President

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) মুঠোফোনভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার দাম কত হওয়া উচিত তা নির্ধারণ করতে যে কস্ট মডেলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা একটা দরকারি পদক্ষেপ। এযাবৎ কস্ট মডেলিং ছাড়াই মুঠোফোনভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার গ্রাহকদের কাছ থেকে যে অর্থ আদায় করা হচ্ছে, তা যুক্তিসংগত নয় বলে জনমত রয়েছে।

 

বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ দেশে এখন ৬ কোটি ৭২ লাখ মানুষ মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। বিভিন্ন অপারেটর ৩০ দিন মেয়াদের ১ গিগাবাইট ইন্টারনেট প্যাকেজের জন্য ১৮০ টাকা থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে। তা ছাড়া প্রতি ১০০ টাকার ইন্টারনেট সেবা কিনতে গ্রাহককে প্রায় ২২ টাকা কর দিতে হয়। ইন্টারনেটের এই মূল্যহার কিসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে তা বোধগম্য নয়। কস্ট মডেলিংয়ের পরে বোঝা যাবে এই মূল্যহার কতটা যৌক্তিক বা অযৌক্তিক। সে জন্য কস্ট মডেলিং করা দরকার।

 

সংবাদমাধ্যম বলছে, কস্ট মডেলিংয়ের সিদ্ধান্তকে মুঠোফোন অপারেটরগুলো স্বাগত জানিয়েছে। আবার একই সঙ্গে তারা বলছে, বর্তমানের চেয়ে কম দামে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। তাদের এই পূর্বসিদ্ধান্ত কস্ট মডেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারা বলে থাকে, বাংলাদেশে মুঠোফোনভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার দাম এখন সারা বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্থানে। কিন্তু হিসাব করা উচিত আমাদের গ্রাহকসংখ্যা ও তাঁদের আর্থিক সংগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। ইন্টারনেট এখন অতি জরুরি যোগাযোগমাধ্যম। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ইন্টারনেট এখন অপরিহার্য। তা ছাড়া দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করতে হলে স্বল্প খরচে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা উচিত।

 

মুঠোফোনভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার মূল্য সম্পর্কে গ্রাহকদের অভিযোগ এতকাল কর্ণপাত করা হয়নি। আমরা আশা করব, বিটিআরসির কস্ট মডেলিংয়ের পর নতুন করে মূল্য নির্ধারণে গ্রাহক সাধারণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আরও যে বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে তা হলো মুঠোফোনভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার গুণগত মান। মুঠোফোনভিত্তিক ইন্টারনেটের গতি প্রত্যাশার তুলনায় কম এবং সব সময় একধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করে। নিম্নগতির কারণে গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সময়েরও ক্ষতি হয়। নিম্নগতি সম্পর্কে গ্রাহকদের অভিযোগ তেমন আমলে নেওয়া হয় না।

 

বিটিআরসির উচিত, ইন্টারনেটের যুক্তিসংগত মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুতগতি নিশ্চিত করতে মুঠোফোন অপারেটরগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

১৬ এপ্রিল, ২০১৭ ২৩:১৪ পি.এম