President

মিয়ানমারে অব্যাহত বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মাত্রাতিরিক্ত রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত বিচরণ ঠেকাতে উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ছাড়াও নতুন এবং পুরাতন সবাইকে ডাটাবেজের আওতায় আনতে রোববার থেকে কাজ শুরু হচ্ছে।

পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণ নিয়ে সড়কে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ইচ্ছেমতো ত্রাণ সহায়তাও নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গা নিয়ন্ত্রণে খোলা জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) খালেদ মাহমুদ শনিবার বিকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

গত দু'সপ্তাহে নতুন করে ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে পাহাড়, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশে অবস্থান নিয়েছে। পালিয়ে আসাদের মাঝে বিদেশে স্বজন থাকা ভাড়া বাসায় অবস্থান নিয়ে নিজেদের মতোই অন্ন সংস্থান করছেন।

রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় ত্রাণ নিয়ে যে যার মতো সীমান্তে যাচ্ছে। চলন্ত গাড়ি কিংবা অঘোষিত কোনো এক জায়গায় হঠাৎ ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

কিন্তু ক্যাম্প এলাকায় ও পাহাড়ের চূড়া এবং ঢালুতে অবস্থানকারীদের মাঝে চলছে খাবার ও পানীয় জলের জন্য হাহাকার। ক্ষুধার জ্বালায় অনেক রোহিঙ্গা খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে বিচরণ শুরু করেছে।

ফলে মাত্রাতিরিক্ত রোহিঙ্গার অনিয়ন্ত্রিত বিচরণ ঠেকাতে এই উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদ বলেন,একসঙ্গে অতিরিক্ত লোক সীমান্ত অতিক্রম করায় সবদিক সামলানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে আগত রোহিঙ্গাদের আঙ্গুলের ছাপ ও ছবিসম্বলিত ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্তের পর আজকালের মধ্যেই এ কাজ শুরু করা হবে।

এটি সম্ভব হলে রোহিঙ্গাদের জীবনমান নিয়ন্ত্রণে সার্বিক সহযোগিতা বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

এছাড়া জেলা প্রশাসনের ৫ জন সহকারী কমিশনার দিয়ে টেকনাফ সড়কের কয়েক জায়গায় বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) খালেদ মাহমুদ।

তিনি বলেন,তাদের কাজ হবে রোহিঙ্গা বিচরণ নিয়ন্ত্রণ করা। এ চেকপোস্ট ইচ্ছেমতো নিয়ে যাওয়া ত্রাণও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিতভাবে বিতরণ করার উদ্যোগ নেবে।

তবে,বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাদের জন্য এ কাজ হঠাৎ করে করা একটু কষ্টসাধ্য হবে। তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা সবার উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অপরদিকে, ছন্নছাড়া জীবনের কারণে সবদিক দিয়ে ভোগান্তির অবস্থা বুঝতে পেরে বিভিন্ন ক্যাম্প ও বস্তিতে এবং পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গারা নিজেরাই তাদের তালিকা করা শুরু করেছে। তালিকায় পরিবার প্রধান ও তাদের সদস্য সংখ্যালিপি করা হচ্ছে।

পুরো রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিচালনা কমিটির আদলে কমিটি করে একজন চেয়ারম্যান ও ১০ জন সদস্য করে সবাই একত্র হয়ে কাজ করছে।

বালুখালী, পালংখালি, কুতুপালং ও ঘুমধুমে যে যার অবস্থান থেকে তালিকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বালুখালী ক্যাম্পের মাঝি ছিদ্দিক।

তিনি বলেন, এ তালিকা বাংলাদেশের প্রশাসনের জন্যও সহায়ক হবে। আশ্রয় পেয়েছি, এটাই আমাদের জন্য অনেক। আশ্রিত দেশে তালিকাভুক্ত হয়ে থাকার মাঝে অনেক ধরনের উপকার আছে।

উল্লেখ্য, ২৫ আগস্টের পর থেকে টেকনাফের উনচিপ্রাং থেকে বালুখালী পাহাড় থেকে কুতুপালং রেজিস্টার ক্যাম্প ২০-২৫ কিলোমিটার এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর/এইচ কে

 

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২১:০৯ পি.এম