President

গান শুনতে পছন্দ করেন না এমন কাউকে পাওয়া দুষ্কর। এমনও আছেন গানের কথা ভাল না লাগলেও পছন্দ করেন গানের পেছনে বাজতে থাকা শব্দ যন্ত্রের সুরেলা ধ্বনি। বলা হয়, গান দূর করে অলসতা। গানের আছে মনকে চাঙ্গা করার অদ্ভুত এক ক্ষমতা। এমনকি গান শুনলে কাটিয়ে ওঠা যায় হতাশাও।

এক্ষেত্রে চার্লস ডারউইন উক্তিকে বেশ যুক্ত যুক্তই বলা যায়। তিনি একবার বলেছিলেন, যদি আমার পুনজন্ম হতো তাহলে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার করে হলেও কবিতা পড়ার বা গান শোনার জন্য নিয়ম করতাম।
খুব সম্প্রতি একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, গান শুধু আমাদের শরীর ও মনকেই চাঙ্গা রাখেনা বরং ব্যাথা সামলাতেও সাহায্য করে।
সঙ্গিত আমাদের চিন্তাকে করে আরও বিস্তৃত। যা সরাসরি সৃজনশীলতাকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।
বিশেষ করে ক্লাসিক্যাল সঙ্গিত আমাদের চিন্তার সৃজনশিলতা বাড়ানোর পাশাপাশি যেকোনো সমস্যা সমাধানের দক্ষতাকে বৃদ্ধি করে, এমনই মত দিয়েছে ন্যাদারল্যান্ডস থেকে পরিচালিত একটি গবেষণা ।
গবেষণায় দেখা গেছে, সঙ্গিত শিশুদের মৌখিক, যোগাযোগ, চাক্ষুস দক্ষতার পাশাপাশি তাদের আইকিউ বৃদ্ধির দুর্দান্ত মাধ্যম। সাধারণত যে সব বাচ্চারা বাড়তি কার্যক্রম হিসেবে সঙ্গিত ক্লাসে যোগ দেয় তাদের কোন কিছু বোঝার ক্ষমতা অন্য বাচ্চাদের তুলনায় বেশ সক্রিয়।
সঙ্গীত আমাদের ব্রেইনকে প্রয়োজনীয় ব্যায়ামের সুবিধা দেয়। ফলে স্মৃতিশক্তি থাকে তীক্ষ্ণ ও সজিব। গবেষণায় প্রমাণিত যে, সঙ্গীত হারানো স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলতেও সহায়তা করে। সঙ্গীত ব্রেইনকে উদ্দিপ্ত করতে পারে অনায়াসে। সে সাথে স্নায়ুকে সক্রিয় রাখে।
যারা অবসাদগ্রস্ততায় ও নিদ্রাহীনতায় ভুগেন তাদের জন্য মৃদু সঙ্গীত বেশ উপকারী। রক্তের চলাচলকে স্বাভাবিক রাখতেও গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে পরোক্ষভাবে নিদ্রাহীনতার জন্য গান শোনাটা এক রকম টনিক হিসেবে কাজ করে।
আলো-আধারি পরিবেশের সাথে চলতে থাকা মৃদু সঙ্গীত খাদ্য গ্রহণে মনযোগী করে তুলে বা রুচি বাড়িয়ে দেয়। যা একই সঙ্গে হৃদস্পন্দনকে স্বাভাবিক রাখে এবং হজমে সহায়তা করে। এ কারণে আজকাল রেস্টুরেন্টগুলোতে সচরাচর এমন পরিবেশ রাখা হয়।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর

০৪ অক্টোবর, ২০১৭ ১১:২৪ এ.ম