President

একের পর এক মানুষ হত্যা করতে করতে ঢাকা খুলা মহাসড়কে মানুষ মারার কল হিসেবে ক্ষ্যাতি পেয়েছে সেবা গ্রীন লাইন পরিবহন। সেবা গ্রীন লাইন এক আতঙ্কের নামে পরিণত হয়েছে। যাত্রীসেবার নামে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে এ গাড়িটি। সবার এখন একটাই প্রশ্ন সেবা গ্রীন লাইন আর কত জীবন এভাবে অকালে কেড়ে নিবে?
গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর নামক স্থানে যাত্রীবাহী কোচ সেবা গ্রীন লাইন ও সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ ৬ জন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পত্র পত্রিকায় ৬ জন নিহত হওয়ার খবর গ্রকাশিত হলেও নিহতের সংখ্যা ১২ জন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। একই দিন এ পরিবহনটি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের দাসের হাট নামক স্থানে আরেকটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটায়। সেখানে নিহত না হলেও আহত হন বেশ কয়েকজন। এর আগে ২৯ জুন ঈদুল ফিতরের সময় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর গেড়াখোলার পঞ্চবটিতে সেবা গ্রীন লাইনের ধাক্কায় মারা যান মাইক্রোবাসের যাত্রী বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী হালিম আকন (৪৩), তাঁর স্ত্রী আসমা বানু (৩৫), ছেলে শিহাব (৮) ও সুজন (১৭) এবং শ্যালক বাদল হাওলাদার (৩২)। বেপরোয়া গতির বাসটির মধ্যে ঢুকে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়াও ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর ফরিদপুরের নগরকান্দায় গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সেবা গ্রীন লাইন পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে দুই বাসযাত্রী নিহত ও ২৫যাত্রী আহত হয়। ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকাগামী সেবা গ্রীন লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া সড়কের মালেকের বাজারে রাস্তা পারাপারে সময় এক মাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে নিহত হন তিনি। তার কোলে থাকা সাত মাসের শিশুকন্যা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা ওই শিশু কন্যাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের চন্ডিবরদী ব্রিজের কাছে শাজাহান ভূঁইয়া নামে এক মোটরসাইকেল চালক তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে একটি পার্শ্ব রাস্তা থেকে মহাসড়কে ওঠার সময় গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সেবা গ্রীন লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মোট্রো ব-১৪-৮৮৮৭) তাদেরকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল চালক শাজাহান ভূঁইয়া (৩৫) নিহত হন। অপর আরোহী তাঁর স্ত্রী বৈশাখীকে আহত অবস্থায় মুকসুদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে পিরোজপুরে সেবা গ্রীন লাইন (নং ব-১১-৬০৩৭) ও লোকাল সার্ভিস আল্লার দান দুটো গাড়ীই রং সাইড দিয়ে চলাচল করায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় থানা থেকে প্রায় এক কিঃমিঃ দূরে কালিগঙ্গা নদীর সেতুর উত্তর প্রান্তে দোলা কাউন্টারের কাছে। এসময় আল্লার দান গাড়ীর ৮ থেকে ১০ জন যাত্রী আহত হন। এ ঘটনায় চালক গোপালগঞ্জের সেলিম সিকদারকে আটক করে চালান দেয় আদালতে। শুধু এগুলোই নয়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মহাসড়কে গত দুই বছরে অসংখ্য সড়ক দুর্ঘটনার হোতা সেবা গ্রীণ লাইনের বাস। ওই পরিবহনের চালকদের বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বহুত। বেপরোয়া গতি, বাস চালুরত অবস্থায় চালকদের মোবাইলে গেমস খেলা, আর দুর্ঘটনার কারণে সেবা গ্রীন লাইন মহাসড়কের ‘দানব’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।


অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোন বাসকে টপকাবে, কার আগে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাবে এ নিয়ে রাতদুপুরেও চলে সেবা গ্রীণ লাইনের প্রতিযোগিতার খেয়ালিপনা। শুধু গাড়িতে থাকা যাত্রীরাই নন, এই প্রতিযোগিতার কাছে অসহায় সড়কপথে চলাচলকারী ছোট যানবাহন ও পথচারীরাও। মুকসুদপুর সরকারি কলেজের অধ্যাপক মাহবুব হাসান তার ফেসবুকে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, সেবা গ্রীন লাইন পরিবহনের গাড়ি মাসে পাঁচ ছয়বার এ্যাকসিডেন্ট করে। গাড়ির ড্রাইভাররা এত বেশী গতিতে চালান যে তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। বাজে অবস্থা। মনে হয় ড্রাইভারেরা গাড়ি চালন না, ভিডিও গেমস খেলেন। সেবা গ্রীন লাইন পরিবহন একটি নিয়ন্ত্রণহীন কোম্পানী। সাকিব হুসাইন নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, সেবা গ্রীন লাইন নমাক খুনি বাস এবং বাস মালিকের ফাঁসি এবং সেবা গ্রীন লাইনের সমস্ত বাসের রোড পারমিশন বাতিল করা হোক। সেবা গ্রীন লাইনের মালিক একজন খুনি তার বাসের কারনে কয়েকদিন আগেও মাজড়া গ্রামে এক মর্মান্তিক একসিডেন্ট ঘটায়। সেখানে ৫ থেকে ৭ জন এবং আজকেও ৬ জন মানুষের তাজা প্রাণ কেড়ে নিলো। আর কত লাশ দেখাবে সেবা গ্রীন লাইন। রাস্তায় যত গুলা দুর্ঘাটনা ঘটে এর প্রায় সব কয়টাই সেবা গ্রীন লাইন ঘটায়। গোপালগঞ্জের এক আতংকের নামই হচ্ছে সেবা গ্রীন লাইন। এরা মানুষকে মানুষ বলে মনে করেনা। আমার মনে হয় সেবা গ্রীন লাইনের সাথে যারা জড়িত তারাই শুধু মানুষ। এদের ভুলের মাসুল গুনতে হয় আমাদের মত সাধারণ মানুষদের। আমি সেই মানুষদের মাঝ থেকে বলতে চাই সেবা গ্রীন লাইন নামক খুনি বাসকে এবং সেবা গ্রীন লাইনের সকল কিছুকে বন্ধ করে দেওয়া হোক। এবং আমরা সবাই একটা শপথ করি যে সেবা গ্রীন লাইন নামাক খুনি বাসে আর উঠবো না।


টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর/এইচ কে

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৬:৩১ পি.এম