President

রাজধানীর পাইকারি বাজারে ধীরগতিতে কমছে চালের দাম। তবে খুচরা বাজারে এখনও এর প্রভাব পড়েনি। শনিবার রাজধানীর বাবুবাজার-বাদামতলী ও কারওয়ান বাজারের চালের পাইকারি আড়তে মানভেদে চালের দাম কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা কমেছে। রাজধানীতে ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা চালের পাইকারি দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে মোকামনির্ভর জেলা নওগাঁ, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, শেরপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামে পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারে চালের দাম কমেছে।

রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজারের খুচরা চাল বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম কমায় তাদের বাজারেও চালের খুচরা দাম কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা কমেছে। তবে যেসব এলাকায় চালের দাম কমেছে সেখানকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দাম কমতে শুরু করায় মোকামগুলো চাল সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মিলাররা দাম কমানোর ঘোষণা দিলেও সেটি বেশি দিন ধরে রাখতে চান না। মিলার ও পাইকারদের দাবি, চালের দাম বন্দরে পাঁচ টাকা ও মিল গেটে দুই টাকা কমায় এর প্রভাব ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। তবে ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমার সুফল পেতে আরও দু’একদিন অপেক্ষা করতে হবে।

তাদের দাবি, বেশি দামে কেনা পুরনো মজুদের বিক্রি শেষ হলেই কম দামের কেনা চাল কম দামে বিক্রি শুরু হবে। কারওয়ান বাজারের ‘আল্লাহর দান’ রাইস এজেন্সির মালিক সিদ্দিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মোটা চালের মধ্যে ইরি বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ২০০ টাকায়। আগে ছিল দুই হাজার ৪০০ টাকা। মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৮৫০ টাকায়। আগে ছিল দুই হাজার ৯৫০ টাকা। নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার টাকায়। আগে ছিল তিন হাজার ১০০ টাকা। আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। আগে ছিল দুই হাজার ৬৫০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের ‘রাসেল স্টোরের’ মালিক মনোয়ার হোসেন বলেন, সরু চালের এক বস্তার দাম মোকামে দুই হাজার ৯৫০ টাকা। বস্তাপ্রতি দাম কমেছে দেড়শ’ টাকা। তবে পাইজাম ও ভারতীয় চাল বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৪০০ টাকা বস্তা। পাইকারি বাজারে মোটা চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা। পাইকার মনোয়ার হোসেন বলেন, দু’দিন আগেও প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ৫৫০ টাকায়। এখন বস্তাপ্রতি দেড়শ’ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। এ হিসাবে মোটা চালের দাম কমেছে কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা।

মালিবাগ বাজারের ‘খালেক রাইস এজেন্সির’ মালিক মো. দিদার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, কেজিপ্রতি স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায়। আটাশ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৭ টাকায়। এ চাল গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়। মানভেদে মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকায়। নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৮ টাকায়। শান্তিনগর কাঁচাবাজারে শনিবার স্বর্ণা চাল বিক্রি হয়েছে ৫৬ টাকায়। এছাড়া মিনিকেট ৬০ থেকে ৬২ টাকা, নাজিরশাইল ৬৬ থেকে ৬৮ টাকা ও আটাশ বিক্রি হয়েছে ৫৬ টাকায়।

এদিকে বরিশাল ব্যুরো জানায়, পাইকারি বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় চালের দাম কমতে শুরু করেছে। বরিশাল চাল আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আলম যুগান্তরকে বলেন, গত সপ্তাহে যে চাল বিক্রি হয়েছে ৪৮ টাকায়, সে চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকায়। এছাড়া ৩২ টাকার চাল ৩০ টাকা, ৪৪ টাকার চাল ৪২ টাকা, ৪৯ টাকার চাল ৪৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট টিম গঠন করা হয়েছে। কোনো অবস্থায় চাল নিয়ে কাউকে ষড়যন্ত্র করতে দেয়া হবে না।যুগান্তর

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৯:৫৪ এ.ম