President

 

খুলনা থেকে কয়রা-পাইকগাছা ও সাতক্ষীরাগামী বাসগুলো অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে বাস ছেড়ে আসার পর নগরের গল্লামারী এলাকায় ১৫-২০ মিনিটের বিরতি দেয়। সেখানে যাত্রী ওঠানো হয়। এরপর সেখান থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে জিরো পয়েন্ট এলাকায় আবারও বিরতি দিয়ে যাত্রী ওঠানো হয়। এর মধ্যেই বাসের ছাদে ও ভেতরে যাত্রী ভরে যায়। তারপরও কৈয়া বাজার, ডুমুরিয়া বাজার, খর্নিয়া, কাঁঠালতলা, চুকনগর, আঠারো মাইল এলাকা থেকে আরও যাত্রী তোলা হয়।

 

গতকাল খুলনার জিরো পয়েন্ট, ডুমুরিয়া ও চুকনগর এলাকায় সরেজমিনে বাসের ছাদে ও ভেতরে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে।

 

কৈয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা মৃণাল কুণ্ডু প্রথম আলোকে বলেন, এই মহাসড়কটি এমনিতেই অনেক সরু। তার ওপর অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয়। এতে যাত্রীদের প্রায় সব সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হয়।

 

ডুমুরিয়া বাজার এলাকার যাত্রী হাসান শিকদার বলেন, বছরের বেশির ভাগ সময় এই মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করা কষ্টসাধ্য। তবে এ বছর রাস্তা ভালো আছে। নিয়ম মেনে বাসে লোক তুললে এবং নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেক কমবে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খুলনা থেকে সাতক্ষীরাগামী বাসের একজন চালক বলেন, সাধারণত গরিব ও দিনমজুরেরা ভাড়া কম দিতে চান। এ কারণে তাঁদের ছাদে তোলা হয়।

 

খুলনা জেলা বাস মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মালিক সমিতি ছাদে যাত্রী নেওয়ার পক্ষে না। কিন্তু ছাদে যাত্রী ওঠা থামানো যাচ্ছে না। দূরদূরান্ত থেকে শহরে রিকশা, ভ্যানওয়ালা, ঠেলাওয়ালা ও দিনমজুরেরা আসেন। তাঁরাই মূলত ছাদে ওঠেন। না তুললে বাস ভাঙচুর করেন। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছি।’

 

বিআরটিএ খুলনা সার্কেলের সহকারী পরিচালক এ এস এম কামরুল হাসান বলেন, ‘মাঝে মাঝেই আমরা অভিযান চালাই। আগামী সপ্তাহ থেকে অতিরিক্ত যাত্রী এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে।’

১৬ জুন, ২০১৭ ২০:২১ পি.এম