President

 

ভূমিধসে বিপর্যস্ত জনপদ রাঙামাটির পরিস্থিতি শোচনীয় আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। সেখানকার দুর্গত মানুষসহ সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সেখানে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে অবিরাম বর্ষণে এবার যে মাত্রায় পাহাড় ও ভূমিধস এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলায় এ পর্যন্ত ১৪৭ জনের নিশ্চিত প্রাণহানি ঘটেছে। সামনে আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে নতুন পাহাড়ধসের আশঙ্কাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে। শুধু রাঙামাটি শহরেই ১৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় আড়াই হাজার লোক।

 

প্রথমআলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাঙামাটি জেলার ২৪২ কিলোমিটার সড়কের ১৪৫টি স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের দুটি স্থানে এখন সড়ক বলে কিছু নেই। যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ থাকার ফলে সেখানে সব ধরনের জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে। এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীও সহযোগিতা করছে। তবে আমরা আশা করব, সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারে স্থানীয় সামর্থ্যের বাইরেও প্রয়োজনে বাড়তি পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব করবে না।

 

যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রাঙামাটিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কীভাবে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত রাখা যায়, সে জন্য বিকল্প পথগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। যেসব স্থানে নৌযোগাযোগ সম্ভব সেসব জায়গায় নৌপথে সরবরাহব্যবস্থা এমনভাবে কার্যকর করতে হবে, যাতে সেখানকার জনগোষ্ঠী ও দুর্গত মানুষ কোনো ধরনের সংকটের মধ্য না পড়ে। দুর্গত জনগণকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ও নজরদারির বাইরে রাখা যাবে না।

১৭ জুন, ২০১৭ ২০:২৮ পি.এম