President

বিএফডিসির মূল ফটকে মানুষের জটলা এখন আর খুব একটা দেখা যায় না। তবে শুক্রবার দিনটি ছিল ভিন্ন। ছুটির দিন, রাস্তা ফাঁকা থাকলেও এফডিসির সামনে সাধারণ মানুষের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। কারণ জানতে হলে মূল ফটক পেরিয়ে যেতে হবে ভেতরে; কিন্তু জটলা পাকিয়ে থাকা মানুষের কাছে জানতে তো আর বাধা নেই। দাঁড়িয়ে থাকা একজনের কাছে প্রশ্ন রাখা হলো- এভাবে কেন তারা দাঁড়িয়ে আছেন? উত্তরে তিনি বলেন, চিত্রনায়ক শাকিব খান, বুবলীসহ অনেক শিল্পী ভেতরে আছেন। চলচ্চিত্রের কারখানা এফডিসির ভেতরে শিল্পীরা থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। তার উত্তরে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। তাই কারণ খুঁজতে, হাঁটা দিলাম বিএফডিসির ভেতরে।

চারপাশের মানুষের আনাগোনাই বলে দিচ্ছে, ভেতরে কিছু একটা হচ্ছে। একটা সময় চোখে পড়ল, ৯ নম্বর ফ্লোরের সামনে শুটিং ইউনিটের অনেক লোক দাঁড়িয়ে আছে। তারা যে যার কাজে ব্যস্ত। কথা বলার সময়ও তাদের নেই। তাই নিজে এগিয়ে গেলাম কী হচ্ছে দেখতে। ফ্লোরের ভেতরে পা রাখতেই দেখি, বিশাল মদের দোকান। লাল, নীল বাতি জ্বলছে। দোকানি বাহারি মদের বেচাকেনা করছে। টেবিলে বসে, অনেকে মদ পান করছে। দেখে মনে হলো, কোনো এক বারে চলে এসেছি। হঠাৎ চোখে পড়ল, টেবিলে বসে আছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। লাল-নীল আলোর ঝলকানিতে তখনও তার মুখটি স্পষ্ট নয়। একটু ভালো করে খেয়াল করার আগেই দেখলাম, একটা মেয়ে রেগে তেড়ে আসছেন। সঙ্গে আছে বেশ ক'জন সঙ্গী। তাকিয়ে দেখলাম, মেয়েটি আর কেউ নন, অভিনেত্রী বুবলী। শাকিবের সামনে দাঁড়িয়ে বেশ রাগারাগি করছেন তিনি। মনে খটকা লাগল, হঠাৎ কেন শাকিবের ওপর চড়াও হলেন বুবলী।

খটকা লাগাটাও স্বাভাবিক। কারণ বেশ কিছুদিন ধরে শাকিব-বুবলীকে নিয়ে লোকমুখে নানা কথা শোনা যাচ্ছে। কিছুদিন আগে তো, তাদের নিয়ে চলচ্চিত্রপাড়ায় রীতিমতো হট্টগোল শুরু হয়েছিল। ভাবতে গিয়ে হঠাৎ নির্মাতার চিৎকার 'কাট' শোনা গেল। এবার বুঝলাম, কোনো ঝগড়া নয়, এটি ছবির শুটিং। পাশে তাকিয়ে দেখি, নির্মাতা উত্তম আকাশ দাঁড়িয়ে আছেন। পুরো বিষয়টি জানতে ছুটে গেলাম তার কাছে। তিনি জানান, আজ (শুক্রবার) থেকে 'চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়্যা' চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু হয়েছে। এটি এ ছবির একটি দৃশ্য। ছবিতে নোয়াখাইল্যা মাইয়্যা কুইনের চরিত্রে অভিনয় করবেন বুবলী। আর তার বিপরীতে চিটাগাইঙ্গা পোয়ার চরিত্রে দেখা যাবে শাকিব খানকে। তিনি বলেন, 'নাম শুনে কিছুটা হলেও বোঝা যায়, ছবিটি কেমন হবে? অনেকে তো নাম শুনেই হেসে খুন। ছবিটি তার চেয়েও অনেক সুন্দর। এখানে যেমন হাসি আছে তেমনই আছে কান্না। পুরো ছবিটি রোমান্টিক কমেডি ঘরানার। আমার বিশ্বাস, ছবিটি দেখে দর্শক হাসি আটকে রাখতে পারবেন না।'
নির্মাতার সঙ্গে কথা বলা শেষে ছুটে গেলাম ছবির হিরো শাকিব খানের কাছে। তিনি বলেন, 'গল্পের প্রয়োজনে একজন অভিনয় শিল্পীকে সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়। ছবিতে আমি চট্টগ্রামের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করছি। যদিও আমি চট্টগ্রামের ছেলে নই। তার পরও চরিত্রের প্রয়োজনে চট্টগ্রামের ভাষা শিখতে হচ্ছে। ইউনিটের সবার কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পাচ্ছি। অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা।' পাশে দাঁড়িয়ে বুবলী। তার মুখের হাসি বলে দিচ্ছে ছবিটি নিয়ে তিনি দারুণ খুশি। তার ভাষ্য, 'ঢাকায় বেড়ে উঠলেও আমি কিন্তু নোয়াখালীর মেয়ে। পরিবারের লোকজনদের কাছে থেকে নোয়াখালীর ভাষা এবং বলার ঢঙ শিখছি। বিষয়টি দারুণ উপভোগ করছি।' ছবিটি প্রযোজনা করছে শাপলা মিডিয়া। সূত্র- সমকাল

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ১৫:০৭ পি.এম