ক্রীড়া ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার তিনি। দল অনেকাংশেই নির্ভর করে তার ওপর।
কিছুদিন আগেই বলেছিলেন, এখন আর নিজের রেকর্ড নিয়ে ভাবেন না; ভাবেন শুধু দলের জন্য। কিন্তু চলতি নিউজিল্যান্ড সফরে অনুজ্জল সাকিব আল হাসান। ব্যাটে কিংবা বলে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি তিনি। পরপর দুটি সিরিজে দল হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। মাশরাফির কণ্ঠে বারবার উচ্চারিত হয়েছে একটা দল হয়ে খেলতে না পারার আক্ষেপ। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন সাকিব।

কিউইদের বিপক্ষে তার পারফর্মেন্সে অবাক হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরাই। কেউ কেউ বলেই বসছেন, সাকিবের কিছু করা উচিৎ ছিল। তিন ওয়ানডেতে তার রান যথাক্রম ৫৯, ৭ এবং ৫৫। প্রথম ওয়ানডেতে ৫৯ রানে ৩ উইকেট, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৪৫ রানে ২ উইকেট এবং শেষ ওয়ানডতে ৫৫ রান দিয়ে উইকেটশুন্য থেকেছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি সিরিজের রেকর্ড আরও করুণ। নেপিয়ারের প্রথম ম্যাচে ৩০ রানে ১ উইকেট, দ্বিতীয় ম্যাচে ৩২ রানে ১ উইকেট এবং শেষ ম্যাচে ২২ রান দিয়ে উইকেটশুন্য সাকিব। রান করেছেন যথাক্রমে ১৪, ১ এবং ৪১। সেইসঙ্গে রয়েছে ক্যাচ মিসের আক্ষেপ। এমন পারফর্মেন্সের পর কোনো অজুহাত না দেখিয়ে আত্মসমালোচনাই করলেন সাকিব।

সাকিবের ভাষায়, “উইকেট ব্যাটিং সহায়ক ছিল। আরও অনেক বেশি রান করা উচিৎ ছিল। সে দিক থেকে কিছুটা হলেও আমি হতাশ। আসলে যেটা হয়, যখন উইকেট টানা পড়তে থাকে তখন মোমেন্টাম আসাটা খুব মুশকিল হয়ে যায়। ওটাই আমাদের সমস্যা ছিল। “

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সীমানার কাছ থেকে প্রায় উড়ে গিয়ে নেইল ব্রুমের দারুণ একটা ক্যাচ নিয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু তৃতীয় এবং শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খুব দৃষ্টিকটুভাবে মাশরাফির বলে কেন উইলিয়ামসনের ক্যাচ ছেড়েছেন তিনি। এক ওভার পরেই আবারও মাশরাফির বলে ক্যাচ ছেড়েছেন তার প্রিয়বন্ধু বলে পরিচিত তামিম ইকবাল। এই উইলিয়ামসন আর অ্যান্ডারসনের ১২৪ রানের জুটিতেই গতকাল রানের পাহাড় গড়ে কিউইরা। এখানেও কোনো অজুহাত দেখালেন না সাকিব।

ব্যার্থতা স্বীকার করে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বললেন, “আমরা প্রায় এক মাস ধরে এখানে আছি। তাই কন্ডিশনের অজুহাত দিয়ে লাভ নেই। তামিমের ক্যাচটা কিছুটা হলেও কঠিন ছিল। কিন্তু আমারটা অনেক সহজ ক্যাচ ছিল। ফিল্ডিং এমন একটি ব্যাপার যা পুরো দলের চেহারা ফুটিয়ে তুলতে পারে। ওদের আর আমাদের ফিল্ডিং দেখলেই বুঝতে পারবেন এই সিরিজে এখানটায় কতটা পার্থক্য ছিল। “

ব্যাটে-বলে এমনকী ফিল্ডিংয়েও সেই ছন্নছাড়া বাংলাদেশকে দেখা গেছে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে। সামনে টেস্ট সিরিজ। সেখানে দলের জন্য কিছু করে একটা ইতিহাস তৈরি করার আশার বানী শোনালেন সাকিব। কিন্তু সেজন্য মাঠে পারফর্মেন্স করতে হবে। শেষ হওয়া দুই সিরিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে শুধুই এগিয়ে যেতে চান সাকিব। বিশ্বসেরার তকমা যার গায়ে, তাকে তো এগিয়ে যেতেই হবে।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/আশা/হায়াত/ ৯ ই জানুয়ারী, ২০১৭