গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: ৩ জেলায় ধান গবেষণা ইনষ্টিউিট উদ্ভাবিত ব্রি হাইব্রিড ৩ ধান ট্রায়েলে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। প্রতি হেক্টরে এ জাতের ধান ৯.৯২ মেঃ টন উৎপাদিত হয়েছে।

শনিবার গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার ছিকটিবাড়ী গ্রামের কৃষক সমীর বাড়ৈর ক্ষেতে উৎপাদিত ব্রি হাইব্রিড ৩ ধান কেটে পরিমাপ করে কৃষি বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানান।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হরলাল মধু প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

ছিকটিবাড়ী গ্রামের কৃষক ওলিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে, কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস, ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউটের উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইখতেখার মাহামুদ আকন্দ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃত্তিবাস পান্ডে, কৃষক সন্তোষ বাড়ৈ, কৃটি রায় সহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।

চলতি বোরো মৌসুমে পিরোজপুর-গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ধানগবেষণা ইনষ্টিউটি পিরোজপুর-গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট জেলার ৭ বিঘা জমিতে ব্রি হাইব্রিড ৩ ধানের প্রদর্শনী প্লট করে।

ছিকটীবাড়ী গ্রামের কৃষক সমীর বাড়ৈ বলেন, বাজারে প্রচলিত হাইব্রিডের তুলায় ব্রি হাইব্রিড ৩ জাতের ফলন বেশি। আগে পাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ধান কাটা যায়। রোগবালাই নেই। ধান ঝড়ে পড়া ও চিটা হওয়ার প্রবনতা কম। তাই এ ধানের আবাদে লাভ বেশি।

ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউটের উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইখতেখার মাহামুদ আকন্দ বলেন, এটি আমাদের দেশে উদ্ভাবিত হাইব্রিড ধান বীজ। তাই এ ধান পরিবেশের সাথে খাপখাইয়ে অধিক ফলন দিতে সক্ষম। ৩ জেলার কৃষক এ ধান আবাদ করে লাভবান হয়েছেন। এ ধানের বীজ সহজলভ্য । প্রতি কেজি ধান বীজ কৃষক ১শ’ টাকা দরে কিনতে পারেন। পক্ষান্তরে চীন থেকে আমদানী কৃত হাইব্রীড ধানবীজ প্রতি কেজি ২শ’ থেকে ২শ’৫০ টাকা দরে বাজারে বিক্রি হয়।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারনের ডিডি সমীর কুমার গোস্বামী বলেন, গোপালগঞ্জ নিম্নজলাভূমি বেষ্টিত জেলা। এ জেলায় হাইব্রিড ধানের আবাদ বেশি হয়। ব্রি উদ্ভাবিত হাইব্রিড ধানের ফলন এ বছর ট্রায়েলে ভালো হয়েছে। আগামীতে এ জাতের ধানের আবাদ করে কৃষক লাভবান হবেন। গোপালগঞ্জে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিপাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/নীরব/এ আর/হায়াত/২৯ এপ্রিল ২০১৭