President

 সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির নামে অনুমোদন ছাড়া জাল সনদ ও মার্কশিট প্রদানের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। কারাগারে যাওয়া চারজন হচ্ছেন –মোহাম্মদ ওসমান, সেলিম উদ্দিন, মিনহাজুর রহমান এবং আহমদ গোলাম সরওয়ার।

গতকাল সোমবার চট্ট্রগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেম মোহাম্মদ নোমান তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আদালতে জামিন শুনানিকালে সাদার্ন ইউনিভার্সিটির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম চৌধুরী।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন ছাড়া সাদার্ন ইউনিভার্সিটির নাম ব্যবহার করে জাল সনদ ও মার্কশিট দেওয়ার অভিযোগে গত ৫ জানুয়ারি আদালতে মামলা হয়েছিল। সাদার্ন ইউনিভার্সিটির পক্ষে তাদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কবির মোহাম্মদ আশরাফউল্লাহ বাদি হয়ে দ-বিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০, ৪৬৯ ধারায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিলেন। এ ছয়জনের মধ্যে উল্লেখিত চারজন ছাড়া বাকি দুইজন হচ্ছেন, মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন ও রেজাউল আলম। এ দুইজন গতকাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

মামলা দায়েরের পর আদালত মামলাটি গ্রহণ করে ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। অভিযুক্তরা হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের জামিন নেন। জামিনের মেয়াদ শেষে উল্লেখিত চারজন গতকাল মহানগর হাকিম আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানান। এ নিয়ে উভয়পক্ষে বিস্তারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হয় আদালতে। পরে বিচারক তাদের জামিনের আবেদন ফিরিয়ে দিয়ে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার আরজিতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, সাদার্ন ইউনির্ভাসিটির অনুমোদিত ক্যাম্পাস (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক) হচ্ছে তিনটি। তিনটিই মেহেদীবাগ এলাকায়। এ ইউনির্ভাসিটির কার্যক্রম তিন ক্যাম্পাসকে ঘিরেই আবর্তিত বলে আরজিতে বলা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, আসামিরা কুড়িগ্রামের পুরাতন হাসপাতাল পাড়া এলাকায় অবৈধভাবে ক্যাম্পাস পরিচালনা করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে লাখ লাখ টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন।

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০১৪ সালে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল এ সংক্রান্তে রায় ও আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও মঞ্জুরি কমিশনকে হাইকোর্টের আদেশ পাওয়ার একমাসের মধ্যে আসামিদের প্রতিষ্ঠিত ক্যাম্পাসগুলো বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশনা দেন। মামলার আরজিতে ২৫ জনকে জাল শিক্ষা সনদ বিতরণ করার বিষয়টি শনাক্ত করা হয় সাদার্ন ইউনিভার্সিটির তরফে। মামলার আরজিতে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, রেজিস্ট্রার মমতাজুল ইসলাম চৌধুরী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল নুরকে।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এ আর/এস আর/এইচ কে

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২১:৫৫ পি.এম