President

ফরিদপুরের সদরপুরে প্রাথমিক প্রকাশ্যেই শিক্ষকদ্বারা ঘর ভাড়া নিয়ে চলছে রমরমা কোচিং বানিজ্য। সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে কোচিং বানিজ্য চললেও দেখার কেহ নেই।
অবৈধ কোচিং বানিজ্যের ফাঁদের পরে অসহায় হয়ে পড়েছে এখনকার দরিদ্র অভিভাবকরা। প্রায় ৬মাস যাবত সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের নতুন সাহেবেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোখলেসুর রহমান নিজেই গড়ে তুলেছেন অবৈধ কোচিং সেন্টার।
সরজমিনে গিয়ে দেখাযায়, স্কুলের সামনে একটি টিনসেট ঘর নির্মান করা হয়েছে। ঘরটির মধ্যে ৫৫জন পঞ্চম শ্রেনির ছাত্র ছাত্রীদের একটি ব্যাচ করে কোচিং করানো হচ্ছে। আশপাশের কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও রয়েছে ওই কোচিং সেন্টারে। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর নিজ প্রতিষ্ঠানের। বিদ্যালয়ের ছুটি শেষ হতে না হতেই শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে হচ্ছে কোচিং সেন্টারে। কোচিং এ আসা একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানাযায়, তারা বিদ্যালয়ের প্রতিটি বিষয়ের উপর কোচিং করছে। ৫ম শ্রেনির শিক্ষার্থীদের বৃত্তির জন্যে অতিরিক্ত পড়াশোনার নাম করে তিনি অভিনব পদ্ধতি হাতিয়ে নিচ্ছেন অসহায় শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নিকট থেকে ৫শ থেকে ৮শ টাকা বলেও অভিযোগ রয়েছে। ৫৫জন শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫হাজার টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। কোচিং এর মধ্যে ও বিভিন্ন পরীক্ষার অযুহাত দেখিয়েও উত্তোলন করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
প্রাইভেট বা কোচিং পড়ানো সরকারি ভাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিধি নিষেধ থাকলেও সে আইনের তোয়াক্কা না করেই অবৈধ ভাবে চালাচ্ছেন কোচিং সেন্টার প্রধান শিক্ষক।
আরও দেখাযায়, প্রতিদিন বিদ্যালয় ছুটি হচ্ছে নিদিষ্ট সময়ের আগেই। প্রধান শিক্ষকের বেপরোয়া কোচিং বানিজ্যের কাছে অন্যান্য শিক্ষকরা ও বিদ্যালয়ে সঠিকভাবে পাঠদান করতে ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আরও জানাযায়, ৫ম শ্রেনির শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হয় কোচিং করার জন্যে। নাম প্রকাশে একাধিক অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ে সঠিকভাবে পড়াশোনা করানো হলে প্রাইভেট বা কোচিং এর কোনো প্রয়োজন হতে না। বিদ্যালয়ের পাশাপাশি এখন প্রতিমাসেই দিতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোচিং নিষিদ্ধ ওই পরিপত্রে ভিত্তিতে আরও জানাযায়, সরকারি ভাবে কোনো শিক্ষক তাঁর নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে বা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। এমনকি শিক্ষকেরা বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারেও পড়াতে পারবেন না। তবে দিনে অন্য প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ১০ শিক্ষার্থীকে নিজ বাসায় পড়াতে পারবেন। সরকার-নির্ধারিত টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরই পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাস করানো যাবে।
এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং-বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ চূড়ান্ত করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে নীতিমালা লঙ্ঘন করলে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে অসদাচরণের দায়ে সরকারের শৃঙ্খলা ও আপিল বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিধান রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী অভিভাবকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে মহানগর এলাকায় অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এক বিষয়ের জন্য ৩০০ টাকা, জেলা শহরে ২০০ টাকা এবং উপজেলাসহ অন্যান্য এলাকায় ১৫০ টাকা করে রসিদের মাধ্যমে নেওয়া যাবে। এই টাকা প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিয়ন্ত্রণে একটি আলাদা তহবিলের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানের পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সহায়ক কর্মচারীর ব্যয় বাবদ ১০ শতাংশ টাকা কেটে রেখে বাকি টাকা অতিরিক্ত ক্লাসে নিয়োজিত শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। কোনোক্রমেই এই টাকা অন্য খাতে ব্যয় করা যাবে না। নিয়মিত কর্মঘণ্টার আগে বা পরে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া হবে বলে আনুষঙ্গিক খরচের ১০ শতাংশ কেটে রাখা হবে। অতিরিক্ত ক্লাসের ক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ে মাসে কমপক্ষে ১২টি ক্লাস নিতে হবে। কোনোভাবেই এর কম নেওয়া যাবে না, প্রয়োজনে বেশি ক্লাস নেওয়া যাবে।
নীতি অনুযায়ী অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে নিজ বাসায় পড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি লাগবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে লিখিতভাবে ছাত্র-ছাত্রীর তালিকা, রোল ও শ্রেণী উল্লেখ করে দিতে হবে।
কোনো শিক্ষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কোনো কোচিং সেন্টারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারবেন না। তাঁরা শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে উৎসাহিত বা বাধ্য করতে পারবেন না। এমনকি এ বিষয়ে কোনো প্রচার চালাতে পারবেন না।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি কোচিং-বাণিজ্য রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং-বাণিজ্য বন্ধে প্রয়োজনীয় প্রচার এবং অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এ ছাড়া কোচিং-বাণিজ্য বন্ধে প্রণীত নীতিমালার প্রয়োগ এবং এ ধরনের কাজ নিরুৎসাহিত করার জন্য সরকার সচেতনতা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নীতিমালা না মানলে শাস্তি: এমপিওভুক্ত শিক্ষক কোচিং-বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তাঁর এমপিও স্থগিত বা বাতিল হবে। ওই শিক্ষককে সাময়িক বা চূড়ান্ত বরখাস্ত করারও নির্দেশনাও রয়েছে।
কোচিং-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে সরকার পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দেওয়াসহ প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি বা অধিভুক্তি বাতিল করতে পারবে।
সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক কোচিং-বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তা পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং সে জন্য তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা আপিল বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
নীতিমালা মানা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলাদা তদারক কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে বিভাগীয় শহরে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে তদারক কমিটি কাজ করবে। এসব কমিটিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোখলেসুর রহমান জানান, আমি কোচিং করছি এতে দোষের কি আছে।
ওই অঞ্চলের ক্লাস্টার রথীন্দ্র নাথ জানান, এই ব্যাপারটি আমি না শুধু আমাদের ডিপিও পর্যন্ত জানে বলে তিনি জানান।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মালেক মিয়া জানান, স্কুলের পর যদি কেহ কোচিং করে সেখানে আমরা কি করতে পারি। সারাদেশেই এ অবস্থা বলে তিনি এড়িয়ে যান।

ছবি সংযুক্তঃ ফরিদপুরের সদরপুরে নতুন সাহেবেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কোচিং বানিজ্য।


টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর/এইচ কে

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৮:০০ পি.এম