গত কয়েক বছরে চাল, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্যের উত্পাদনে বাংলাদেশ অসাধারণ উন্নতি লাভ করেছে এবং এর মাধ্যমে ২০০৯-১০ সাল থেকে ছয় বছরে দেশ খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২০০৯-১০ অর্থ বছরে খাদ্যশস্যের উত্পাদন ছিল ৩৪৫ দশমিক ৯৬ লাখ টন, যা ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯০ লাখ টনে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ছয় বছরে চালের উত্পাদন ৩২২ দশমিক ৫৭ লাখ টন থেকে বেড়ে ৩৫০ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে গমের উত্পাদন ৯ দশমিক ৬৯ লাখ টন থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ টনে। আর ভুট্টার উত্পাদন ১৩ দশমিক ৭০ লাখ টন থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫ লাখ টন।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা খাদ্যশস্যের উত্পাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পুর্ণতা অর্জন করেছি এবং গত এক দশকে সবজির উত্পাদন পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছ, সবজির উত্পাদনে যদি এই হার অব্যহত থাকে তবে দেশ সবজি উত্পাদনে দশ বছরের মধ্যেই স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাত যদিও নানান সমস্যার সম্মুখীন, কিন্‘ বৈশ্বিক শস্য উত্পাদনের হার অনুযায়ী আমাদের প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান বলেন, নীতিগত সহায়তা, কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণের সরবরাহ এবং কৃষি ঋণ খাদ্যশস্যের ফলন বাড়াতে সহায়তা করেছে। বিভিন্ন শস্যের নতুন জাতের উদ্ভাবন এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার খাদ্যশস্যের উত্পাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্স কাউন্সিল (বিএআরসি) এর সাবেক সদস্য ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুধুমাত্র খাদ্যশস্য নয়, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ ও মত্স্য উত্পাদনের ক্ষেত্রেও ২০০৯-১০, ২০১০-১১, ২০১১-১২ বছরে গড়ে পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, মূল্য ও ভর্তুকি সহায়তা খামারের উত্পাদনে পরিবর্তন আনতে সাহায্য করেছে।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/আশা/নীরব/এস আর/ ২৬ ডিসেম্বর,২০১৬