার কথা ভেবে ড্যাভিড প্রায় ১০ বছর আগে একবার ইউটিউবে গণিত শেখার ওপরে একটি ভিডিও ছাড়েন । খুব দ্রুত তিনি তাঁর এই ভিডিও দিয়ে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন । পরে তিনি গণিত, পদার্থ ও রসায়ন বিজ্ঞান বিষয়ক ভিডিও আপলোড করা শুরু করেন । তিনি অনুভব করতেন যে, অনেক পরিবারেরই শিক্ষক রাখা বা সন্তানকে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সামর্থ্য নেই । তাই তিনি ঐসব শিক্ষার্থীর কথা ভেবে গণিত ও বিজ্ঞানের ভিডিও ইউনিকোস ওয়েবসাইট থেকে আপলোড করেন যা বর্তমানে ৩০ মিলিয়ন শিক্ষার্থী অনুসরণ করছে ।

ড্যাভিডের বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম দ্বারা সব কিছুই শেখা সম্ভব । তাঁর ওয়েবসাইট থেকে একজন শিক্ষার্থীর পাশাপাশি একজন শিক্ষকও চাইলে ধীরে ধীরে গণিতের সকল বিষয় জানতে পারে । এটা শুধু একজন শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর গণিত শেখার জন্যই নয়, যে কেউ আধুনিক প্রযুক্তিকেন্দ্রিক বিজ্ঞান ও ভালো গণিত শেখার আগ্রহ থাকলে এখান থেকে শিখতে পারে বলে তিনি মনে করেন ।

 

রেমন্ড চ্যাম্বারস
রেমন্ড চ্যাম্বারস লেখাপড়া করেন কম্পিউটার বিজ্ঞানের ওপর । দুর্ভাগ্যবশত শিক্ষকতার পেশায় চলে আসেন । পরে অবশ্য তিনি এই পেশায় দারুন মজা পেয়ে যান । শুরুতে আইসিটির ঐতিহ্যগত ও অনুন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা থাকার বিষয়টি কেন্দ্র করে রেমন্ড তাঁর পরিকল্পনায় নতুন সফটওয়্যার আবিষ্কার ও তার ব্যবহার নিয়ে এগিয়ে আসেন । তাঁর পাঠদান পদ্ধতিতে, শিক্ষার্থীদের পাঠে নিয়োজিত রাখা ও আনন্দের সাথে বিষয়টিকে তুলে ধরা -- এটাই তাঁর লক্ষ্য । পরে কম্পিউটার শিক্ষকদের কথা চিন্তা করে ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে বিচিত্রধর্মী কাজ ও লেখা চালিয়ে যান । ধীরে ধীরে তাঁর কর্ম ও মেধার উৎকর্ষতা ছড়িয়ে পরে শিক্ষা পরিবেশে । ২০১২ সালে মাইক্রোসফট ইউরোপিয়ান ইনোভেটিভ টিচার্স কনফারেন্সে তাঁর প্রজেক্ট নিয়ে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় । তখনই বোঝা যায় যে তাঁর কতো ভক্ত ! এর কিছুদিন পরই যুক্তরাজ্যের সরকার তাদের আইসিটি বিষয়টি কম্পিউটার বিজ্ঞানে রূপ লাভ করার কথা ভাবেন এবং তা রূপলাভও করান । রেমন্ডকে আরও দায়িত্ব দেয়া হয় সকল শিক্ষকদের এ বিষয়ে সঠিক প্রশিক্ষণ দেয়ার । তিনি ইউটিউব চ্যানেল খোলেন যেখানে তাঁর অনেক শিক্ষা বিষয়ক ও কম্পিউটার বিষয়ক ভিডিও আপলোড করেন । তাঁর এই উদ্ভাবন পরবর্তীতে বিবিসির মাধ্যমে শিক্ষকদের উন্নয়নে জাতীয় ভাবে ভুমিকা রাখে এবং ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের অনেক পুরস্কারে রেমন্ড ভূষিত হন ।

 

ম্যারি ক্রিস্টিনি ঘানবারি জোহরমি
আত্মমর্যাদা, প্রেরণা ও সহানুভূতি এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে ম্যারি ক্রিস্টিনি তাঁর প্রাণপ্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের অভিনয় ভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে সকলকে গড়ে তোলেন । তিনি সব সময়ই খেলাধুলা ও শারীরিক অনুশীলনে বেশি উৎসাহ দিতেন । বিভিন্ন দেশের থেকে আসা শরণার্থীদের নিজদেশ জার্মানে সাহায্য করতেন । তাঁর দর্শন ছিল এমন যে, কে জিতল বা কে হারল এটা বিষয় নয় । মূলত এটি দলবদ্ধ ও ছন্দবদ্ধ কাজের প্রচেষ্টা । তাঁর গণিত শিক্ষা ও খেলাধুলা শিক্ষার সংমিশ্রণ করে তিনি এক নব ধারার শিক্ষা আবিষ্কার করেন যা জার্মানের এবং নাইজেরিয়ার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সুবিধা বঞ্চিত ও শরণার্থীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ ভুমিকা রাখে । তাঁর শিক্ষায় মূলত আনন্দ, আশা ও সুযোগের কথা উঠে আসে । দেশীয় সংস্কৃতি জানা শ্রেণিকক্ষের ভেতর বা বাহিরের সকল দিক সম্পর্কে তিনি বিস্তর আলোচনা করেন যা পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ভাবে প্রশংসিত । ম্যারি ক্রিস্টিনি তাঁর প্রতিভার জন্য ২০১৪ সালে আফ্রিকা থেকে সনদ ও ২০১৬ সালে জার্মান থেকে সনদ লাভ করেন ।

 

ট্র্যাসি-অ্যান হাল
ট্র্যাসি-অ্যান হাল শারীরিক অসুস্থতার জন্য বিদ্যালয় জীবনে তেমন একটা আনন্দ করতে পারেনি । উচ্চশিক্ষার দিকে না এগিয়ে তিনি মোটরগাড়ি সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষা নিয়ে একটি গ্যারেজে কাজ করেন । পরে তিনি জ্যামাইকায় একটি কারিগরি কলেজ থেকে ডিগ্রি লাভ করেন । প্রথমে তিনি একদল ছাত্রদের নিয়ে কাজ শুরু করেন । তাদের তিনি নিজ হাতে গড়ে তোলেন । তাঁর শিক্ষা ছিল বাস্তবধর্মী শিক্ষা । তাঁর অনেক ছাত্রদের মধ্যে কেউ পুলিশ, কেউ হোটেল ম্যানেজার, কেউ রান্না বিশেষজ্ঞ ও কেউবা গাড়িচালক হয় । তাদের পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য উৎসাহ দেন । বন্ধুসুলভ পরিবেশে তাঁর শিক্ষাপদ্ধতি প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাঝে প্রশংসার দাবিদার হয় এবং তাদের যথেষ্ট উন্নতি আনার পেছনে ট্র্যাসি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান ।

ট্র্যাসি-অ্যান অনেক বিদ্যালয়ে কাজ করেছেন । সব জায়গায় সমান সফলতা এসেছে তাঁর আপ্রাণ প্রচেষ্টায় । অনেক গাড়ি ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করে ছাত্রদের বৃত্তির ব্যবস্থা করেন এবং এই পেশায় সফলতা ও ভবিষ্যৎ তরুণদের সামনে তুলে ধরেন । পরে অবশ্য স্বল্প আয়ের পরিবারের সহযোগিতার জন্যও তিনি বিদ্যালয় খোলেন ।


উইম্যরসন দ্য সিলভা নগুইরা
উইম্যরসন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীববিজ্ঞানে লেখাপড়া শেষ করে ব্রাজিলের একটি স্কুলে যোগ দেন । তিনি যে স্কুলে যোগ দেন সেটিতে অপরাধের মাত্রা এতো অধিক ছিল যে ওখানের অন্যান্য সহকর্মীরা সব সময়ই নানা ভাবে হতাশ থাকতেন । সেখানের বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৫০ ভাগ ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয় থেকে চলে যায় বা কেউই আর লেখাপড়া করে না, এ নিয়ে উইম্যরসন ভাবেন । তাঁর বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনায় যারা রয়েছেন এমনকি এলাকাবাসীদেরও ডেকে তাঁর নিজস্ব পরিকল্পনার কথা বলেন । পরে তাঁরা দলবদ্ধ হয়ে একটি প্রজেক্ট ‘ক্ষুদে বিজ্ঞানীঃ একটি নতুন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শিরোনাম করেন । এতে দেখা যায় যে শিক্ষার্থীদের মাঝে আচরণগত পরিবর্তন আসতে শুরু করে । উইম্যরসন প্রথাগত টেবিল, চেয়ার ও বোর্ড থেকে বেরিয়ে এসে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে একত্রিত হয়ে প্যারডি সঙ্গীতের আনন্দের মধ্যে তাদের প্রজেক্টের কাজ করাতেন । শ্রেণির বাহিরে যেয়ে নিকটস্থ শহরের দুষিত মাটি, পানি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানালেন । সেগুলো বিদ্যালয়ের গবেষণাগারে এনে পরীক্ষা করার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রায় ৯০ ভাগ ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয় ত্যাগ, মাদক ও অপরাধ থেকে ঠেকান । বর্তমানে বিদ্যালয়টি রিও শহরে বেশ প্রশংসনীয় । এগুলোর পাশাপাশি উইম্যরসন তাঁর প্রচেষ্টার দ্বারা অনেক পুরস্কার লাভও করেন ।

 

কেন সিলবার্ন
কেন সিলবার্ন ছিলেন সিডনির একটি উপশহরে অসচ্ছল পরিবারের সন্তান । ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের শিক্ষক হবার তাঁর ইচ্ছা জাগে । এবং পরে তিনি শিক্ষক হয়েও দেখান । কেনের অনেক ছাত্রই বিজ্ঞানে ভালো করে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে । তিনি শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে নানান প্রজেক্টের বিস্তর বিষয়ে কাজ করেন । কেন অনেক পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁর মধ্যে ২০১৫ সালে মাধ্যমিক বিজ্ঞান শিক্ষার সর্বোচ্চ সম্মাননায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় প্রধান মন্ত্রীর পুরস্কার । ভারতীয় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সহ অনলাইনে তাঁর প্রশিক্ষণধর্মী অনেক ভিডিও রয়েছে যা বিজ্ঞান মনস্কদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে । তিনি বিজ্ঞান শিক্ষার ওপর ১২টি বিদ্যালয়ে পাঠদান করান । বর্তমানে অনলাইনে ভারতের প্রায় ২.৫ মিলিয়ন শিক্ষার্থী তাঁর অনলাইন পাঠদান থেকে উপকৃত হচ্ছে ।

মাইকেল ওয়ামায়া
কেনিয়ার নাচের শিক্ষক মাইকেল ওয়ামায়া । ছোটবেলায় আর্থিক অসচ্ছলতার মাঝে বড় হন । দরিদ্র্যতার কারণে বিদ্যালয় থেকে তাকে বের করে দেয়া হয় । ভাগ্য আবার তাঁর অনুকূলে ফিরে আসে । পরে কেনিয়াতে একটি অডিশনে অংশগ্রহণ করে আবারও পড়ার সুযোগ করে নেন । ২০০৯ সালে নাচের শিক্ষক হিসেবে কাজে যোগ দেন । এতিম, অসহায় বিশেষ করে আফ্রিকার সুবিধা বঞ্চিত এলাকার শিশুদের ও কেনিয়ার বস্তিবাসী শিশুদের দিকে তাঁর মনোযোগ রাখেন । প্রথমে একটি টিনের ছাওনির নিচে নাচ শেখানো শুরু করেন । এই প্রশিক্ষণ ও প্রচেষ্টা একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর শিক্ষাকে আরও উৎসাহিত করে এবং তিনি এগিয়ে যান । শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকে তাদের যোগ্যতার দ্বারা কেনিয়ার জাতীয় মঞ্চে নাচের সুযোগ করে নেয় । তাঁর মতো একজন দক্ষ প্রশিক্ষক পেয়ে শিক্ষার্থীরা আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যায় । এই প্রতিভাবান শিক্ষকের নৃত্যশিল্পে যোগ হয়েছে আত্মমর্যাদা ও সচেতনতার দিক তথা সামাজিক শিক্ষার গুরুত্ব যা সেখানকার মানুষের মনে নজর কাড়ে । বিদ্যালয় ত্যাগ, মাদক ব্যবহার ও অল্প বয়সে অন্তঃসত্ত্বা এসবের বিরুদ্ধে তিনি বেশ সোচ্চার ছিলেন সর্বত্রই।

বোয়্যা ইয়াং
বোয়্যা ইয়াং একজন চীনের মনোবিজ্ঞানী ও শিক্ষক । তিনি প্রধানত দুর্বল শিশু, অভিভাবক ও বয়ঃসন্ধিদের নিয়ে কাজ করেন । গত ৩ বছর ধরে বোয়্যা তাঁর বিদ্যালয়ে বালিকাদের পেশাগত তথ্য ও উপদেশ দিয়ে আসছেন । তরুণ-তরুণী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মনোজ্ঞ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়ে সচেতনতা ও কর্মস্পিহা বৃদ্ধিতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন যা প্রশংসার দাবিদার । তাঁর তৈরি বেশ কিছু শিক্ষক স্থানীয় বিদ্যালয়গুলোতে ব্যক্তিগত ও সামাজিক শিক্ষার পাশাপাশি মনোবিদ্যা শিক্ষা দেন । তিনি শিক্ষার্থীদের সচেতনতা ও ক্ষমতার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে মনোবিদ্যা বিষয়কে আরও উন্নত করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ।

 

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর

২৮ অক্টোবর, ২০১৭ ১৭:১৬ পি.এম