President

নাইট কুইন এর বৈজ্ঞানিক নাম Peniocereus Greggii তবে, প্রায় দুর্লভ ফুল হিসাবে নয় ফুলের চির স্নিগ্ধতাই বলে দেয় সে আসলেই নাইট কুইন। কোন এক রাতে বেথেল হ্যামের ঘোড়ার আস্থাবলে জন্ম হয়েছিল নাইট কুইনের। অন্যভাবে বলতে গেলে অনেক সাধনার পর ফোটাতে হয় নাইট কুইন। সাদা রঙের ফুলের ভিতর ঘিয়ে রঙের আবরণ ও সুমিষ্ট গন্ধ নাইট কুইনকে দিয়েছে রাজকীয় চেহারা। তুমি দুর্বল ফুল, তুমি ফুটবে কখন অপেক্ষা করি মাসের পর মাস। বছরের পর বছর। অনেক সাধনায় তোমার জন্ম ইতিহাস, পাতা থেকে প্রষ্ফুটিত হও এবং সুবাস ছড়াও রাতে, ঝড়েও পড় রাতে, তুমি রাতের রানী তাই দিনের আলো তোমার সহ্য হয়না।


নাইট কুইনের জন্ম বীজ থেকে নয়, পাতা থেকে। নাইট কুইন ফুলের প্রস্ফুটন কাল বর্ষার পর গভীর রাতে। এ জন্য তার নাম রাতের রানী বা নাইট কুইন। রানীর মতো সৌন্দর্য নিয়ে রাতের বেলা এ ফুল ফোটে বলে এর নাম রাতের রানী বা নাইট কুইন বলা হয়। এর কলি বের হয় পাতা থেকে। কুইন অব দ্য নাইট খ্যাত ক্যাক্টাসে ফুলের দেখা মেলে অন্তত ১৫-২০ বছর পর। রোপনের দীর্ঘ বছর অপেক্ষা করতে হয় দুর্লভ এই ফুলের জন্য। গভীর রাতে ফুটে মনমুগ্ধকর সৌন্দর্য আর চারদিকে সুভাস ছড়িয়ে কয়েক ঘন্টার মধ্যে মিলিয়ে যায়। রাতের সাথে রয়েছে নাইট কুইন ফুলের বিশেষ সম্পর্ক। মাত্র এক রাতের জন্যই রানী হয়ে জন্ম ও মৃত্যু বলেই আরো বেশি আকর্ষণীয়। তবে, বেথেল হেম ফুল নামে সারা বিশ্বে পরিচিত এই নাইট কুইন। প্রায় দু’হাজার বছর আগে বেথেলহেম নগরীতে দেখা মেলে রাতের রানী নাইট কুইনের। অনেকের মতে, বিরল এই ক্যাকটাস জাতীয় ফুলের আদিনিবাস আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ অঞ্চল এবং ম্যাক্সিকোতে। এটি একটি দুর্লভ ফুল। অনেকেই বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও দেখা পায়নি নাইট কুইনের। নাইট কুইন নিজেকে আত্মপ্রকাশ ও বিকশিত করে রাতেই এবং সেই রাতের অন্ধকারেই হয় তার জীবনাবসান। পাতার সিরার যেকোন দিক থেকে বের হয় কলি। কলি ফোঁটার ১৫-১৬ দিনের মধ্যেই রুপান্তরিত হয় ফুলে। যে রাতে ফুল ফুঁটবে সেদিন বিকেলেই কলিটি সুন্দর সাঁজে সজ্জিত হয়ে ওঠে। তখন এর দিকে তাকালেই খুব সহজে বোঝা যায় রাতের রানী আসছে। পৃথিবী অন্ধকারে ছেয়ে গেলে আস্তে আস্তে মেলতে শুরু করে নাইট কুইনের কলি। রাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একটি-দুটি করে পাপড়ি মেলতে থাকে। সেই সাথে মিষ্টি সুভাস ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এই সুভাসে তীব্রতা না থাকলেও আছে এক ধরণের মাদকতা। যেকোন মানুষকে মোহিত করার জন্য যথেষ্ঠ। পরিপূর্ণ অন্ধকার যখন রাতকে আনন্দিত করে নাইট কুইন তখন অন্ধকারের বুক চিরে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে মেলে ধরে। রাত যত বাড়তে থাকে তার রূপ-সৌন্দর্য ততই বাড়তে থাকে। পূর্বাকাশে আলোকছটা দেখা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগেই মৃত্যুর ঘন্টা বেজে ওঠে নাইট কুইনের।


অনেক বছর আগের কথা। ১৯৯২ সাল বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক আহসানুল করিমের সহধর্মীনী এবং শরণখোলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম ও সাংবাদিক আবু হানিফ-এর মেঝো বোন মানসুরা খানম চম্পাকে তার এক বান্ধবী লিপি আক্তার নাইট কুইনের দুটি পাতা উপহার দেয়। পাতা দু’টিকে রোপনের পর পাতা থেকে পাতা বাড়তে বাড়তে বাগানের আকার ধারণ করে। তারপর ২০০১ সালে একটি মাত্র পাতা থেকে একটি ফুলের দেখা মেলে। পরবর্তীতে ফুলের সংখ্যা আরো বাড়তে থাকে। এক রাতে ২৫-৩০ টি নাইট কুইনের দেখাও পাওয়া যায়। ২০০৩ সাল, বাগান জুড়ে এক রাতে দেখা মিললো ৪৮টি নাইট কুইনের।

তখন গভীর রাত পর্যন্ত শরণখোলার সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মিলন সহ অনেকেই অপেক্ষা করতে থাকে কখন রাতের রানী নাইট কুইন সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হবে। অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষ। প্রষ্ফুটিত হলো দুটি পাতা থেকে সৃষ্টি হওয়া ৪৮টি নাইট কুইন। সকলে ছবি তোলায় ব্যস্ত। তারপর পত্রিকায় প্রকাশ। নাইট কুইন ফুলের স্বত্ত্বাধিকারী বর্তমানে বাগেরহাট মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মানসুরা খানম চম্পা দাবী করে বলেন, আমার বাগানে একই রাতে ফোঁটা ৪৮টি নাইট কুইন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড। রাতে এসে রাতেই চলে যাওয়া সেই কাঙ্খিত নাইট কুইন গাছ, পাতা এখন আর তার বাগানে নেই। শরণখোলার কিছু ফুলপ্রেমি চোরা এবং চুন্নিরা সকলের অগোচরে একটি-দুটি করে পাতা নিতে নিতে তার বাগানের রাতের রানী বছর খানেকের মধ্যে সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে গেল। তবে, জানা মতে, যে সকল চোরা ও চুন্নিরা তৎকালীন সময়ে রাতের রানীর পাতাকে না বলে নিয়ে রোপন করেছিল তাদের কারো ভাগ্যেই আজও পর্যন্ত নাইট কুইন অর্থাৎ রাতের রানী কষ্টে, ক্ষোভে, রাগে কিংবা অভিমানে দেখা দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দিবে কিনা সন্দেহ।


টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর/এইচ কে

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৯:২৬ পি.এম