President

ফেসবুক সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিজ নিজ বন্ধুদের বিশেষ বার্তা পাঠাচ্ছেন- সাবধান, বাংলাদেশেও পৌঁছে গেছে ব্লু হোয়েল গেম! এ নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অনেকে কৌতুহল থেকে জানতে চাইছেন পুরো ব্যাপারটি। কেউ কেউ আতঙ্কও ছড়াচ্ছেন। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে সতর্ক অবশ্যই থাকা উচিত। বিশেষ করে উঠতি বয়সীদের দিকে খেয়াল রাখা, ‘দেখি কী হয়’-এর কৌতুহল অনেক সময়ই যাদের নিয়ে যায় ভুল পথে। এ কারণে সচেতনতা বেশি জরুরি। ভুল তথ্য প্রচার বা গুজব রটানো উল্টো এর প্রচারে সাহায্য করবে বেশি। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা ও সতর্কতা দরকার। এসব নিয়ে লিখেছেন- মোহসিনা খান
গেমটি থেকে সাবধান হওয়ার জন্য তরুণদের প্রতি মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিউজসাইটে

সচেতনতামূলক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তরুণদের প্রতি পরামর্শ-
* প্রথমত চাই নিজের সচেতনতা। কেন আপনি অপরের নির্দেশনায় যাকে আপনি কখনো দেখেননি, যার পরিচয় জানেন না তার কথায় কেন নিজের জীবন অকালে বিলিয়ে দেবেন!

* এই রকম কোনো লিংক এলে এড়িয়ে চলা। কৌত‚হলী মন নিয়ে এই গেমটি খেলার চেষ্টা না করায় ভালো। কৌত‚হল থেকে এটি নেশাতে পরিণত হয়। আর নেশাই হয়তো ডেকে আনতে পারে আপনার মৃত্যু।
* এই গেমটি নিজেরা যেমন খেলবেন না, তেমনি কাউকে খেলতেও দেবেন না। কেউ খেলছে জানলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো প্রয়োজন।

কী এই ব্লু হোয়েল গেম?
অনলাইনভিত্তিক একটি গেম। অনলাইনে একটি কমিউনিটি তৈরি করে চলে এ প্রতিযোগিতা। এতে সর্বমোট ৫০ ধাপ রয়েছে। আর ধাপগুলো খেলার জন্য ওই কমিউনিটির অ্যাডমিন বা পরিচালক খেলতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দিবে। আর প্রতিযোগী সে চ্যালেঞ্জ পূরণ করে তার ছবি আপলোড করবে। শুরুতে মোটামুটি সহজ এবং কিছুটা চ্যালেঞ্জিং কাজ দেওয়া হয়। যেমনÑ মধ্য রাতে ভ‚তের সিনেমা দেখা। খুব সকালে ছাদের কিনারা দিয়ে হাঁটা এবং ব্লেড দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা। তবে ধাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কঠিন ও মারাত্মক সব চ্যালেঞ্জ দেয় পরিচালক। যেগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এ খেলার সর্বশেষ ধাপ হলো আত্মহত্যা করা।
কেন তরুণরা আকৃষ্ট হচ্ছে?
সহজ ও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ এবং সাহস আছে কিনা, এমন কথায় সাহস দেখাতে গিয়ে দিনকে দিন যুবক-যুবতীরা আকৃষ্ট হচ্ছে এই গেমে।
সচেতনতা ও সতর্কতায় প্রতিরোধ
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোর-কিশোরীরা কৌত‚হলপ্রবণ এবং ঝুঁকিপ্রিয়। তাই অভিভাবককে এ ধরনের ভায়োলেন্সের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। ব্যতিক্রমী কিছু লক্ষ্য করার সঙ্গে সঙ্গেই পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা বলছেন, মৃত্যুর জন্য কৌত‚হল নয় বরং পৃথিবীটা যে কত বড় সেটি দেখার কৌত‚হল থাকতে হবে। মনোবিদদের পরামর্শ, এ ব্যাপারে সবার আগে সতর্ক হতে হবে অভিভাবকদেরই। সন্তানের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে অভিভাবকদের। ইন্টারনেট ও সোশ্যাল সাইট ব্যবহারে নজরদারি রাখতে হবে। তবে সেটি যেন অতিমাত্রায় না হয়। সন্তান হঠাৎ আনমনা, অসুখী কিংবা একা থাকতে আগ্রহী হলে সতর্ক হওয়ার দরকার। সন্তান কখনো বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া বা মৃত্যুর কথা বললে অবিলম্বে মনোবিদের দ্বারস্থ হতে হবে। সন্তানকে একাকীত্বে ভুগতে দেওয়া চলবে না, প্রয়োজনে আরও বেশি করে সময় দিতে হবে।
এ ছাড় আপনার সন্তানকে মোবাইলে ও কম্পিউটারে অধিক সময়ে একাকী বসে থাকতে দেখতে সে কি করছে তার খোঁজখবর নেওয়া। সন্তানকে কখনো একাকী বেশি সময় থাকতে না দেওয়া। টিনএইজ সন্তান ইন্টারনেট ব্যবহার করে তবে তাদের সতর্ক করুন এই গেম সম্পর্কে। এটি খেলার জন্য যেন কোনো লিংক গ্রহণ না করে সেটি তাদের বলুন এবং গেমের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানান।
সন্তানদের মাঝে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মানসিকতা সৃষ্টি করা। যাতে করে তারা বুঝতে পারে আত্মহত্যা করা বা নিজের শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করা অনেক বড় পাপের কাজ।
আপনার সন্তান ও পরিবারের অন্য কোনো সদস্য মানসিকভাবে বিপর্যস্ত কিনা, সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা। কেউ যদি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়। বেশি বেশি সঙ্গ দেওয়া।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর

১০ অক্টোবর, ২০১৭ ১৭:৫৩ পি.এম