President

পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে অবসর সময়ে ইউটিউবে ভিডিও দেখতাম, বাংলাদেশী ইউটিউবারদের তৈরি ভিডিও গুলো দেখে খুব ইচ্ছে জাগে আমিও ইউটিউবের জন্য ভিডিও তৈরি করবো। ইচ্ছে যখন মাথায় চেপে বসেছে তখন তো সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই লক্ষে আমি ভিডিও এডিটিং শিখতে একটি কোর্সে ভর্তি হতে চেষ্টা করি। কোর্স ফি ৮ হাজার টাকা হওয়ায় ভিডিও এডিটের কোর্সটি করা হয়নি। তবুও থেমে থাকেনি আমার ইউটিউবার হওয়ার স্বপ্ন। রাতের পর রাত মাসের পর মাস নিজেই সেই ইউটিউব থেকেই টিউটরিয়াল দেখেই শিখেছি ভিডিও এডিটিং। এখন যেমনটা আপনারা আমার ভিডিওতে দেখছেন। টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বর্তমান সময়ের তরুণ ইউটিউবার ও প্রাঙ্ক ভাইরাস চ্যানেল এর সিইও ইয়াসিন ইরন্য।

এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস উপলক্ষে তৈরি একটি শর্টফিল্ম প্রাঙ্ক ভাইরাস চ্যানেলে প্রথম ভিডিও হিসেবে আপলোড করা হয়। সপ্তাহ পার হতেই সেই ভিডিওতে হাজার হাজার ভিউ। সেটা দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান ইয়াসিন ইরন্য। যেন স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটছে। তারপর থেকে শত বাঁধা, কষ্ট ও বিড়ম্বনা ঠেকাতে পারেনি নতুন নতুন ভিডিও নির্মাণে। সর্বশেষ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (৯ অক্টোবর) ৩০টির মত ভিডিও আপলোড করা হয়েছে।

 

প্রতিদিনই বাড়ছে ইউটিউব চ্যানেল প্রাঙ্ক ভাইরাসের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা। বর্তমানে চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১৩ হাজার ২৭৮ ও মোট ভিউ সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ৮৩২। প্রাঙ্ক ভাইরাস চ্যানেলে ইয়াসিন ইরন্য ৬জনের একটি টিম নিয়ে কাজ করছে। যাদেরকে নিয়ে স্বপ্নের বহুদূর যেতে চায়। সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ছেন ইয়াসিন ইরন্য, পড়ালেখা ও ভার্সিটির ক্লাসের ফাঁকেই কাজ করছেন ইউটিউব নিয়ে।

ইউটিউব নিয়ে কাজ করতে গিয়ে পরিবারের ভুমিকা কি ছিল এমন প্রশ্নে ইয়াসিন ইরন্য বলেন, আমার ইউটিউবার হবার পিছনে আব্বু -আম্মু দুজনের ভূমিকাই অনেক বেশি। কারণ যখন আর ভিডিও করার মতো কোনো ক্যামেরা ছিল না তখন আব্বু আমাকে একটি ক্যামেরা কিনে দেয়।কাজের বিভিন্ন সময় আমার আব্বু -আম্মু থেকে পরামর্শ নিয়ে থাকি।

চ্যানেলটির নাম কেন প্রাঙ্ক ভাইরাস দেয়া হয়, মূলত দর্শকরা কি ধরনের ভিডিও পাবে এমন প্রশ্নে প্রাঙ্ক ভাইরাস চ্যানেল এর সিইও বলেন, আমার চ্যানেলের নাম প্রাঙ্ক ভাইরাস। কিন্তু আমি কোনো প্রাঙ্ক ভিডিও বানাই না। শর্টফিল্ম, ফানি ভিডিও, ইন্টারভিউ আর সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে কনটেন্ট নির্মাণ করি আমরা। আমাদের টার্গেট প্রাঙ্ক ভাইরাস চ্যানেলের নাম সবাই জানবে, দেখবে সবাই আমাকে কাজগুলো। তবে প্রাঙ্ক নামের কোনো ভাইরাস আমরা ছড়াবো না। এছাড়া আমাকে আমার প্রাঙ্ক ভাইরাস টিম অনেক সাপোর্ট দেয়। আমি যাদের নিয়ে ইউটিউব চ্যানেল চালু করি তারা সবাই এখনও আমার সঙ্গে আছে। সময় সময় সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও ইয়াসিন ইরন্য বলেন, আমি বর্তমানে নতুন ইউটিউবারদের সহযোগিতা করতে চাই। আমি তাদের বলেছি যে কোন সহযোগিতা আমি করবো। প্রয়োজনে আমি তাদের ভিডিও এডিট ও করে দিব।অনেক নতুন ইউটিউবারদের বিভিন্ন সাড়া পাচ্ছি। আমার সাধ্যমত তাদেরকে বিভিন্ন পরামর্শ ও সাহায্য সহযোগিতা করছি। সম্প্রতি চট্টগ্রামে ফ্রি ইউটিউব ওয়ার্কশপের মাধ্যমেও নতুনদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেয়ার চেষ্টা করেছি। এছাড়াও রাজধানীর যাত্রাবাড়ী সহ বিভিন্ন এলাকায় ফ্রি ইউটিউব ওয়ার্কশপের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভবিষ্যতে পরিকল্পনা সম্পর্কে ইয়াসিন বলেন, স্বপ্ন একটাই দেশসেরা ইউটিউবার হবো (ইনশাল্লাহ)। প্রাঙ্ক ভাইরাস নিয়ে অনেকদূর এগিয়ে যেতে চাই; সামনে আরো ভালো ভালো কনটেন্ট নিয়ে হাজির হতে চাই দর্শকদের মাঝে।

প্রাঙ্ক ভাইরাসের ইউটিউব চ্যানেল https://www.youtube.com/PrankVirus
প্রাঙ্ক ভাইরাসের ফেইসবুক পেইজ https://www.facebook.com/virus.prank/


টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর

০৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:৫৬ এ.ম